বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। বরং আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি, পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হয়।
একই সময়ে পরীক্ষা ও নির্বাচন আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করছে কমিশন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সরকারের কোনো চাপে নয়, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে, সেজন্য সেসময় বাদ দিয়ে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।” তিনি আরও বলেন, “পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে কমিশন চিন্তা করছে। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।”
যদিও জানুয়ারিতে ভোট শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামী বছরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি বিবেচনায় নিয়েই ভোটের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। আগামী বছর এসব কর্মসূচির সঙ্গে যেন নির্বাচনের সময়সূচির সংঘাত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আগামী বছরের রমজান মাস, ঈদ, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা আছে, সবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যেই কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ হয়। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানও নিয়মিত হয়। ইসি তথ্য চায়, মন্ত্রণালয় তথ্য দেয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারের সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরাসরি চিঠি চালাচালির কোনো নিয়ম বা নজির নেই বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “কেউ কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলে না নির্বাচন কবে হবে, এমন নজির নেই।”
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, “অনেকে অনেক কথা বলে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরে যায় না।”
এর আগে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল ইসি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর করার কথা ছিল। পরবর্তী ধাপগুলো আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেটি চূড়ান্ত সময়সূচি ছিল না।
পরে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ভোট আয়োজন থেকে সরে আসার কথা জানায় কমিশন। এখন জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।
এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে না করে পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনাই বিবেচনায় রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিস্থিতি ও সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কোন ধাপে এবং কোন তারিখে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচনের সময় পরিবর্তনের পেছনে সরকারের কোনো চাপ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বাস্তবতা, আইন ও সংবিধানের বিষয় বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, পরীক্ষার সময়সূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সময়সূচিতে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রির অভিযোগে পুলিশ ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত তিনজনই রেস্টুরেন্ট পরিচালনার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট সংলগ্ন মর্নিংসান হাইওয়ে রেস্তোরা এন্ড হোটেল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ভাটিবন্দর গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদির (৪৫), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে মিজান (৪০) এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমূল সলিমপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে আলম (২৬)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের গজারিয়া অংশের তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট সংলগ্ন এই রেস্টুরেন্টে বেশ কিছুদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছিল। রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষের লোকজন তাদের কর্মচারীদের মাধ্যমে আগত গ্রাহক ও যানবাহন চালকদের কাছে মাদক বিক্রি করতেন। বুধবার দুপুরে এমন একটি খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি স্টিলের বাক্স উদ্ধার করা হয়। বাক্সটি খুলতে বাধ্য করা হলে তার ভেতরে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তদের গাঁজাসহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানা যায়, রেস্টুরেন্টটির মালিক তেতৈতলা গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী। তিনি রেস্টুরেন্টটি ভাড়া দিয়ে বেশ কয়েকজনের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিচালনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে আগত ব্যক্তিদের কাছে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গজারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। এ সময় তিনজনের কাছ থেকে একটি স্টিলের বাক্স উদ্ধার করা হয়। বাক্সটি খোলার পর তার ভেতরে গাঁজা পাওয়া যায়। আটককৃতদের থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।" বিষয়টি নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, "স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গাঁজাসহ ৩ জন আটক হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিতভাবে জায়গা না পেলেও অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব বহন করছেন জামাল ভূঁইয়া। বাফুফে নতুন নেতৃত্বের খোঁজে রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অবসর নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জামাল মন্তব্য করেন, "অবশ্যই সবকিছুরই একটা শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, শরীর ভালো অবস্থায় আছে। জাতীয় দল ও বাংলাদেশের প্রতি আমার অনেক টান।" তিনি আরও জানান, অবসর নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তারা সবাই বলেছেন, "খেলার সময়ের মুহূর্তগুলো আরও বেশি উপভোগ করতে পারলে ভালো হতো।"
বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ২৩ জনের দলে জায়গা পাওয়াকে তিনি একটি বড় সম্মান বলে মনে করেন।
এই ফুটবলারের মতে, "প্রতিবার মাঠে নামা কিংবা জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা আমার কাছে বিশেষ কিছু।" তিনি উল্লেখ করেন, "বছরের পর বছর অনেক খেলোয়াড়কে আসতে ও চলে যেতে দেখেছি। যত বেশি সময় দলের সঙ্গে থাকছি, তত বেশি উপভোগ করছি। কারণ আমি ফুটবল ভালোবাসি, আমার দল ও দেশকে ভালোবাসি।"
আসিয়ান কাপে ভক্তদের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন, "এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আমাদের নিজেদের এবং দেশের মানুষের বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে।" জামাল জানেন, গ্রুপে তারা সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, "আমরা এই টুর্নামেন্ট থেকে তিন-চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। আর ফুটবলে কখন কী হয়, সেটা তো কেউ আগে থেকে বলতে পারে না!"
জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচের দ্বারপ্রান্তে থাকা ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জন্য আজকের অবস্থানে আসাটা মোটেও সহজ ছিল না। দুই দশক আগে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ৪টি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি।
সেই মৃত্যুঞ্জয়ী জামালই এখন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তিনি জানান, যতদিন শরীর সায় দেবে, দেশের হয়ে এই দায়িত্ব তিনি চালিয়ে যেতে চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি কবিতা ‘দুই পাখি’ এবং নাটক ‘রক্তকরবী’ অবলম্বনে নাগরিক নাট্যাঙ্গন নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ উপস্থাপন করছে। এটি দলের ২৮তম প্রযোজনা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান বিশ্বে, যেখানে ইন্টারনেট-স্যাটেলাইট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শোষণ-শাসন-সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিরাজমান, মানুষের জীবন যেন এক রোবটিক জীবন। এই জীবনে এক ধরনের মানুষের জীবন প্রাচুর্য্য-বিলাসিতা-স্বাচ্ছন্দময়, কিন্তু তারা পরাধীন। অপরদিকে, অন্য ধরনের মানুষের জীবন অনিশ্চয়তা-ঝুঁকি-কষ্টময়, কিন্তু তারা স্বাধীন। একটি জীবন স্বর্ণের খাঁচায় আবদ্ধ, অন্য জীবন মুক্ত বনের পাখির মতো স্বাধীন।
একটি জীবন আবদ্ধ হতে হতে উড়বার শক্তি হারিয়ে ফেলে, অন্য জীবন খাঁচার ফাঁদ এড়িয়ে স্বাধীন থাকে। যখন এই পরাধীন এবং স্বাধীন রূপ খাঁচায় ও বনের পাখির পারস্পরিক সাক্ষাতে মিলিত হয়ে এক অভিন্ন সত্ত্বায় মুক্তির বার্তা ঘোষণা করতে গিয়ে অসমর্থ হয়, ঠিক তখনই মহামুক্তির পথ নির্দেশনা নিয়ে উপস্থিত হয় রক্তকরবী নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নন্দিনী।
নন্দিনী, যিনি আত্মার মুক্তি এবং খাঁচা তথা ব্যারিকেড ভেঙ্গে ফেলবার পথিকৃৎ, লোভ, নিষ্ঠুরতা, ভয়ভীতি, আঘাত প্রভৃতির যাঁতাকলে যক্ষপুরীর রাজা মকররাজের কারণে কিশোর, ফাগুলালের মতো শত সহস্র মানুষ বাধ্যতামূলক খনিতে নেমে স্বর্ণ তুলতে বাধ্য হয়। এই অবস্থায়, মানুষকে তার মানবিক অধিকার-স্বাচ্ছন্দ-জীবন উদযাপনের মূল সুরে ফিরিয়ে আনতে এবং শোকার্ত মানুষের সারিতে এনে যক্ষপুরীর রাজা মকররাজকে মানবিক হওয়ার, সমব্যাথী হওয়ার, সমন্বয় সাধনের পথরেখা দ্রোহ এবং আত্মত্যাগ দিয়ে আঁকেন রক্তকরবীর নন্দিনী।
স্বাধীনতা আর মুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই পাখির যে জিজ্ঞাসা, রক্তকরবীর নন্দিনীর যে সমাধান, তারই চিরন্তন এবং সমসাময়িকতার শিল্প সৃজন ষড়েশ্বর্য লাকী ইনামের নাটক 'দুই পাখী ও নন্দিনী'।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নূরুল হাসনাত জিলান, জুয়েল জহুর, পারিশা আফরোজ, লায়লা পলি, ফারিন তামান্না, প্রলয় জামান, হিল্লোল সরকার প্রমুখ।
আলোক পরিকল্পনা করেছেন জয়নাল আবেদীন পবন, আবহ সংগীত পরিচালনায় শওকত আলী রানা, মঞ্চসজ্জায় শাওন আকন্দ এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন সুমন আহমেদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে একের পর এক ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনার প্রেক্ষিতে আফগান ভূখণ্ডের ১০টি নির্দিষ্ট স্থানে এই পাল্টা হামলা কার্যকর করা হয়।
এই তথ্য বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানি তথ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দেশের আত্মরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য পাকিস্তান আফগানিস্তানে ড্রোন সংরক্ষণ ও পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত ১০টি আস্তানায় পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকতে যাওয়া আটটি ড্রোন ধ্বংস করে। এই ড্রোনগুলো তোরখাম সীমান্ত ও কোহাটের পাহাড়ি এলাকায় ভূপাতিত করা হয়। এর পরপরই ইসলামাবাদ আফগান ভূখণ্ডে এই শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, তালেবান সরকারকে বারবার অনুরোধ করার পরও আফগান মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসী আস্তানা ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করা হয়নি। বরং আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে শত্রুতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আতাউল্লাহ তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো পক্ষ থেকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও সংলাপে বিশ্বাস করে এবং আফগান তালেবান সরকারকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের বিহসুদ জেলার একটি আবাসিক এলাকায় গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতদের উদ্ধারকাজে ব্যস্ত স্থানীয় জনতা। ছবি: এএফপি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ