ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারিনার প্রশংসায় সাইফ বললেন, ‘নজর লাগিও না’


কারিনার প্রশংসায় সাইফ বললেন, ‘নজর লাগিও না’

সম্প্রতি বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা সাইফ আলী খান ইনস্টাগ্রামে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। সেখানে তিনি ভক্তদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত শেয়ার করছেন। সম্প্রতি, তিনি বাড়ির বারান্দায় বসে গিটার বাজানোর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তবে ভিডিওতে গিটার বাজানোর চেয়ে তার স্ত্রী কারিনা কাপুরের সঙ্গে মজার কথোপকথনই নেটিজেনদের বেশি আকৃষ্ট করেছে।

ভিডিওতে সাইফকে নীল কুর্তা ও সাদা পায়জামা পরিহিত অবস্থায় হলুদ রঙের একটি ইলেকট্রিক গিটার বাজাতে দেখা যায়। তার সঙ্গে ড্রামসহ আরও কয়েকজন সংগীতশিল্পী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছিলেন। বাড়ির বারান্দায় গান করার জন্য সুন্দরভাবে জায়গাটি সাজানো হয়েছিল। ভিডিওর ক্যাপশনে সাইফ উল্লেখ করেন, ‘সুরটা খুঁজে পেয়েছি, তাল হারিয়ে ফেলেছি, তবু দারুণ সময় কেটেছে।’

ভিডিওটি প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে কারিনা স্বামীর প্রশংসা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে কুল স্বামী কে? আমি কি বলতে পারি, আমার স্বামী?’

আরও পড়ুন: ‘থ্রি ইডিয়টস’র সিক্যুয়েল নিয়ে নতুন খবর দিলেন আমির খান

এদিকে, স্ত্রীর এমন প্রশংসার জবাবে সাইফ মজার ছলে লেখেন, ‘প্লিজ, নজর লাগিও না।’ তাদের এই খুনসুটির কথোপকথন ভক্তদের কাছে বেশ আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইফের মন্তব্যে মজার ছলে নজর লাগার ভয়ও খুঁজে পেয়েছেন নেটিজেনদের অনেকেই।

সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের আগে তারা প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। তাদের দুই ছেলে রয়েছে—তৈমুর আলী খান ও জেহ আলী খান।

এর আগে সাইফ অভিনেত্রী অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে সংসার করেছিলেন। সেই সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে, যারা হলেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলী খান ও অভিনেতা ইব্রাহিম আলী খান।

আরও পড়ুন: সন্তানদের নিয়ে নিজের জন্মদিন পারিবারিক আবহে উদ্‌যাপন করলেন পরীমণি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকবাসীর দাবিতে বাঘাইছড়িতে মশাল মিছিল, হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সমর্থন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


সাজেকবাসীর দাবিতে বাঘাইছড়িতে মশাল মিছিল, হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সমর্থন

বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলীতে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ মশাল মিছিলের আয়োজন করেছে, যা সাজেকে হামলার প্রতিবাদ এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই মিছিলের পর একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুব প্রতিনিধি ও ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সদস্য রত্ন জ্যোতি চাকমা এবং সমাজসেবক লক্ষ্মী চাকমা।

তারা সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে সাজেকবাসীর ন্যায্য পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাজেকবাসীর প্রতি আন্দোলন থেকে সরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, "পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণসহ বিশ্বের সব বিবেকবান মানুষ ও মানবাধিকার সংগঠন সাজেকবাসীর সঙ্গে আছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া জায়েজ? ইসলাম কী বলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া জায়েজ? ইসলাম কী বলে

শিশুদের নিষ্পাপ হাসি এবং কোমল উপস্থিতি যে কারো মনকে ভালোবাসায় ভরিয়ে তোলে। অবাধ্যতা কিংবা আনন্দের মুহূর্তে তাদেরকে জড়িয়ে ধরা এবং কপালে চুমু দেওয়া মানব হৃদয়ের একটি প্রাকৃতিক এবং নির্মল ভালোবাসার প্রকাশ। ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং এটি মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতির যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও শিশুদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা প্রকাশ করতেন, তাদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন এবং কপালে ও গালে চুমু দিতেন। তবে এই নির্মল স্নেহের পাশাপাশি ইসলাম শিশুদের নিরাপত্তা, শালীনতা এবং শারীরিক সীমানা রক্ষার ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছে। কোমলমতি শিশুদের প্রতি সুন্নাহসম্মত ভালোবাসা এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ইসলামের চমৎকার নির্দেশনাসমূহ জানা আমাদের সবার জন্য জরুরি।

শিশুদের চুমু দিতেন মহানবী (সা.)

শিশুদের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা মহানবী (সা.)-এর জীবনাচরণের অন্যতম সুন্দর দিক। তিনি শিশুদের আদর করতেন এবং নিয়মিত চুমু দিতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে—

قَبَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ وَعِنْدَهُ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ التَّمِيمِيُّ جَالِسًا، فَقَالَ الأَقْرَعُ: إِنَّ لِي عَشَرَةً مِنَ الْوَلَدِ مَا قَبَّلْتُ مِنْهُمْ أَحَدًا، فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: مَنْ لاَ يَرْحَمُ لاَ يُرْحَمُ

‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তার নাতি হাসান ইবনে আলী (রা.)-কে চুমু দিলেন। সে সময় আকরা ইবনে হাবিস তামিমি নামের এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমার দশটি সন্তান রয়েছে, কিন্তু আমি তাদের কাউকেই কখনো চুমু দিইনি।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।’ (বুখারি ৫৯৯৭, মুসলিম ২৩১৮)

এই বিশুদ্ধ হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়, শিশুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে চুমু দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ এবং অন্তরের দয়ার বহিঃপ্রকাশ।

কঠোরতা ও স্পর্শকাতরতাহীন আচরণকে নবীজি (সা.) নিরুৎসাহিত করেছেন।

সন্তানকে জড়িয়ে ধরা এবং স্নেহের চুমু দেওয়াকে যারা অপ্রয়োজনীয় মনে করে বা শিশুদের প্রতি কঠোরতা দেখায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের এই মনোভাবকে অপছন্দ করেছেন। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—

جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: تُقَبِّلُونَ الصِّبْيَانَ؟ فَمَا نُقَبِّلُهُمْ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوَأَمْلِكُ لَكَ أَنْ نَزَعَ اللَّهُ مِنْ قَلْبِكَ الرَّحْمَةَ

‘একবার কয়েকজন বেদুইন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনারা কি শিশুদের চুমু দেন? আমরা তো সন্তানদের চুমু দিই না।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ যদি তোমার অন্তর থেকে দয়া-মমতা তুলে নিয়ে থাকেন, তবে তাতে আমার কী করার আছে?’ (বুখারি ৫৯৯৮, মুসলিম ২৩১৭)

এ থেকে স্পষ্ট হয়, সন্তান ও শিশুদের সাথে উষ্ণ এবং ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই ইসলামি সংস্কৃতির মূলভিত্তি।

পবিত্র কুরআনে দয়া ও কোমলতার শিক্ষা

যদিও পবিত্র কুরআনে শিশুদের চুমু দেওয়ার নির্দিষ্ট পদ্ধতি নিয়ে পৃথক আয়াত নেই, তবে সার্বিকভাবে কোমল আচরণ, দয়া এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا

‘আর তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম ও সুন্দর ভাষায় কথা বলো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৮৩)

অন্য আয়াতে স্নেহ ও বিনয় প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন—

وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ

‘আর মুমিনদের প্রতি তোমার দয়ার ডানা অবনত কর (অর্থাৎ বিনয় ও অমায়িক আচরণ প্রদর্শন কর)।’ (সুরা আল-হিজর: আয়াত ৮৮)

কোমল আচরণ এবং দয়ার এই সার্বিক নির্দেশনাই শিশুদের প্রতি স্নেহ প্রকাশের মৌলিক ভিত্তি।

অন্যের শিশু এবং বয়সের সীমানা: শরিয়তের সচেতন নিয়ম

নিজের সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা কাছের আত্মীয়দের শিশুকে আদর করে কপালে বা মাথায় চুমু দেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ। অন্যের শিশুকেও নীতিগতভাবে আদর করা যায়, তবে সেক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন—

১. অভিভাবকের সম্মতি: শিশুটির মাতা-পিতা বা অভিভাবক বিষয়টি কীভাবে দেখছেন এবং তাদের স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

২. শিশুর মতামত ও স্বস্তি: শিশু যদি কোনো কারণে কোলে আসতে বা চুমু খেতে অস্বস্তি বোধ করে, তবে তাকে জোর করা যাবে না।

৩. বয়স ও পর্দার বিধান: শিশু বড় হওয়ার কাছাকাছি (বালেগ হওয়ার বয়স) পৌঁছালে মাহরাম এবং গায়রে মাহরামের বিধান প্রযোজ্য হয়। গায়রে মাহরামের ক্ষেত্রে শারীরিক স্পর্শের সীমাবদ্ধতা, পর্দা এবং শালীনতা রক্ষা করা আবশ্যক। যৌন মানসিকতা বা কামনাসংক্রান্ত যেকোনো স্পর্শ স্নেহের দোহাই দিয়ে কস্মিনকালেও বৈধ হতে পারে না।

আদরের ছলে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং নিরাপত্তা

ইসলাম সব ধরনের অপকর্ম এবং অন্যায়ের দুয়ার শুরুতেই রুদ্ধ করে দেয়। শিশুদের কপালে বা মাথায় স্নেহপূর্ণ চুমু দেওয়া জায়েজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, যে কেউ চাইলেই শিশুকে যেমন ইচ্ছে স্পর্শ করতে পারবে। আদর এবং যৌন নিপীড়ন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

সংবেদনশীল অঙ্গ স্পর্শ নিষেধ: শিশুর সংবেদনশীল বা গোপনাঙ্গ স্পর্শ করা, কামনার দৃষ্টিতে কাছে টানা বা অনিচ্ছা সত্ত্বেও জড়িয়ে ধরা চরম অন্যায় এবং কবিরা গুনাহ।

সতর্কতা এবং ভারসাম্য: কারো সাধারণ স্নেহের আচরণকে ঢালাওভাবে নিপীড়ন ভাবাও যেমন ভুল, তেমনি শিশুর কোনো অভিযোগকে অবহেলা করাও বিপজ্জনক। অভিযোগ উঠলে ভীতিহীন পরিবেশে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করা উচিত।

শিশুর মর্যাদা এবং শারীরিক সুরক্ষার দায়িত্ব

অভিভাবক এবং সমাজ হিসেবে অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো শিশুদের নিজস্ব শারীরিক সুরক্ষার শিক্ষা দেওয়া (Good touch and Bad touch)। শিশুকে শেখাতে হবে—তার শরীর একান্তই তার নিজের। কেউ তার অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করলে বা অস্বস্তি দিলে ‘না’ বলার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে। শিশু কোনো ক্ষতিকর স্পর্শের কথা জানালে তাকে ভয় না দেখিয়ে বা দোষারোপ না করে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া এবং বুকে জড়িয়ে নেওয়া কেবল বৈধই নয়, বরং বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা এবং সুন্নাহর অনুগামী আমল। তবে এই ভালোবাসার প্রকাশ হতে হবে শালীনতা, নিরাপত্তা এবং শুভচেতনার ফ্রেমে বাঁধা। শিশুর সম্মতি, অভিভাবকের স্বাচ্ছন্দ্য, বয়স অনুযায়ী পর্দার সীমা এবং যে কোনো অপপ্রভাব থেকে সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন থেকে ভালোবাসাই হলো প্রকৃত ইসলামি শিক্ষা। ভালোবাসা এবং নিরাপত্তার এক ভারসাম্যপূর্ণ ছায়ায় যেন আমাদের শিশুরা বড় হতে পারে— এটাই ইসলামের কাম্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যখাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার উদ্যোগ, আসছে রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


স্বাস্থ্যখাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার উদ্যোগ, আসছে রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি দরপত্র আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আহ্বান করা হবে, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি আরো জানান, দেশে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে এসব তথ্য শেয়ার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে, যা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করার লক্ষ্যে। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা একদিনে দূর করা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি টেন্ডার আহ্বান করা হবে। দেশে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনা হচ্ছে। এছাড়া ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ এবং হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। একজন চিকিৎসকের যেখানে ৫০ জন রোগী দেখার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে তাকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, “একটা মৃত্যুর জন্য আমাদের সবারই মন কাঁদে। কিন্তু আমাদের ১৮ কোটি মানুষের জন্য ডাক্তার আছে কয়জন? একটা ডাক্তার ৫০টা রোগী দেখতে পারে, সেখানে ২৫০-৩০০ রোগী দেখতে হয়। হাঁপিয়ে যায়, তখন মাথার মেধা কাজ করে না।”

তবে, চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবায় গাফিলতি, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম কিংবা কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কয়েকজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের দায়িত্ব পালনের রোস্টার সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো ক্লিনিক স্থাপন করা যাবে না। পাশাপাশি বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিকগুলো নির্ধারিত শর্ত মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় প্রসবকক্ষ না থাকলে, রোগীর চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা দেখা দিলে কিংবা যথাযথ সেবার অভাবে রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এর আগে সকালে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কিছু অব্যবস্থাপনা দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, ফুলপুর হাসপাতালের শৌচাগারগুলো আগামী দুই দিনের মধ্যে সংস্কার ও পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো অন্তর্বিভাগে রোগী ভর্তি কার্যক্রম চালু হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সেখানে অন্তর্বিভাগের সেবা চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি, মাতৃসেবা ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারিত হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে।

স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়াতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, উপপরিচালক (পরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মো. জাকীউল ইসলাম, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%