ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ৩ আসামি রিমান্ডে


কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ৩ আসামি রিমান্ডে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া তিন আসামি হেলাল, মহিউদ্দিন এবং শাহীন আলম ওরফে শাকিলকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

রোববার, ১৯ জুলাই দুপুরে কিশোরগঞ্জের ৪ নং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লুৎফুন্নাহার এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে, চাঞ্চল্যকর এই জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিঠামইন থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন গ্রেফতার ৩ আসামিকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আবেদন শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০ টায় মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। এই সময় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকেই কিশোরগঞ্জ সদরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করে।

এ ঘটনায় গত ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে গ্রেফতার ৩ সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামী করে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কেন হত্যা, এবং নেপথ্যে কারা? ১৫ জুলাই রাতে খুন হন বিএনপির নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। ঘটনার চার দিন পার হলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সক্ষম হয়নি।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মোটা অংকের টাকায় পেশাদার কিলার ভাড়া করে বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের জামিনে বের করে আনা হয়। হামলার সময় বিএনপি কর্মী হাদিস নিজেও আহত হয়েও হেলাল নামে এক হত্যাকারীকে ধরে ফেলে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হেলাল স্বীকার করেন, জাহাঙ্গীরকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছে। খোকা নামে এক ব্যক্তি তাদের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে বের করে আনার বিষয়েও জানান হেলাল।

হেলালের দেখা স্বীকারোক্তিমূলক এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গা ঢাকা দেন মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকারম হোসেন খোকা। খোকা নিহত জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশ বলছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা এটি পরিকল্পনা করেছে, কারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিলো - এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত কাজ চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন বলেছেন, হত্যাকারীরা বহিরাগত। ঘটনার পরপরই আমরা তাদের ধরতে পেরেছি। এটি একটি ভালো দিক। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা কারা।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

দ্রুতই হত্যার আসল কারণ এবং জড়িতদের বের করা সম্ভব হবে বলেও জানান ওসি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তাল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দাবিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


উত্তাল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দাবিতে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার ঘটনায় বিচার দাবি করতে এবং অপতথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ফোরাম নামের একটি সংগঠন নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন করেন এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকেন। এই সময় তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- সাইবার বুলিং বন্ধ করো, Stand with Kona, নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা প্রশাসন কী করে, সাংবাদিক ফোরাম নিষিদ্ধ চাই, WE WANT JUSTICE, নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা প্রশাসন চুপ কেন?

শিক্ষার্থীরা দুই দাবি নিয়ে আন্দোলন করে। তাদের দাবি হলো, নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকেই শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন এবং সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

এই ঘটনায় নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফেল আফ্রাদ বলেন, আমাদের বিভাগের ছাত্রদের বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে আসা কিছু ছেলের গোপনে ভিডিওধারণকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা ঘটে। আমরা চাইতাম তারা তাদের ভুল বুঝতে সক্ষম হোক। তবে সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ফোরামের সদস্যরা সেখানে এসে ভিডিওধারণ করতে শুরু করেন, এবং তখন ছেলেরা সেই সাংবাদিকের পায়ে ধরে। আমরা তাদের ভিডিওগুলো প্রচারে নিষেধ করি। তবে এরপর তারা এই ভিডিও কাটপিস করে ভিউ ব্যবসার জন্য ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাদের পেজ থেকে প্রচার করেন। এর ফলে এলাকাবাসীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তাই আমরা এই হলুদ সাংবাদিকের কার্যক্রম নিষিদ্ধ চাই।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, সাংবাদিকতার নামে অপ-সাংবাদিকতা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মাঝে বিভেদ তৈরি করেছে সাংবাদিক ফোরাম। আমরা এই হলুদ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ চাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারপূর্বক উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন উপস্থিত হয়ে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে বসেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিনেত্রী নেহা খোলামেলা লুকে নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


অভিনেত্রী নেহা খোলামেলা লুকে নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছেন

অভিনেত্রী ও মডেল নিদ্রা দে নেহা নতুন একটি ফটোশুটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। সোনালি রোদের আলো এবং সাদা চাদরে মোড়ানো নান্দনিক আয়োজনে তোলা ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই ভক্ত ও অনুরাগীদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করেছে।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, বেডরুমের জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলোয় বিভিন্ন ভঙ্গিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন নেহা। ছবিগুলোতে তার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, অভিব্যক্তি এবং আলো-ছায়ার ব্যবহারের কারণে পুরো ফটোশুটে একটি শৈল্পিক আবহ তৈরি হয়েছে। একটি ছবিতে তার পিঠে আঁকা লম্বা নান্দনিক ট্যাটুও পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

ছবিগুলোর ক্যাপশনে নেহা লিখেছেন, "যেখানে আলো থমকে দাঁড়ায়, আমি ভাষা হয়ে উঠি।"

ছবি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ার বন্যা শুরু হয়। অনেকেই তার সাহসী উপস্থাপনা, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং ফটোশুটের নান্দনিকতার প্রশংসা করেছেন। আবার কিছু জনগণ তার নতুন লুককে ভিন্নধর্মী এবং আকর্ষণীয় বলেও মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২০ সালের ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় সেরা ১০-এ জায়গা করা নিদ্রা দে নেহা মডেলিংয়ের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তার অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি 'আধুনিক বাংলা হোটেল' এবং 'শরতের জবা' ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে অটোরিকশা ও ট্রলির সংঘর্ষে মৃত্যু দুই নারীর, আহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


জামালপুরে অটোরিকশা ও ট্রলির সংঘর্ষে মৃত্যু দুই নারীর, আহত ৪

জামালপুরের মেলান্দহে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত দুই নারী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঘটে ইঞ্জিনচালিত ট্রলি গাড়ি ও সিএনজিচালিত রিকশার (অটোরিকশা) মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে।

এছাড়া, এ ঘটনায় আরও চার জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিন জন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেতমারী তালতলা এলাকায়। জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ থেকে পাঁচ জন যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা জামালপুর শহরের দিকে রওনা হয়েছিল। যখন তারা মেলান্দহ উপজেলার বেতমারী তালতলা এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ট্রলি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।

এই সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং সেখানে গুরুতর আহত হন অটোরিকশায় থাকা পাঁচ যাত্রী। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে অজ্ঞাত দুই নারী যাত্রী মারা যান।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন: দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মজিবর রহমান (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫), শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং এনজিও কর্মী ফাতেমা আক্তার (৫২)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল কর্মকর্তা উজ্জল কুমার সরকার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা একটি দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা একটি দিন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মাস একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিত ধরলে, সারা দেশে যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। ১৬ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত টানা সংঘর্ষ, পুলিশি অভিযান, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মাঝে ১৯ জুলাই হাজির হয় এক ভিন্ন বাস্তবতা। সেদিন, যদিও ক্যাম্পাসে বড় ধরনের নতুন সংঘর্ষ ঘটে নি, তবুও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিরাজ করছিল এক অস্বাভাবিক নীরবতা, উৎকণ্ঠা এবং অনিশ্চয়তার আবহ।

১৯ জুলাইয়ের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছিল একটি অসাধারণ ক্যাম্পাস, যেখানে শ্রেণিকক্ষগুলো প্রায় ফাঁকা দেখা যাচ্ছিল, আবাসিক হলগুলো দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছিল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল সীমিত এবং শিক্ষার্থীদের মুখে ধ্বনিত হচ্ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। আগের কয়েক দিনের সংঘর্ষের স্মৃতি তখনও তাদের মনে ছিল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের চিহ্ন, ভাঙচুরের ক্ষত, এবং আতঙ্কের ছাপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

এর আগে ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ১৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে। এরপর, পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে উপাচার্যকে বের করে আনে। ওই অভিযানের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক হন এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হল ত্যাগ করতে শুরু করেন। প্রশাসনের নির্দেশনা, পরিবারের উদ্বেগ এবং সার্বিক নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে ক্যাম্পাস দ্রুত জনশূন্য হয়ে যায়।

সেই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবি পূরণ না হলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার প্রতিবাদে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য প্রতীকী জানাজার আয়োজন করেন।

জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের আস্থা হারিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের সম্মতিতেই পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে টানা দুই দিন ধরে সংঘর্ষের ঘটনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করে। ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিং করে বাকি শিক্ষার্থীদেরও হল ত্যাগ এবং দোকানপাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।

১৮ জুলাই বিকেলে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং সারা দেশের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

এই ধারাবাহিকতার মধ্যে ১৯ জুলাই আসে। সেদিন সারা দেশে কারফিউ কার্যকর হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এর প্রভাব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়। ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যত বন্ধ থাকে এবং শিক্ষার্থীদের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে যায়।

১৯ জুলাইকে অনেকেই ‘নীরবতার দিন’ হিসেবে স্মরণ করে। সংঘর্ষের শব্দ না থাকলেও, অনিশ্চয়তা প্রবলভাবেই ছিল। আবাসিক হলগুলোতে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। অনেকেই পরিবারে ফিরে গেছেন, আবার কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য সেদিন অনুপস্থিত ছিল।

শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। অনেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, ১৯ জুলাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আন্দোলনের সংগঠন ও সমন্বয় অক্ষুণ্ন রাখা। আমরা মেহেরচণ্ডিতে অবস্থান করলেও, রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা আন্দোলনকারী এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। কারফিউ, গোয়েন্দা নজরদারি ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কার কারণে প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হতো। অনেক সময় ফোনে, আবার অনেক সময় বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থসংকট এবং খাদ্যসংকটের মধ্যেও আমরা হাল ছাড়িনি। স্বল্প সামর্থ্যে রান্না করে দিন কাটিয়েছি, প্রয়োজনে চাঁদা তুলে খরচ চালিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস ছিল, আন্দোলন শুধু ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদে থেকে সমন্বয় বজায় রাখা তখন সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল। তাই ১৯ জুলাই আমরা প্রকাশ্যে না থাকলেও আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেছি।

আরেক সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন, ১৫ জুলাই দুপুরের কর্মসূচির পর আমার বক্তব্য ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা পাই। সঙ্গে সঙ্গে আমি মেহেদী সজীবকে ফোন করি। আমরা দ্রুত হল ত্যাগ করে মেহেরচণ্ডিতে এক বড় ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নিই। ১৯ জুলাইও আমরা সেখানেই অবস্থান করছিলাম। কারফিউ চলছিল, চারদিকে অভিযান ও গ্রেপ্তারের আতঙ্ক ছিল। তাই প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে থেকেই আন্দোলনের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, তথ্য আদান-প্রদান এবং পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সমন্বয় করছিলাম। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা কোথায় অবস্থান করছে, কে নিরাপদে আছে এবং কোথায় কী পরিস্থিতি, এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ নেওয়া হতো। সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমরা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।

যখন ফিরে তাকাই, ১৯ জুলাই ২০২৪ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো সবসময় সংঘর্ষপূর্ণ হয় না। কখনও কখনও নীরব ক্যাম্পাস, ফাঁকা আবাসিক হল, বন্ধ শ্রেণিকক্ষ এবং উদ্বিগ্ন মানুষের চোখই একটি জাতির সংকটের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষ্য হয়ে ওঠে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ১৯ জুলাই তাই কেবল একটি তারিখ নয়; এটি একটি অনিশ্চয়তা, প্রতিরোধ এবং স্মৃতিবহুল সময়ের প্রতীক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%