মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
শিশুদের শরীরে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো মনে হতে পারে। এর ফলে রোগটি শুরুতেই শনাক্ত করা অভিভাবকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে যদি দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, অকারণে শরীরে কালশিটে দাগ, হাড়ে ব্যথা, অস্বাভাবিক ফোলাভাব অথবা চোখের মণিতে সাদা প্রতিফলন দেখা দেয়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে উপসর্গ যদি স্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ক্যানসারের লক্ষণ রোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা যায়, তাহলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
শিশুদের ক্যানসার শনাক্ত করা কঠিন কেন? প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসারের সঙ্গে শিশুদের ক্যানসারের কিছু পার্থক্য রয়েছে। বড়দের ক্ষেত্রে বয়স, জীবনযাপন ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে, শিশুদের অধিকাংশ ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না।
এছাড়া শিশুরা অনেক সময় তাদের শারীরিক সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে না। ফলে ক্লান্তি, ব্যথা কিংবা শরীরের অন্য কোনো পরিবর্তনকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অভিভাবকরা উপেক্ষা করতে পারেন।
শিশুদের ক্যানসারের ৭টি সম্ভাব্য লক্ষণ
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
যদি শিশু আগের তুলনায় বেশি ক্লান্ত থাকে, খেলাধুলায় আগ্রহ হারায় অথবা ত্বক ও ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন। লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসারে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া অকারণে শরীরে কালশিটে দাগ, ত্বকে ছোট লালচে বিন্দু কিংবা নাক ও মাড়ি থেকে রক্তপাতও সতর্কসংকেত হতে পারে।
২. কোনো আঘাত ছাড়াই হাড় ও গিঁটে ব্যথা
শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় মাঝে মাঝে পায়ে ব্যথা হতে পারে। তবে যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, ক্রমে বাড়তে থাকে, রাতে ঘুম ভাঙিয়ে দেয় অথবা শিশুর হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে হাড়ের ক্যানসার বা লিউকেমিয়ার সঙ্গে এ ধরনের উপসর্গের সম্পর্ক থাকতে পারে।
৩. শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব বা গুটি
যদি শিশুর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় অথবা শরীরের কোনো অংশে গুটি দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে পেটে শক্ত চাকা বা গলা, ঘাড় ও বগলে দীর্ঘস্থায়ী গুটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ উইলমস টিউমার, নিউরোব্লাস্টোমা বা লিম্ফোমার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সংক্রমণসহ বিভিন্ন সাধারণ কারণেও গুটি বা ফোলাভাব দেখা দেয়।
৪. চোখের মণিতে সাদা প্রতিফলন বা টেরা ভাব
যদি ফ্ল্যাশ দিয়ে ছবি তোলার সময় শিশুর চোখের মণিতে স্বাভাবিক লালচে প্রতিফলনের বদলে সাদা আভা দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। চোখে নতুন করে টেরা ভাব দেখা দেওয়া বা দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তনও সতর্কসংকেত হতে পারে। এসব লক্ষণ রেটিনোব্লাস্টোমা বা চোখের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এমন পরিবর্তন দেখা গেলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৫. সকালে মাথাব্যথা ও বমি
শিশুর বারবার মাথাব্যথা হওয়া, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথার সঙ্গে বমি হওয়া, চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এসব উপসর্গের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে; কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের টিউমারও এর কারণ হতে পারে।
৬. দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, ওজন কমা ও রাতে অতিরিক্ত ঘাম
যদি কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই জ্বর দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, শিশুর ওজন কমতে থাকে অথবা রাতে অতিরিক্ত ঘামে পোশাক ভিজে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে এসব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। কিছু ধরনের ক্যানসার, যেমন লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমায় এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সংক্রমণসহ অন্যান্য রোগেও এসব লক্ষণ হতে পারে।
৭. দীর্ঘস্থায়ী কান থেকে তরল পড়া বা রক্তপাত
যদি শিশুর কান থেকে দীর্ঘদিন ধরে পানি, পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল পড়তে থাকে অথবা এর সঙ্গে রক্ত দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাধারণ কানের সংক্রমণেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে চিকিৎসার পরও উপসর্গ না কমলে বা বারবার ফিরে এলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
শিশুর শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে কেবল ক্যানসারের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত-
* শরীরে অস্বাভাবিক গুটি বা ফোলাভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা বাড়তে থাকলে।
* কোনো আঘাত ছাড়াই হাড়ে ব্যথা হলে বা শিশু খুঁড়িয়ে হাঁটলে।
* বারবার জ্বর, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অকারণে ওজন কমতে থাকলে।
* ত্বকে অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ বা বারবার রক্তপাত হলে।
* চোখের মণিতে সাদা প্রতিফলন বা নতুন করে টেরা ভাব দেখা দিলে।
* সকালে মাথাব্যথার সঙ্গে বারবার বমি হলে।
শিশুর হঠাৎ খিঁচুনি, শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, চেতনা কমে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই জরুরি
শিশুদের শরীরে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। অনেক সাধারণ রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে যদি কোনো লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে কিংবা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে, তাহলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
অভিভাবকদের সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ থাকে। তাই ভয় নয়, সন্তানের শারীরিক পরিবর্তনের প্রতি সচেতন থাকুন।
সূত্র: বিবিসি, অ্যাকিবাডেম ইন্টারন্যাশনাল
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ব্লাকমেইল করার অভিযোগে এসআরবি-১৪ কর্তৃক এক মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া খাইরুল ইসলাম (৩৩) সদর উপজেলার গালা গ্রামের অধিবাসী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-১৪ এর মিডিয়া অফিসার নাদিয়া ফারজানা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
এসআরবি এবং এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর মেয়ে একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করে। সেই কারণে গৃহবধূর মেয়েকে পড়াতে খাইরুল ইসলাম প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ছাত্রীর পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তিনি সেখানে উপস্থিত হতেন।
৮ আগস্ট বিকেলে, ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তিনি গৃহবধূর মেয়েকে বাইরে খেলতে দেখে সুযোগ গ্রহণ করেন। বাড়িতে একা পেয়ে খাইরুল ইসলাম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। একইসঙ্গে তিনি কিছু আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন। পরবর্তীতে, সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী ২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এসআরবি-১৪ সিপিসি-৩ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে।
এরপর সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা কলেজ মোড় থেকে খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের মুলতানে, শের শাহ সেতুর নিকট মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রেহমান বাবা এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন, যা পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জিও টিভি এই তথ্য প্রকাশ করে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য মুলতানের নিশতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ১৩টি বগি থেকে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটি বগিতে উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
এক যাত্রীর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি করাচি থেকে পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল।
এক যাত্রী সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার আগে রোহরির কাছে ট্রেনের নয় নম্বর বগির নাট-বল্টু মেরামত করা হয়েছিল। তবে ওই মেরামতের সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। আহত যাত্রীদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে, আহতদের যেন বিলম্ব ছাড়াই সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, পরাজিত শক্তি সন্ত্রাস সৃষ্টি করে সরকারকে ব্যর্থ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "বোমা বাজি ও অগ্নিসংযোগ করে নৈরাজ্য তৈরির মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা চলছে।"
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘দীর্ঘ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী জানান, বিএনপি বর্তমানে একটি ভয়াবহ সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, "সেই কঠিন সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য সরকার প্রতিনিয়ত সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা ও গভীর আন্তরিকতার কারণে বিদ্যমান সংকটগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে সতর্কতা জারি করে রিজভী বলেন, "শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে।" তিনি সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান যাতে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত রুখে দেওয়া যায় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা যায়।
আলোচনা সভায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১২ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে আগামী দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলো, যেখানে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দোতলার কনফারেন্স রুমে বোর্ড অব ডিসিপ্লিনের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সিরিজের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) ও তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের একজন করে, ২২ সিরিজের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন, পুরকৌশল বিভাগের দুইজন, ২৪ সিরিজের পুরকৌশল বিভাগের তিনজন এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমটিই) বিভাগের একজন শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় পড়েছেন। এর মধ্যে ২১ সিরিজে দুইজন, ২২ সিরিজে দুইজন, ২৪ সিরিজে পাঁচজন এবং ২৫ সিরিজে তিনজন শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। ২১ সিরিজের দুই শিক্ষার্থীর ৪র্থ বর্ষ বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা, ২২ সিরিজের দুই শিক্ষার্থীর ৩য় বর্ষ বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা, ২৪ সিরিজের পাঁচ শিক্ষার্থীর ১ম বর্ষ ব্যাকলগ পরীক্ষা এবং ২৫ সিরিজের তিন শিক্ষার্থীর ১ম বর্ষ বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তাদের আগামী দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে, বহিষ্কার শেষে পুনঃভর্তি হয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন তারা।
শাস্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষার সময় জব্দ করা ক্যালকুলেটর ও মোবাইল ফোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করা হবে। এসব সামগ্রী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার এ বিষয়ে বলেন, "পরীক্ষায় অসদুপায়ের বিরুদ্ধে রুয়েট প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। একজন শিক্ষার্থীর জন্য একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি সততা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রুয়েটে ব্যাকলগ ও শর্ট সেমিস্টার উভয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাঁচটি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, "শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে পড়াশোনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।" উল্লেখ্য, এবছরের ২৮ এপ্রিল একই অভিযোগে আরও ৫ শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অসদুপায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে রুয়েট প্রশাসন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ