ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্কুল-কলেজের কর্মচারী নিয়োগে ফিরছে পুরোনো নিয়ম


স্কুল-কলেজের কর্মচারী নিয়োগে ফিরছে পুরোনো নিয়ম

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হাতে দেওয়ার পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ডিসিদের হাতে আর অশিক্ষক জনবল নিয়োগের ক্ষমতা থাকল না।

এখন অশিক্ষক এমপিও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবারও ২০২৪ সালের নির্দেশনা কার্যকর হবে। নিয়োগের ক্ষমতা ফিরবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার যুগ্মসচিব সাইয়েদ এ জেড এম মোরশেদ আলীর স্বাক্ষরিত সেই পরিপত্রে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ এবং স্নাতক (পাস) কলেজে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনায় ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশমালা পুনর্বহাল করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি জারিকৃত নির্দেশমালার ২.৪-এর ক, খ ও গ এ বর্ণিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগসংক্রান্ত অংশ ব্যতীত অন্যান্য পদে (ট্রেড অ্যাসিসট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণাগার, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া, অফিস সহায়ক) নিয়োগসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট অংশ বহাল করা হলো।

এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে প্রত্যাহার করে। সে সময় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে এসব পদে নিয়োগে পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এ কমিটিতে পরিচালনা পর্ষদের কেউ থাকতে পারতেন না।

নতুন পরিপত্রে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আবারও পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা বহাল করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

অতীতে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বিদ্যমান থাকায় নতুন এই সিদ্ধান্তের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কীভাবে হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ১৮৫টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ১৮৫টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) রাজস্ব খাতভুক্ত ২১টি ক্যাটাগরির অধীনে ১৮৫টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ৯ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন পদে যোগ্য প্রার্থীদের কাছে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টা থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং চলবে ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

নিয়োগের জন্য যেসব পদ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. সহকারী পরিচালক – ১টি (৯ম গ্রেড)

২. সহকারী প্রোগ্রামার – ১টি (৯ম গ্রেড)

৩. গবেষণা কর্মকর্তা – ৩টি (১০ম গ্রেড)

৪. সহকারী আর্টিস্ট – ১টি (১১তম গ্রেড)

৫. স্টোনোগ্রাফার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর – ৫টি (১৩তম গ্রেড)

৬. অফিস সহকারী/উচ্চমান সহকারী – ৬টি (১৩তম গ্রেড)

৭. গবেষণা অনুসন্ধানকারী – ৩টি (১৩তম গ্রেড)

৮. পরিসংখ্যান সহকারী – ২টি (১৩তম গ্রেড)

৯. নিরীক্ষা সহকারী – ৭টি (১৩তম গ্রেড)

১০. হিসাব সহকারী – ৩৬টি (১৩তম গ্রেড)

১১. ক্যাশিয়ার – ২টি (১৩তম গ্রেড)

১২. গ্রন্থাগার সহকারী – ১টি (১৩তম গ্রেড)

১৩. স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর – ৭টি (১৪তম গ্রেড)

১৪. প্রশিক্ষক – ১টি (১৫তম গ্রেড)

১৫. ড্রাফটসম্যান – ১টি (১৫তম গ্রেড)

১৬. অফসেট প্রিন্টিং অপারেটর – ১টি (১৫তম গ্রেড)

১৭. অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর – ৩০টি (১৬তম গ্রেড)

১৮. ডাটা এন্ট্রি অপারেটর – ৩টি (১৬তম গ্রেড)

১৯. প্রুফ রিডার – ১টি (১৬তম গ্রেড)

২০. স্টোরকিপার – ১টি (১৬তম গ্রেড)

২১. অফিস সহায়ক – ৭২টি (২০তম গ্রেড)

নির্বাচিত প্রার্থীরা পাবেন জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্রেডের বেতন ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা। ৯ম গ্রেডের বেতন পরিসীমা ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা, অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা হবে।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত অনলাইন ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এছাড়াও, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পরে নির্ধারিত ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

আবেদন ফি: ১–৩ নম্বর পদে ২২৩ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)। ৪ নম্বর পদে ১৬৮ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)। ৫–২০ নম্বর পদে ১১২ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)। ২১ নম্বর পদে ৫৬ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)।

অতি গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ দিন! আবেদন শুরু হবে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টা থেকে এবং আবেদনের শেষ সময় অতি গুরুত্বপূর্ণ ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিকেল ৫টা।

বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য ওয়েবসাইটটি দেখুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব মাদরাসায় চারটি ফুটবল দল গঠনের নির্দেশ, ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


সব মাদরাসায় চারটি ফুটবল দল গঠনের নির্দেশ, ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ

দেশের প্রতিটি মাদরাসায় চারটি করে ফুটবল দল গঠনের নির্দেশনাটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল ও আলিম স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে চারটি দলের গঠন করে বোর্ডে তথ্য পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং নিয়মিত অনুশীলনের ব্যবস্থা করার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনাটি প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন।

একই দিন সারা দেশে একই সময়ে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এই কারণে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল দল গঠনের জন্য এবং দলকে প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ আছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগ্যতার ভিত্তিতে দাখিল (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) পর্যায়ে একটি ছাত্র এবং একটি ছাত্রী দল এবং আলিম (প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ) পর্যায়ে একটি ছাত্র এবং একটি ছাত্রী দল গঠন করতে হবে। গঠিত দলগুলোর জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষক বা প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত চেতনা এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। টুর্নামেন্ট-সংক্রান্ত পরবর্তী নির্দেশনাগুলোও যথাযথভাবে অনুসরণ করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানে ফুটবল দল গঠন করে registrar@bmeb.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলে তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, ক্রীড়ানুরাগী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষানুরাগীদের সম্পৃক্ত করে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নে আন্তরিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাবির নারী শিক্ষার্থীরা: ইতিহাসের আড়ালে এক সাহসী অধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাবির নারী শিক্ষার্থীরা: ইতিহাসের আড়ালে এক সাহসী অধ্যায়

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছিল আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে শুরু থেকেই পুরুষ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শত শত নারী শিক্ষার্থীও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। কেউ মিছিলের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন, কেউ আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করেন, আবার কেউ হলের বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও অনেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরেও রাবির নারী শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের নানা দিক আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্দোলনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও সেই অভিজ্ঞতার অনেকটাই এখনো যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা হয়নি।

আন্দোলনের শুরুর দিকে অনেক নারী শিক্ষার্থী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তবে সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সংগঠিতভাবে আন্দোলনে যুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, জুলাই-৩৬ হল (তৎকালীন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল), মন্নুজান হল, বেগম খালেদা জিয়া হলসহ ছয়টি ছাত্রী হল থেকে শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং নানা বাধা সত্ত্বেও তারা রাজপথে অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং হল ছাড়ার নির্দেশ দিলে নারী শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি ফিরতে পারেননি। ট্রেন-বাস চলাচলে বিঘ্ন, ইন্টারনেট বন্ধ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অনেককে রাজশাহীতেই আটকে থাকতে হয়। পরে তারা বিভিন্ন মেস, পরিচিতজন অথবা সহপাঠীদের বাসায় আশ্রয় নেন। তবুও মেসে পুলিশি তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে অনিরাপত্তা তৈরি হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হন। তবে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করেও ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা যুক্ত ছিলেন বলে জানান তারা।

আন্দোলনে শুধু অংশগ্রহণ নয়, ব্যানার তৈরি, কর্মসূচির সমন্বয়, আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং সহপাঠীদের সহায়তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নারী শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাতের মুহূর্তেও তারা পিছু হটেননি; বরং সহপাঠীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে মানববর্ম তৈরি করেছিলেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পরিষদের অন্যতম নারী সদস্য তাসিন খান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর আমি সমন্বয়ক পরিষদে যুক্ত হই। তখন আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম—স্বাভাবিক জীবনে হয়তো আর ফেরা হবে না। মনে হয়েছিল, বেঁচে থাকলেও হয়তো জেলে যেতে হবে কিংবা পলাতক জীবন কাটাতে হবে। ৫ আগস্টের পরের জীবনকে আমি বোনাস জীবন মনে করি। জুলাই আমাকে বিবেকের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়েছে। আন্দোলনের পর আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি। বিভিন্ন সুযোগ এলেও কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হইনি। রাজনীতিসচেতন নাগরিক হিসেবে থাকতে চাই এবং দলান্ধতাকে সবসময় প্রত্যাখ্যান করি।"

তিনি আরও বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলোর একটি। ন্যায়বিচার ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সাহস, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের কোনো বিকল্প নেই।"

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরেক নারী শিক্ষার্থী এবং রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়েদা হাফসা বলেন, "কোটা সংস্কার আন্দোলন একটি যৌক্তিক আন্দোলন। তাই শুরু থেকেই আমরা এর সঙ্গে ছিলাম। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা ৭ জুলাই থেকেই অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সব হল থেকেই নারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হন।"

তিনি বলেন, "১৪ জুলাই রাতে বেগম খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা হলের তালা ভেঙে বেরিয়ে মিছিলে যোগ দেন। অন্য হলের ছাত্রীরাও একইভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ লাঠি, কেউ মরিচের গুঁড়ো, আবার কেউ বেডের স্ট্যান্ড হাতে নিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েন।"

হাফসা আরও বলেন, "১৬ জুলাই সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণের শব্দ এবং গ্যাসের প্রভাব মেয়েদের হল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে আসছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়লেও কিছু সাহসী ছাত্রী শেষ পর্যন্ত হল না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। পরে প্রশাসনের নির্দেশে তাদেরও হল ছাড়তে হয়।"

মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং বর্তমান হল সংসদের সহসভাপতি সুমাইয়া জাহান বলেন, "আন্দোলনের শুরু থেকেই নারী শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিকে ছোট ছোট দলে কর্মসূচিতে অংশ নিলেও আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মন্নুজান হলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং ন্যায্য দাবির পক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনে নেমেছিলেন।"

তিনি আরও বলেন, "টিয়ারশেল, হামলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও নারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের স্থান ত্যাগ করেননি। হল ছাড়ার দিনটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। পরিবহন সংকট, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে অনেকেই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেননি। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সাহস, সংহতি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন।"

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম তুহিনা বলেন, "নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বলব, জুলাইকে শুধু একটি স্মৃতি হিসেবে নয়, শিক্ষা হিসেবে ধারণ করতে হবে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছি। সেই চেতনা ধরে রেখে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস তখনই পূর্ণতা পায়, যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার অবদান সমান গুরুত্বে নথিবদ্ধ করা হয়। শুধুমাত্র নেতৃত্বের গল্প নয়, সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই রাবির জুলাই আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে মৌখিক ইতিহাস, সাক্ষাৎকার ও তথ্যভিত্তিক গবেষণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে অংশ নেওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, "জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীরা সম্মুখসারির সংগঠক এবং অংশগ্রহণকারী হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছেন। তারা শুধু সমর্থনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, স্লোগানে আন্দোলনকে বেগবান করেছেন, আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন এবং খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিয়েছেন। এমনকি গ্রেপ্তার সহযোদ্ধাকে ছাড়িয়ে আনা এবং আহতদের সেবাতেও তারা এগিয়ে গেছেন।"

তিনি বলেন, "তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি এখনো অপ্রতুল। আন্দোলনে তাদের অবদানও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি সাহস, ত্যাগ, প্রতিরোধ এবং মানবিকতারও ইতিহাস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা সেই ইতিহাসে শুধু সহযাত্রী ছিলেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই ছিলেন সামনের সারির অংশগ্রহণকারী। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদান যত বেশি নথিবদ্ধ হবে, ততই সমৃদ্ধ ও পূর্ণতা পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক যুবকের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১২ এম


রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক যুবকের প্রাণহানি

রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক যুবকের প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার সময় হাজারীবাগের ভাগলপুর লেনের ৪৮/১/ই বাসার সামনে এই ঘটনাটি ঘটেছে। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। নিহত যুবকের নাম সাগর হোসেন বুলেট, বয়স ২৮ বছর। তিনি হাজারীবাগের ভাগলপুর লেনের মৃত শাহাদত হোসেনের সন্তান। সাগর পেশা হিসেবে বেকার ছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়ে হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এবিএম তৌহিদ গণমাধ্যমকে জানান, রাতে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাই যে ভাগলপুর লেন এলাকার রাস্তায় এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তিনি মারা যান। তার মাথায় বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। অতিরিক্তভাবে তিনি বলেন, কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তকরণের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এসআই আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%