প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া তিন আসামি হেলাল, মহিউদ্দিন এবং শাহীন আলম ওরফে শাকিলকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।
রোববার, ১৯ জুলাই দুপুরে কিশোরগঞ্জের ৪ নং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লুৎফুন্নাহার এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে, চাঞ্চল্যকর এই জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিঠামইন থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন গ্রেফতার ৩ আসামিকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আবেদন শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০ টায় মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। এই সময় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকেই কিশোরগঞ্জ সদরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করে।
এ ঘটনায় গত ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে গ্রেফতার ৩ সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামী করে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কেন হত্যা, এবং নেপথ্যে কারা? ১৫ জুলাই রাতে খুন হন বিএনপির নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। ঘটনার চার দিন পার হলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সক্ষম হয়নি।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মোটা অংকের টাকায় পেশাদার কিলার ভাড়া করে বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের জামিনে বের করে আনা হয়। হামলার সময় বিএনপি কর্মী হাদিস নিজেও আহত হয়েও হেলাল নামে এক হত্যাকারীকে ধরে ফেলে।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হেলাল স্বীকার করেন, জাহাঙ্গীরকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছে। খোকা নামে এক ব্যক্তি তাদের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে বের করে আনার বিষয়েও জানান হেলাল।
হেলালের দেখা স্বীকারোক্তিমূলক এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গা ঢাকা দেন মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকারম হোসেন খোকা। খোকা নিহত জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশ বলছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা এটি পরিকল্পনা করেছে, কারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিলো - এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত কাজ চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন বলেছেন, হত্যাকারীরা বহিরাগত। ঘটনার পরপরই আমরা তাদের ধরতে পেরেছি। এটি একটি ভালো দিক। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা কারা।
দ্রুতই হত্যার আসল কারণ এবং জড়িতদের বের করা সম্ভব হবে বলেও জানান ওসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন