মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৫ পি.এম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) গত এক বছরে নতুন রুট ও ট্রিপ চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান কয়েকটি রুটে সেবার পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সময়ে, গাড়ির মাইলেজ বৃদ্ধি, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থাপনার ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি সাশ্রয় হয়েছে।
পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে গত এক বছরে প্রায় তিন হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী এবং ৫০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা যুক্ত হলেও ২৯টি গাড়ি ও ২৩ জন চালক দিয়ে নিয়মিত পরিবহন সেবা সচল রাখা হয়েছে। এ সময়ে গাড়িগুলোর গড় মাইলেজ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে জ্বালানি খাতে সাশ্রয়ের পাশাপাশি ইঞ্জিন অয়েল ও বিআরটিসি ভাড়া বাবদ ব্যয়ও আগের তুলনায় কমেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মদিবসে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার একাধিক ট্রিপ, বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মার্কেট ট্রিপ এবং অফিস খোলা থাকলেও ক্লাস বন্ধের দিনে নির্দিষ্ট সময়ে শহর-ক্যাম্পাস রুটে পরিবহন চালু রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ঝিনাইদহ শহর থেকে ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসে নতুন পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য গোধূলি ট্রিপ চালুর পাশাপাশি মার্কেট ট্রিপের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। পরিবহন সেবা নিয়ে তথ্য, পরামর্শ ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গাড়িতে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) চালুর মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যারেজ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন করে গাড়ি ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতিতেও পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সেবা প্রদান করা হয়েছে। বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিক্ষার্থীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা শেষে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা করা হয়। ভর্তি পরীক্ষা ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি, ঈদুল আজহায় ক্যাম্পাস থেকে যশোর রেলস্টেশন এবং রমজানে ইফতারের পর শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে চালকের সংকট ও নতুন গাড়ি কেনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে দপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন রুট, পূর্ণাঙ্গ শাটল সেবা, শুক্রবার ও ছুটির দিনে মার্কেট ট্রিপ, শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে পরিবহন এবং সার্বক্ষণিক দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির পরিবহন পরিচালক ড. শিমুল ইসলাম বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিবহন) হিসেবে দ্বিতীয় বছরের দায়িত্ব শেষ করলাম। পরিবহন দপ্তরে চালকের সংকট ও নতুন গাড়ি কেনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং নতুন চালু হওয়া দুটি হলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পরিবহন দপ্তর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পরিবহন সেবার মান বৃদ্ধি, গুণগত পরিবর্তন এবং ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করেছি। পরিবহনের সার্বিক পরিবর্তনে পরিবহন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবহন পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সুচিন্তিত মতামত প্রদানকারীদেরও সাধুবাদ জানাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল বঙ্গোপসাগরে টিকতে না পেরে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ ফিশিংবোট নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বোট উপকূলের দিকে ফিরতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে।
শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রায়েন্দা, মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা ও পাথরঘাটা সহ উপকূলীয় এলাকায় এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ ফিশিংবোট আশ্রয় নিয়েছে। কিছু বোট এখনও উপকূলে ফিরছে।
শরণখোলার রাজৈর মৎস্যঘাটের আড়তদার কবীর হোসেন জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফিশিংবোটগুলো সাগরে যেতে পারছে না এবং গত দুই দিন ধরে রায়েন্দা মৎস্যঘাটে নোঙর করে আছে।
সাগরসংলগ্ন দুবলার মেহেরআলী লাইট হাউসের কর্মী সবুজ হাওলাদার জানিয়েছেন, সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাছ ধরতে না পেরে ফিশিংবোটগুলো উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। কিছু বোট সুন্দরবনের মেহেরআলী খালেও আশ্রয় নিয়েছে।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে ফিশিংবোটগুলো উপকূলের দিকে ফিরে আসছে।
দুবলা জেলেপল্লির বন টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে সাগরে কোনো ফিশিংবোট নেই। দুবলারচর এলাকায় প্রবল ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের ১৬ মার্চ ঘোষিত ১৮০ দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনার মেয়াদ শেষে অগ্রগতি নিয়ে জনসাধারণের জন্য সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
এই পরিকল্পনার তিনটি স্তম্ভ রয়েছে- উন্নত অবকাঠামো, বিনিয়োগ সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। গত মার্চে ঘোষিত ১৬টি কর্মধারার মধ্যে ১৪টির অধীনে নেওয়া ২০টি উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী মন্তব্য করেন, "সরকারের বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।" তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে উন্নত অবকাঠামো, দ্রুত ও কার্যকর সেবা এবং বিনিয়োগযোগ্য সুযোগের একটি শক্তিশালী পাইপলাইনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, "কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো সময় লাগবে।" ১৮০ দিন পর অগ্রগতি জানানোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ হালনাগাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার প্রথম স্তম্ভের আওতায় বন্দর আধুনিকায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ এবং সরকারি সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে ৭০০টির বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বন্দরের সক্ষমতা ৪৪ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ১৫ বছরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ইজারার জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে।
চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (সিআরবিসি) ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এ অঞ্চলের প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাইপলাইন ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সক্রিয় পাইপলাইন রয়েছে। প্রকল্পটি ১ লাখের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের (সিসিইসিসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রস্তাবিত ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও হালকা প্রকৌশল খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা বন্দর কার্যক্রম, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পিত কার্গো সুবিধার মাধ্যমে বার্ষিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা ২ লাখ টন থেকে ৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
চট্টগ্রামে ৬০০ একরের বেশি জমিতে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের নীতিগত কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে।
ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৪১২ একর জমিতে প্রথম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তুতির কাজ চলছে। সরকারি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশিকা অনুমোদন করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে।
মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) ২০২৮ সালে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। এর দৈনিক ভিত্তি সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সর্বোচ্চ সক্ষমতা ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার একরের বেশি শিল্পজমি ঘিরে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ৪৪টি সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদে বেসরকারি অংশগ্রহণ পরিচালনায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
দ্বিতীয় স্তম্ভের আওতায় বিনিয়োগসেবা একীভূত করা, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংযোগ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিডা, বেজা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে বিনিয়োগ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পিপিপি কার্যক্রমকে একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগ সহায়তা, জমি ও পিপিপি সেবা আরো সমন্বিতভাবে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন, অবকাঠামো, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দফায় উত্থাপিত ২৮টি বিষয়ের মধ্যে ২১টিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চার মাসে দু’টি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া বাংলাবিজে তিন দিনের বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ চালু হয়েছে। ১৪ দিনের বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অগ্রাধিকার সেবা একীভূত করার কাজ চলছে।
দক্ষিণ চীনের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পরামর্শক সেবা ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে এবং চীনা পরামর্শকরা কাজে যুক্ত হয়েছেন। কার্যালয়টির কার্যক্রম ২০২৬ সালের অক্টোবরে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
তৃতীয় স্তম্ভের আওতায় বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি, বিনিয়োগযোগ্য সুযোগ প্রস্তুত এবং খাত ও অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বিদেশি ইকুইটি আনতে ভূমিকা রাখা যোগ্য ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট ইকুইটির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশিকা অনুমোদিত হয়েছে। এজন্য পৃথক পোর্টাল প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের এ ধরনের প্রথম প্রণোদনা উদ্যোগটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, মোট বিনিয়োগ পাইপলাইনের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে চীন থেকে ৬০০ মিলিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০০ মিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে।
খাতভিত্তিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার করে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
সরকারি পর্যটন স্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগের প্রথম পাইলট পিপিপি প্রকল্প হিসেবে হোটেল শৈবালকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৩২ একরের এ প্রকল্পের ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে ৫০টির বেশি পর্যটন স্থাপনা পিপিপি পাইপলাইনে যুক্ত হবে।
এছাড়া গভীর সমুদ্রে তিন মাস পর্যন্ত মাছ ধরার অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা সাতটির বেশি গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি অ্যাকুয়াকালচার জোনের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইও শুরু হয়েছে।
দেশের প্রথম সমন্বিত বিনিয়োগ মানচিত্রায়ন কার্যক্রমও পরিচালনা করছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও সানেমের (এসএএনইএম) অংশীদারিত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দেশের আটটি বিভাগ ও প্রধান খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ, প্রতিবন্ধকতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো চিহ্নিত করা হবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সামগ্রিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এমন উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে জনসাধারণকে অবহিত করা হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের অধীন পৃথক উইংগুলোর কার্যক্রম সরকারের লক্ষ্য ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসম্পাদন সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদরাসায় যাওয়ার পথে এক তরুণীকে (২১) একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার সরিষা মারুয়াখালী গ্রাম থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে সরিষা মারুয়াখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি গ্রহণ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন শাহিন মিয়া (৩৬), রুবেল (৪২) এবং রেজাউল করিম জয় (২২)। পুলিশ জানিয়েছে, শাহিনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে মাদরাসার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর শাহিন মিয়া ও তার সহযোগীরা কৌশলে ওই তরুণীকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানিয়েছেন, তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রমজান কাদিরভ, যিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম-অধ্যুষিত চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে।
এই তথ্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার রাশিয়ায় জাতীয় সংসদ, আঞ্চলিক আইনসভা এবং গভর্নর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধের শুরু হওয়ার সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পর, এই নির্বাচনকে দেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফলাফলে দেখা যায়, অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় ক্রেমলিন-সমর্থিত দল ও প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে জয়ী হয়েছেন।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, চেচনিয়ায় কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ছোট ও পাহাড়ি এই অঞ্চলের নির্বাচনের পরিচালনার বিষয়ে অতীতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তীব্র সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে।
কাদিরভ এসব সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এগুলো তার শাসনকে দুর্বল করার জন্য পশ্চিমা-সমর্থিত প্রচেষ্টা। তিনি নিয়মিতভাবে পুতিনের প্রতি নিজের আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গেও তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে তার চেচেন বাহিনী সেখানে লড়াই করছে।
পুতিনের কাছ থেকে ব্যাপক স্বাধীনতা পেয়ে কাদিরভ চেচনিয়াকে অনেকটা নিজের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের মতো পরিচালনা করেন। এর বিনিময়ে তিনি ইসলামপন্থি ও রাশিয়াবিরোধী বিদ্রোহের পর ১৯৯০-এর দশকের পর অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
কাদিরভের ক্ষমতায় উত্থান ঘটে তার বাবা আখমাত কাদিরভের মৃত্যুর পর। ২০০৪ সালে বিদ্রোহীদের চালানো এক বোমা হামলায় আখমাত নিহত হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাদিরভের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
এতে সাংবাদিক ও সমকামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন কাদিরভ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ