প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছাড়ার সরকারি পরিকল্পনায়, বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত বাড়তি ব্যয়ের বোঝা গ্রাহকের কাঁধেই পড়তে পারে। এই বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, বেসরকারি খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যে ঝুঁকি তৈরি হবে, তা স্পষ্ট। অতএব, তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, আগে অনিয়ম বন্ধ করে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকবান্ধব করতে হবে।
গ্রাহকের ঘরে ঘরে আলো ছড়ায় যে বিদ্যুৎ; উৎপাদন ও সঞ্চালনের পর তা ৬ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো, পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়া হয়। তবে এতদিনের প্রচলিত এ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশের জন্য বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মনে করা হচ্ছে এই অতিমাত্রায় বেসরকারি খাত নির্ভরতা। এখন যদি বিতরণ ব্যবস্থাপনাও বেসরকারি খাতে তুলে দেয়া হয়, তাহলে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি সম্পৃক্ততা বাড়ার ফলে অনেকাংশেই অলিগার্ক শ্রেণীর হাতে এ খাতের পুঞ্জিভূত সমস্যা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে বিতর্ক, এলপি গ্যাসের বাজারে নৈরাজ্যসহ নানা উদাহরণ প্রমাণ করে বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাও ব্যক্তি মালিকানায় গেলে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেট ভারি হতে পারে।
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী বি ডি রহমতুল্লাহ মন্তব্য করেন, যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তার উদ্দেশ্য ধনীদের আরও ধনী করা এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেসরকারি খাতে দেয়ার ফলে হিসাবের তুলনায় বেশি ট্যারিফ নির্ধারণ হচ্ছে, কারণ তারা নিয়ন্ত্রণের আওতায়। একইভাবে বিতরণ ক্ষেত্রও যদি বেসরকারি খাতে চলে যায়, তাহলে ট্যারিফ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ উৎপাদন ব্যয়ের পর বিতরণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেছেন, ‘প্রথমত, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিতরণ পরিচালনার মতো সক্ষম বেসরকারি খাত নেই। দ্বিতীয়ত, তারা জনস্বার্থকে রক্ষা করবে কি না এবং সরকার তাদের কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। দেশে বেসরকারি খাতের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকির উদাহরণও খুব বেশি দেখা যায় না। যেমন, এলপিজির ঘোষিত দাম বাজারে বাস্তবে পাওয়া যায় না।’
তবে সরকারি বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব কারণে বেসরকারি খাত কোনোভাবেই উপযুক্ত বিকল্প নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, ‘বেসরকারি খাতে গেলেই যে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, এমন কথা বলা যাবে না। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সততা বা দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বিদ্যমান।’
প্রকৌশলী বি ডি রহমতুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, সমস্যা সরকারি খাতের নয়, বরং যারা খাতটি পরিচালনা করেন তাদের। দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব, তবে তা করা হয় না। কারণ দুর্নীতির সুবিধা অনেকেই লাভবান হন। তাই বেসরকারি খাতে দিলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। বরং সেখানে থেকেও দুর্নীতির সুযোগ থাকতে পারে।
ভারতের কয়েকটি শহরে বিদ্যুৎ বিতরণে আদানি-রিলায়েন্স-টাটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতা থাকলেও, বাংলাদেশে বাস্তবতা আলাদা বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন