ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোনালদো-জর্জিনা বিয়ের গুঞ্জনে আবারও


রোনালদো-জর্জিনা বিয়ের গুঞ্জনে আবারও

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং জর্জিনা রদ্রিগেজের বিয়ে নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পেনের মায়োর্কায় ছুটি কাটানোর সময় দুজনকে একই ধরনের হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যাওয়ার পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিয়ে নিয়ে জল্পনা বাড়তে শুরু করে।

এর আগে পর্তুগিজ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, আগামী ১ আগস্ট পর্তুগালের ঐতিহাসিক কুইন্তা দা রেগালেইরা প্রাসাদে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে। যদিও খবরটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল, পরে তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই সপ্তাহান্তে তাদের বিয়ে হচ্ছে না।

মায়োর্কায় ব্যক্তিগত ইয়টে ওঠার সময় রোনালদো ও জর্জিনার হাতে দেখতে পাওয়া ঝলমলে হীরার আংটি, এই নতুন গুঞ্জনের জন্ম দেয় বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি এই তারকা জুটি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

জানা গেছে যে, রোনালদো ও জর্জিনার বাগদান আগেই সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর, পর্তুগিজ এই ফুটবল তারকা জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে নিজের আংটির একটি ছবি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করেন।

বিয়ের বিষয়ে পূর্বে রোনালদো বলেছিলেন, "আমি জর্জিনাকে বিয়ে করব, কারণ আমি বিশ্বাস করি সময়টা ঠিক হলেই সেটা হবে। শুধু সে আমার সন্তানদের মা বলেই নয়, বরং সে-ই সেই মানুষ, যাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।"

বিয়ের গুঞ্জনের মধ্যেই, মায়োর্কায় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকে সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটাচ্ছেন রোনালদো। তিনি পালমা বিমানবন্দরে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলা, অটোগ্রাফ দেওয়া এবং শিশু সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানানোর পর, পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত ইয়টে সময় কাটাতে দেখা যায়।

২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে কর্মরত অবস্থায় রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম পরিচয় হয় এবং এরপর থেকেই তাদের সম্পর্ক শুরু হয়। বর্তমানে, তারা পাঁচ সন্তানকে নিয়ে একটি সুখী পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছেন। যদিও সব সন্তান জর্জিনার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেনি, কিন্তু তিনি সবাইকে নিজের সন্তানদের মতোই ভালোবাসা ও যত্নে লালন-পালন করছেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এই সবকিছু মিলিয়ে, দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক, বাগদান এবং একসঙ্গে সংসার জীবন বিয়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তবে আপাতত কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে, রোনালদো খুব শিগগিরই আল নাসিরের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাই এখনই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, মায়োর্কায় ছুটি কাটানো এবং একই ধরনের হীরার আংটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই তারকা জুটিকে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল আবারও তুঙ্গে পৌঁছেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাবিপ্রবির ভেট হাসপাতালে যন্ত্রপাতির সংকট, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


হাবিপ্রবির ভেট হাসপাতালে যন্ত্রপাতির সংকট, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এর অধীন ভেটেরিনারি অনুষদের কার্যনির্বাহী ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করার পাশাপাশি নামমাত্র মূল্যে প্রাণীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে হাসপাতালটির অবকাঠামোগত এবং সেবাগত নানা সীমাবদ্ধতা এখন খুব পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

সরাসরি পরিদর্শনের মাধ্যমে দেখা গেছে যে, অসুস্থ প্রাণীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে কোনো শেড নেই। হাসপাতালটি এখনও পর্যন্ত নিজস্ব অপারেশন থিয়েটার (ওটি), পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার রুম ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অভাবে ভুগছে। একটি পুরোনো এক্স-রে মেশিন থাকলেও বর্তমানে সেটি কার্যকর নয়। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ প্রায়ই অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, কক্ষসংকটের কারণে বায়োকেমিক্যাল অ্যানালাইজার ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে রাখা হয়েছে। এর ফলে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক এবং অণুজীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, ডা. খালেদ হোসেন বলেন, "আমাদের এক্স-রে মেশিন অনেক পুরোনো, যেগুলো ব্যবহার করাটা ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে বাজারে আধুনিক পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন পাওয়া যায় এবং সেগুলো আমাদের সংগ্রহ করতে হবে। বর্তমানে ওটি পরিচালনার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং অন্তত একটি কক্ষ পেলে আমরা নিজস্ব ওটি চালু করতে পারব। আপাতত সার্জারি বিভাগের ওটি ব্যবহার করছি। এছাড়াও প্রশাসনের কাছে আমরা একটি ওটি টেবিল চেয়েছি।"

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট প্রসঙ্গে ডা. খালেদ হোসেন বলেন, "হাসপাতালের জন্য একজন স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি। আপাতত আমাদের ভান্ডার শাখার মাধ্যমে মাসে একবার কর্মী আনা হয়।"

যন্ত্রপাতি বিভিন্ন বিভাগে রাখার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "হাসপাতালে যন্ত্রপাতি রাখার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। এ ছাড়া এগুলো ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানেরও প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান না থাকায় বায়োকেমিক্যাল অ্যানালাইজার ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।"

বিদ্যমান সমস্যার টেকসই সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়ার্কস সেকশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বাহাদুর বলেন, "এ ধরনের বড় প্রকল্পের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হয়। এরপর প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত দুই বছরে আমাদের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকার পেয়েছে। এ ছাড়া বাজেটও সীমিত ছিল। এখন কর্তৃপক্ষ যদি অন্য কোনো খাত থেকে বাজেট স্থানান্তর করে, তাহলে কাজটি করা সম্ভব হবে। আশা করছি, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন বাজেট এলে বিষয়টি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরা সীমান্তে চোরাই ভারতীয় পণ্য আটক করল বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


সাতক্ষীরা সীমান্তে চোরাই ভারতীয় পণ্য আটক করল বিজিবি

সাতক্ষীরা, ৩১ জুলাই ২০২৬ : সাতক্ষীরা সদরের পাশাপাশি কলারোয়া উপজেলার সীমান্তে আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত এসব মালামালের মোট মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ৭৭ হাজার পাঁচশ’ টাকা।

আজ শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা যেমন তলুইগাছা, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির আওতাধীন স্থান থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাকডাঙ্গা বিওপির দু’টি বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার কেইড়াগাছি ও ভাদিয়ালী নামক স্থান থেকে ভারতীয় ওষুধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।

এছাড়া, তলুইগাছা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নটিজঙ্গল নামক স্থান থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।

আরো উল্লেখ্য, মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার রাজপুর নামক স্থান থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশও জব্দ করে। জব্দকৃত ভারতীয় মালামালের বাজার মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ৭৭ হাজার পাঁচশ’ টাকা।

বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সান্ধ্য আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবির ছাত্রী হলগুলোতে গ্রাফিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


সান্ধ্য আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাবির ছাত্রী হলগুলোতে গ্রাফিতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবি উঠেছে। ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে ক্যাম্পাসের পাঁচটি ছাত্রী হলের প্রধান ফটকে গ্রাফিতি আঁকেন একদল নারী শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত, তারা এসব গ্রাফিতি আঁকেন। ‘সময়ের শেকল ভাঙো’ স্লোগানে এ কর্মসূচির আয়োজন করে প্রগতিশীল নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’।

এ কর্মসূচিতে হলগুলোর প্রবেশপথে ‘নিরাপত্তার অজুহাতে সংকুচিত স্বাধীনতা মানি না’, ‘সময়ের শেকল ভাঙো’-সহ নানা স্লোগান ও প্রতীকী চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকালেও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করার কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।

অবরোধবাসিনীর প্ল্যাটফর্মের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ, এক হলের শিক্ষার্থীর অন্য হলে প্রবেশে বাধা এবং নারী স্বজনদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়ে গেছে। এটি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অসম বাস্তবতা তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার যুক্তিতে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কার্যকর ‘সান্ধ্য আইন’ বাস্তবে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বাড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের বিধিনিষেধ নেই। তাই ঢাবির ছাত্রী হলগুলোতেও এই বৈষম্যমূলক নীতির অবসান হওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবরোধবাসিনীর তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে- ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের ভিত্তিতে সব নারী শিক্ষার্থীকে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। এছাড়া, অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ এবং মা-বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিন্নমতকে হুমকি হিসেবে দেখার পরিণতি, পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


ভিন্নমতকে হুমকি হিসেবে দেখার পরিণতি, পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয়

যখন কোনো সরকার জনসমালোচনাকে গণতান্ত্রিক অভিব্যক্তির পরিবর্তে একটি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে, তখন তার পরিণতি একটি প্রতিবাদ কিংবা রাজনৈতিক বিবাদের অনেক ঊর্ধ্বে চলে যেতে পারে। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা দেশটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিকে আবারও আন্তর্জাতিক পর্যালোচনার আলোচনায় এনেছে। সংঘর্ষ, মৃত্যু, যোগাযোগে বাধা এবং একটি বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের জোটের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপগুলো বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে।

প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য এই ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের তাৎক্ষণিক সংকটটি জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এটি ছিল সুশীল সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর একটি জোট যা সুশাসন, প্রতিনিধিত্ব ও জন জবাবদিহিতা সম্পর্কিত দাবি তুলেছিল। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে, বিক্ষোভকারী নেতাদের দাবির ভিত্তিতে তারা অভিযোগ করেন যে, তাদের আন্দোলন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেনি। তাদের মতে, দাবি সমূহ ছিল রাজনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে এই অস্থিরতার ফলে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়ে থাকেন। যদিও, হতাহতের সংখ্যা এবং সহিংসতার দায় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। ঘটনার স্বাধীন যাচাই-বাছাইয়ের অভাব স্বচ্ছ তদন্তের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা এই অস্থিরতার সাথে সম্পর্কিত মৃত্যুর ঘটনাগুলিতে দ্রুত ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়ে এসেছে। সেইসাথে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কাশ্মীরের বিক্ষোভকে ঘিরে চলমান বিতর্কটি পাকিস্তানে নাগরিক স্বাধীনতা সম্পর্কিত বৃহত্তর বিতর্কের প্রতিফলন। বছরের পর বছর ধরে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, সাংবাদিকদের ওপর চাপ, কর্মীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো একাধিক ঘটনার নথিভুক্ত করেছে যেখানে কর্মী, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিরোধীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন، আটক বা তাদের কার্যকলাপের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করে আসছেন। পাকিস্তান সরকার প্রায়শই জঙ্গিদের সহিংসতা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মতো গুরুতর প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কখনও কখনও বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন হয়। তবে সমালোচকরা মনে করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ যথার্থ বিচার প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না।

এই বিতর্ক ঘটনার কারণে বেলুচিস্তানে বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। সেখানে পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ আত্মীয়দের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে দাবি করে আসছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মানুষের জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বহু অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি করেছে যে, নিরাপত্তা অভিযানগুলো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যকলাপের পরিবর্তে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও উদ্বেগের একটি প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে রয়ে গেছে। পাকিস্তানের সাংবাদিকরা সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়ে প্রতিবেদন করার সময় ভয়ভীতি, আইনি চাপ ও বিধিনিষেধের সম্মুখীন হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের সংবিধান মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রদান করে, কিন্তু সমালোচকদের মতে, ব্যাপক নিরাপত্তা আইন ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা দেশটির স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসরকে সংকুচিত করেছে।

এই উদ্বেগগুলো শুধুমাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিরোধীরাই উত্থাপন করেননি। এই উদ্বেগগুলো আসে আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকেও, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বিষয়গুলোর গুরুত্ব কেন অপরিসীম তা একটি শক্তিশালী স্মারক। ১৯৭১ সালের ঘটনাবলি এখনও দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে সরকারগুলো প্রায়শই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বিধিনিষেধের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। এ অঞ্চলের অনেক রাষ্ট্রই সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো বাস্তব হুমকির সম্মুখীন হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা জোর দিয়ে বলে যে, মৌলিক স্বাধীনতার ওপর আরোপিত যেকোনো বিধিনিষেধ অবশ্যই আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় এবং অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

কোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা শুধু তার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর নির্ভর করে না। এটি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। যেখানে মতাভেদ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তা সুস্থ গণতন্ত্র হতে পারে না। যেখানে ভিন্নমত ও দ্বিমত ভয়ের পরিবেশ ছাড়াই সহাবস্থান করতে পারে, তা হলো সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের ঘটনাবলিকে শাসনব্যবস্থা, অধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা উচিত। এসব ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার সমাজগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কণ্ঠস্বর দমন করে অর্জিত স্থিতিশীলতা প্রায়ই সাময়িক। পক্ষান্তরে অংশগ্রহণ, আস্থা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা স্থিতিশীলতা অনেক বেশি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী। প্রতিটি গণতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ এক, শুধুমাত্র নির্বাচন আয়োজন করলেই যথেষ্ট নয়; বরং নিশ্চিত করতে হবে যে নাগরিকরা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজেদের মত প্রকাশ করতে, সংগঠিত হতে এবং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%