ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অ্যাসোসিয়েশনের স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎ


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অ্যাসোসিয়েশনের স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অ্যাসোসিয়েশনের স্বর্ণপদকজয়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীসহ প্রতিনিধিদলের সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে তিনি গর্ব প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল মেধার বিকাশে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বিজয়ী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি তাদের পড়াশোনা, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল উদ্যোগে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।

প্রতিনিধিদল আগামী ২ থেকে ৮ আগস্ট কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিতব্য এআই ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন এবং এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকজয়ী হোমনা আদর্শ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ত্রিদিব রায় আর্যকে একটি করে ল্যাপটপ উপহার দেন। এছাড়া দলের অন্যান্য সদস্য নাইরা নাওয়ার আহমেদ, নাওফিল রহমান, অনন্য যারিফ আকন্দ, মুবতাসিম চৌধুরী পিয়ম এবং মুরতাযা আব্দুল্লাহকে বই উপহার দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এআই অলিম্পিয়াড আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের টিম লিডার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বি. এম. মইনুল হোসেন রাজু, বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কোচ ড. মোহাম্মদ আজম খান, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান এবং বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কো-অর্ডিনেটর ও মেন্টর তাসনিম মাহফুজ নাফিস।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিফা সভাপতি পরের বিশ্বকাপে ৬৪ দলের করার কথা ভাবছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


ফিফা সভাপতি পরের বিশ্বকাপে ৬৪ দলের করার কথা ভাবছেন

চলমান বিশ্বকাপে রেকর্ডসংখ্যক দল অংশগ্রহণ করছে। ফিফা বর্তমানে দলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছে। যদি তা হয়, তাহলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে ৬৪ দল।

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও ১৬টি বাড়ানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন। এই প্রস্তাবটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী নেতাদের একটি প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

ইনফান্তিনো সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘৬৪ দলের বিশ্বকাপ অবশ্যই এমন একটি বিষয়, যা এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হবে। বিশ্বকাপ পুরো বিশ্বের জন্য, শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়।’

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৩২ দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো এই আসরের যৌথ আয়োজক। এর আগে, ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে ৩২টি দল অংশ নিয়েছিল।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ছয়টি দেশ ও তিনটি মহাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক উরুগুয়ে, ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সদর দফতর থাকা প্যারাগুয়ে টুর্নামেন্টের শুরুতে একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে। বাকি ম্যাচগুলো মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে। ৪৮ দলের ফরম্যাটে মোট ১০৪টি ম্যাচ হওয়ার পরিকল্পনা আছে, যার অধিকাংশই এই তিন দেশে অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাদ বাগান থেকে বছরে আয় ১২ লাখ: পেলেন জাতীয় পুরস্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


ছাদ বাগান থেকে বছরে আয় ১২ লাখ: পেলেন জাতীয় পুরস্কার

একসময় শখের বশে বাড়ির ছাদে কিছু গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন শারমিন আক্তার। এই ছোট্ট উদ্যোগই আজ পরিণত হয়েছে সফল উদ্যোক্তা জীবনের এক দৃষ্টান্তে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী শারমিন বলছেন, তিনি নিজের হাতে গড়ে তোলা ছাদ বাগান থেকে চারা ও টব বিক্রি করে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করছেন।

পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার–২০২৫’-এ ‘ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজিত ছাদ বাগান’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন শারমিন। জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, যা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

রাজশাহীর বিনোদপুরে তিনতলা বাড়ির নিচতলা ও ছাদ জুড়ে গড়ে ওঠা তার বাগান এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘কৃষিবাড়ি’ নামে। তবে ছাদ বাগানের আসল নাম হচ্ছে ‘ন্যাচার’স টাচ’। শারমিন আক্তারের স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা। সংসার, সন্তান এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলেও তিনি নিয়মিত সময় দেন বাগানে। অফিসের পর তার স্বামীও বাগানের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন। দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিল তাদের স্বপ্ন।

সরেজমিনে বাগান ঘুরে দেখা গেছে, পুরো ছাদের নিচে যেন সবুজের অসাধারণ একটি জগৎ। দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ, রঙিন ফুল এবং বাহারি পাতার সমাহারে বাগানটি শহরের মধ্যেই এক টুকরো প্রকৃতির অভিমুখ। লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ ও সবুজের রঙিন বৈচিত্র্যে সাজানো প্রতিটি কোণ সবার কাছে ভিন্ন সাড়া প্রদান করে।

২০২২ সালে তিনি নিজ বাড়ির ছাদে ছোট পরিসরে বাগান শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে তিন স্তরের আধুনিক ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন। এখানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১১০ প্রজাতির সাড়ে তিন হাজারের বেশি গাছ রয়েছে। বর্তমানে তিনি অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এবং টব বিক্রি করছেন। এই ব্যবসা থেকেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করছেন। তার উদ্যোগে বর্তমানে তিনজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। আগামীতে রাজশাহীতে অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি।

বাগানে রয়েছে ইনডোর ও আউটডোর গাছ, ফুল, ফল, সবজি, ঔষধি, বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় নানা প্রজাতির উদ্ভিদ। ইনডোর গাছের মধ্যে রয়েছে অ্যাডেনিয়াম, অ্যাগলোনিমা, এনথুরিয়াম, পিস লিলি, স্নেক প্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট, ইউফোরবিয়া, পাথোস, জেডজেড প্ল্যান্ট, ফার্ন, ক্যাকটাস এবং মানি প্ল্যান্ট।

ঔষধি গাছসমূহের মধ্যে রয়েছে লেমন গ্রাস, স্টেভিয়া, কালমেঘ, ইনসুলিন গাছ, নিম, রোজমেরি, অরেগানো, পাথরকুচি ও উলটকম্বল। পাশাপাশি পারিজাত, মিষ্টি তেঁতুল, সাদা জাম, ফিডল লিফ ফিগ, সাইকাসসহ নানা বিরল প্রজাতির গাছও সংরক্ষণ করছেন তিনি।

অন্যদিকে কর্পূর, অশোক, হিজল, পলাশ, মহুয়া ও বটের মতো হুমকির মুখে থাকা দেশীয় গাছ সংরক্ষণেও কাজ করছেন শারমিন। তিনি আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, স্ট্রবেরি, রামবুটান, অ্যাভোকাডো, আপেলসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ এবং মরিচ, টমেটো, লাউ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, বেগুন, করলা, সজনেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষও করছেন।

তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারাও। প্রতিবেশী আব্দুল হাকিম বলেন, শারমিনের ছাদ বাগান শুধু একটি বাগান নয়, এটি আমাদের এলাকার গর্ব। আগে ছাদে এমনভাবে বাণিজ্যিক বাগান করা যায়, সেটা আমরা ভাবতেই পারিনি। তার সাফল্য দেখে অনেকেই নিজেদের বাসার ছাদে গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন। ভবিষ্যতে আয়ের পথ খোজার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

শারমিন আক্তার বলেন, ছাদ বাগান শুধু শখের বিষয় নয়, এটি পরিবেশ রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় খাত। আমি চাই আরও বেশি মানুষ ছাদ বাগানে আগ্রহী হয়ে উঠুক এবং এটিকে আয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলুক।

তিনি আরও বলেন, আমি বিজনেস স্টাডিজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি। কিন্তু ছোট থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল কৃষি নিয়ে কাজ করা। পরিবার থেকে মানা করা সত্ত্বেও আমি কৃষির কাজ ছাড়িনি। এ যাত্রায় আমার স্বামী সবসময় পাশে ছিলেন এবং বাগানের একটি অংশে সময় দিয়ে কাজ করেন। ভবিষ্যতে আমি কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে চাই এবং রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আমি বদ্ধপরিকর।

শারমিন আক্তার আরো জানালেন, প্রথমে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছিল। বাগান শুরু করার সময়ে অনেকেই ছোট করে দেখতেন এবং কটু কথা বলতেন। এখন বাগান বড় হওয়ায় এবং জাতীয় পুরস্কার পাওয়ায় সবাই প্রশংসা করছেন। তারা এখন জানতে চান কীভাবে বাগান করে আয় করা যায়। এর ফলে কখনো পেছনে তাকানোর সময় নেই।

জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন, এই ইচ্ছাটা অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল। সেটি পূরণ হওয়ায় আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। প্রধানমন্ত্রী থেকে পুরস্কার না পেলে জানতেন না, তিনি প্রকৃতিপ্রেমী এবং কৃষিবান্ধব মানুষ। তিনি আমাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন এবং ছাদ বাগানে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে বলেছেন। স্বামীর সহযোগিতা পেয়ে আমি ছোটবেলার শখকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত।

নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে শারমিন বলেন, সবারই উচিত স্বাবলম্বী হওয়া। বাসার কাজ শেষে টেলিভিশন বা ফেসবুকিংয়ের পরিবর্তে কোনো একটি কাজে সময় দেওয়া উচিত। সেই কাজটি একসময় আপনার আয়ের উৎস হয়ে উঠবে। প্রথমে ধাক্কা খেতে পারেন কিন্তু এতে বিচলিত না হয়ে সামনে এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে, ইনশাল্লাহ।

শারমিন আক্তারের স্বামী মোহা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছোটবেলা থেকে গাছের প্রতি স্ত্রীর দুর্বলতা রয়েছে। রাজশাহীর বানেশ্বরে চাকরি করা অবস্থায় আমি আমাদের ছাদ বাগানে বেশিরভাগ সময় স্ত্রীর পরিচর্যা ও দেখাশোনার কাজে সহযোগিতা করি। বাগানটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নেওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা অর্ডার করছেন। চারাগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করি। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পেছনে আমার স্ত্রীর প্রচুর পরিশ্রম রয়েছে। তার সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান মৌরী বলেন, রাজশাহীতে এখন ছাদ বাগান নিয়ে অনেকেই কাজ করছেন। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা এবং নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। রাজশাহীতে তাপমাত্রা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সেই দিক থেকে ছাদ বাগান তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

শারমিন আক্তারকে অভিনন্দন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, সারা দেশে সৃজিত ছাদ বাগান ক্যাটাগরিতে রাজশাহী থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন শারমিন। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই গর্বের এবং আনন্দের। আমরা আশা করি এই ধারা বজায় রাখতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিভিইটি গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানে ৭ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


টিভিইটি গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানে ৭ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি

বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা যুবকদের শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিটি দেশের শীর্ষস্থানীয় সাতটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এডুকো বাংলাদেশের সহায়তায় ইএসডিও কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘লিভারেজিং ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ থ্রু ইমপ্রুভিং দেয়ার এমপ্লয়বিলিটি অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস টু ফিট উইথ দ্য ২১স্ট সেঞ্চুরি জব মার্কেট (লিফট) প্রকল্পের অধীনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা শাখার প্রধান শাহরিয়ার মাহমুদ সভাপতিত্ব করেন। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডুকেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এডুকো) বাংলাদেশের শিশু শ্রম নিরসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান।

লিফট প্রকল্পটি চোরোগউসান ফর চিলড্রেনের অর্থায়নে এবং এডুকো’র কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করছে ইএসডিও। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের বাজার-চাহিদাভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে শক্তিশালী কর্মসংস্থানের সংযোগ তৈরি করা।

জানানো হয়, অনুষ্ঠানে যে সাতটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, সেগুলো হলো—আজিজ এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড, ড্রিম পাওয়ার বাংলাদেশ, প্রাণ গ্রুপ, মেটাল ফেয়ার্স, নাভানা সিএনজি, হোটেল সারিনা ঢাকা এবং আমারি ঢাকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকল্পের লক্ষ্য ও প্রধান অর্জনগুলো তুলে ধরে আফজাল কবির খান বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের বাজার-চাহিদাভিত্তিক প্রযুক্তিগত দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা। এটা মানসম্মত কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাদের শোভন কর্মসংস্থান এবং টেকসই জীবিকার দিকে নিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইএসডিও’র কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রধান শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, প্রকল্পের প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রমটি শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্র্যাজুয়েটরা যাতে প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে এবং শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে ইএসডিও ক্রমাগত নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া এবং উদীয়মান দক্ষতার চাহিদাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।

অনুষ্ঠানে জিনজিয়াং হসপিটালিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপক তানভীর আনোয়ার পনি ৭২০ ঘণ্টার শিল্প-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ মডেলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণার্থীদের এমন যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম করে তোলে, যা শিল্পের মানদণ্ড পূরণ করতে এবং কর্মক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজ সম্পাদনে অত্যন্ত প্রয়োজন।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক সুদীপ্ত দেবনাথ অন্তু বিদ্যুৎ এবং রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডের গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোম্পানির ধারাবাহিক আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। তিনি এডুকো লিফট প্রকল্পের সঙ্গে সফল সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং শিল্পের কর্মসংস্থানের জন্য এই প্রকল্পের গ্র্যাজুয়েটদের গুণগত মান ও প্রস্তুতির কথা স্বীকার করেন।

সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় আয়োজকরা জানান, এই অংশীদারিত্বের ফলে ইন্টার্নশিপ, শিল্প সংযুক্তি, কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারিগরি গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে।

এ ছাড়া, অনুষ্ঠানে সরকারি সংস্থা, শিল্পখাত, নিয়োগকর্তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প অংশীদার এবং কারিগরি শিক্ষা সম্পন্ন করা যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লিফট প্রকল্পের অর্জন ও অগ্রগতি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং গ্র্যাজুয়েটদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে ছাত্রদলের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


চট্টগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে ছাত্রদলের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত প্রায় এক হাজার সাধারণ মানুষের মাঝে রোববার (১২ জুলাই) বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং মেডিকেল টিমের প্রধান সমন্বয়ক ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের নেতৃত্বে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল টিম।

তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৫০টি পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ দিনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এসময় ডা. আউয়াল বলেন, বিএনপির রাজনীতিই হচ্ছে জনগণের জন্য। বন্যার সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রী ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ৩ হাজার ৪৫০ টন চালের ব্যবস্থা করেছেন। প্রায় এক হাজার আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা উপলব্ধ করতে ঢাকা থেকে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রদলের নেতারা এই কাথারিয়া ইউনিয়নের কাথারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায় দশ হাজার খাবারের স্যালাইন ও বন্যাবাহিত রোগের ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নিয়ে এসেছি। সেইসাথে দীর্ঘমেয়াদী রোগের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেন; ঠিক এবারও সফলভাবে জান-মাল রক্ষা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ শিহাব, ডা. খোন্দকার সিফাত-উল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ডা. হাসিবুল হাসিব, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. শাফায়েত হোসেন শিশির, সিনিয়র সভাপতি ডা. ইরফানুর রহমান জিশান, সহ সভাপতি ডা. তানভীর আহমেদ শাকিল, ডা. জামান মো. নুরশাদ, শোয়াইব সিফাত, মো. শাহজাদা, আসিফ হাসান নিয়ন, আবু তাসিন সামি, নাদিম সামি, নাজমুল হাসান, দিবাকর রায় দীপ্ত, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি আরাফাতুল ইসলাম মিজবাহ, যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. সালাউদ্দিন স্বপন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর, ফরহাদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সুলতান মাহমুদ, রাকিবুল ইসলাম রাফি সহ অন্যান্যরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%