০৫:০৫ পি.এম
টানা কয়েক মাস ধরে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি।
এই আন্দোলনের শুরু হয় চলতি বছরের মেডিক্যাল ভর্তি (এনইইটি-ইউজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগের কারণে। লাখ লাখ পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে। তারা পরীক্ষা বাতিলের, পুনঃপরীক্ষার দাবি, এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে social media তে প্রতিবাদ করতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আন্দোলনটির নেতৃত্ব মূলত তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি দিয়েছিল। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাজারো শিক্ষার্থীকে একত্রিত করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দিল্লির জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা টানা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও মিছিলের মাধ্যমে তাদের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ হলো, জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাগুলিতে একের পর এক প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি ছিল, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার না করলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কারের আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লিসহ দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং অনেক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।
অবশেষে আজ শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করার জন্য নতুন সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর তদন্ত জোরদার করারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে এই পদত্যাগকে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংগঠিত জেন-জি প্রজন্ম সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন