মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৬ পি.এম
আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয় গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই প্রাণীকে রক্ষার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে। ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।
গণ্ডার প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। কিন্তু মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বর্তমানে এই প্রাণী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অবৈধ শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজননের সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে বর্তমানে বিশ্বে মোট ২৭ হাজার গণ্ডার টিকে আছে। পাঁচটি প্রজাতির মধ্যে চারটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
বর্তমানে গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি বিদ্যমান। এগুলি হল সাদা গণ্ডার, কালো গণ্ডার, সুমাত্রান গণ্ডার, জাভান গণ্ডার এবং একশৃঙ্গ গণ্ডার। সাদা ও কালো গণ্ডার আফ্রিকায় পাওয়া যায়, অন্য তিন প্রজাতির আবাসস্থল এশিয়ায় অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক গন্ডার ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে সাদা গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৭৫২টি। কালো গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার ৭৮৮টি। একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭৫টি। জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম, বিশেষ করে সুমাত্রান গণ্ডার অত্যন্ত বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
গণ্ডারের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর মধ্যে একটি হলো অবৈধ শিকার। মূলত শিংয়ের জন্য শিকারিরা গণ্ডারকে হত্যা করে। গণ্ডারের শিং কেরাটিন নামক একটি উপাদানে তৈরি, যা মানুষের চুল ও নখের মধ্যে পাওয়া যায়।
গণ্ডারের শিং বিভিন্ন প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি থাকলেও এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও, শিংয়ের চাহিদার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গণ্ডার অবৈধ শিকারের শিকার হয়।
গণ্ডারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো সহজ নয়। আফ্রিকান গণ্ডারের গর্ভধারণের সময় প্রায় ১৬ মাস। সাধারণত তারা দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয়। অতিরিক্ত শিকার বা অন্য কোনো কারণে গণ্ডারের সংখ্যা কমে গেলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয় না।
তবে গণ্ডার সংরক্ষণে কিছু আশার খবরও রয়েছে। সংরক্ষণ উদ্যোগের ফলে কিছু অঞ্চলে কালো গণ্ডার ও একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা বেড়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় গণ্ডারকে তাদের পুরনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশ্ব গন্ডার দিবস উপলক্ষে গণ্ডারের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গণ্ডার একসময় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিচরণ করত। বর্তমানে তারা মূলত আফ্রিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের সুরক্ষিত এলাকা এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
প্রায় ২৭ হাজার গণ্ডারকে পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখতে অবৈধ শিকার বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোর সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান এবং তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত করা হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর মরদেহ উত্তোলনের নির্দিষ্ট সময় জানানো হবে।
ফয়েজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে। মৃত্যুর কারণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্যই ময়নাতদন্তের এই পদক্ষেপ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের সময় সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান জনরোষের মুখে পড়েন। প্রথমে বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজার এলাকায় তাদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখান থেকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হলেও পরে বাগড়া বাজার এলাকায় আবারও জনতার মুখোমুখি হন তারা। সেখানে গণপিটুনিতে সেলিম খান ও শান্ত খান নিহত হন।
স্থানীয়রা পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই সময়ের পরিস্থিতির কারণে তাদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেলিম খান চাঁদপুর নৌ-সীমানায় পদ্মা-মেঘনা নদীতে শত শত ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। এসব ঘটনায় তিনি জেল খাটেন এবং দুদকে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দায় একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের সাবাইহাট সিন্দুরপানিয়া ব্রিজের ওপর এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ফারুক হোসেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সাবাইহাট সিন্দুরপানিয়া ব্রিজের উপর দিয়ে চার্জারভ্যান চালানোর সময় ফারুক হোসেনের ভ্যানটিকে চাপা দেয় ‘গীত পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস। এই ঘটনায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মান্দা থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর সাপের কামড়ে মরিয়ম খাতুন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
এটি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামে ঘটে।
নিহত মরিয়ম উপজেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামের সজিব হোসেনের কন্যা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কয়েক দিন আগে মরিয়ম তার মায়ের সঙ্গে হরিহরা গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সে মায়ের পাশেই একটি ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। মধ্যরাতের দিকে কোনো এক সময় একটি বিষধর সাপ তার শরীরে ছোবল দেয়। তবে শিশুটি বা তার পরিবার ঘুমন্ত অবস্থায় বিষয়টি বুঝতে পারেনি।
ভোররাতে শারীরিক অসুস্থতা ও প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হলে মরিয়ম কান্নাকাটি করতে থাকে। পরে স্বজনরা তার শরীর ও পায়ের চিহ্ন দেখে সাপের কামড়ের বিষয়টি বুঝতে পারেন।
এরপর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয় বেশ কিছুটা দেরিতে। তার শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা বিষমুক্ত করার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, গ্রামাঞ্চলে বর্ষা ও এর পরবর্তী সময়ে বিষধর সাপের উপদ্রব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। তাই ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং সাপে কাটলে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি মসজিদের ভেতরে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হয়েছেন ইয়ানবী (৩২) নামে এক যুবক। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বরাবো ভড়ভিটা এলাকার হাজী আব্দুর রহমান জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে। রাতের দিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবককে পুলিশে সোপর্দ করেন।
আটককৃত ইয়ানবী বরাবো ভড়ভিটা এলাকার অধিবাসী।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানবী নামের যুবক সোমবার বিকেলে মসজিদে প্রবেশ করে কোরআন শরীফের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করেন। পরে তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে স্থানীয় জনগণ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করে আটক করেন। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসে ওই যুবককে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, ইয়ানবী মাদকাসক্ত এবং মানসিকভাবে অসুস্থ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তার মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, কোরআন অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে ওই যুবককে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ