বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো এই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির জানান, প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সমস্যা এবং সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনবেন। প্রয়োজনে তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও আশ্বাস দেবেন।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যেখানে পরিবারের সদস্যদের অভিজ্ঞতা এবং চাহিদাগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগে পরিবারটি আশা প্রকাশ করছে যে, তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একদিন পর মো. মারুফ (২১) নামে এক তরুণের মরদেহ পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১০টার সময় উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির পাশে একটি পুকুরপাড় থেকে মারুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মারুফ ওই এলাকার মো. রিপনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে মারুফ নিজের মোবাইল ভেঙে ফেলেন। পরে তিনি তার জামাকাপড় একটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে মারুফ আর বাড়িতে ফিরে আসেননি, তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
বুধবার রাতে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতসংলগ্ন পুকুরপাড়ে মারুফের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সেনবাগ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় গলায় গামছা বাঁধা মরদেহটি পুকুর পাড় ও ধানক্ষেতের মধ্যে পড়ে আছে। গামছার একটি অংশ পুকুর পাড়ে গাছের ডালের মধ্যে বাঁধা ছিল, এবং ওপর অংশ মরদেহের গলায় পেঁচানো ছিল। গলায় থাকা গামছাটি পুরোনো হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আবরারকে হত্যার পর শিশির মনিরদের ভূমিকা কী ছিল, তারা কেন নীবর ছিলেন। কারণ তারা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আসামিদের পক্ষে মামলা লড়ার কারণে সামাজিক মাধ্যমে তাকে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। তবে গত বছরের শুরুতে ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে আববার হত্যা মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ভবিষ্যতে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির, বিষয়টি কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন আবরার ফাহাদের বাবা। আবরার ফাহাদকে শিবির তকমা দিয়ে হত্যা করা হলে তার বিচারের দাবিতে সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।
২০১৮-২০২৪ পর্যন্ত ভিপি নুর ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ।
‘আর শিশির মনিররা ছিলেন আবরার ফাহাদের খুনি ছাত্রলীগের পক্ষের কাপুরুষ। ছাত্রশিবির তখন ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিল! আমরাও সবাই যদি এভাবে কায়দা করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতাম, তবে আবরার ফাহাদ হত্যার পরে প্রতিবাদের জন্য একটা লোক রাস্তায় পাওয়া যেতো না!’
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে বর্তমান শিবিরের ভিপি-জিএসদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তারা ছিলেন হল ও ডিপার্টমেন্ট পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা। আজকে ভিপি নুরকে নিয়ে জামায়াত-শিবির গালিগালাজ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে এক ভিপি নুরের যে অবদান আছে, পুরো জামায়াত-শিবিরের সেই অবদান নেই।
তিনি বলেন, ১৮-২৪ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের এই কঠিন সময়ে ভিপি নুর একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী তরুণ নেতৃত্বর নাম। জামায়াত-শিবির আরও ১০০ জন সাদিক কায়েম জন্ম দিলেও একজন ভিপি নুরের একশো ভাগের এক ভাগ হতে পারবে না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি ঠিক কোন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করতেন, কিংবা আদৌ তার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। যদিও বলা হয়ে থাকে, শিবির তকমা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কিছু নেতাকর্মী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির উল্লেখ করেছেন, ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও দেশের জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘রিথিংক ওয়াটার ফিউচার, ইয়ুথ লিডারশিপ, জাস্টিস অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য ও মানব নিরাপত্তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি আইন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টন সরাসরি সম্পর্কিত। এজন্য পানি ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, পানি ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ কূটনীতি, ন্যায়বিচার ও মানব নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার পাশাপাশি পানি সুশাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
হুমায়ূন কবির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য। আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বিষয় হিসেবে থাকবে।
সভায় পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী সংরক্ষণ এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টনে তরুণদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৭৫ বছর।
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে সব চেষ্টা শেষে, শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নানা পাটেকারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু বলিউড বা মারাঠি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় অভিনয়জগতের প্রতিটি স্তরে। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি পেয়েছেন আলাদা পরিচিতি।
২০১৫ সালে অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে মিলে NAAM Foundation প্রতিষ্ঠা করেন নানা পাটেকার। কৃষক আত্মহত্যা, খরা, জলসংকট ও গ্রামীণ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগের শুরুটা হঠাৎ করে হয়নি। মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক পরিবারগুলোর দুর্দশা দেখে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করেছিলেন নানা ও মকরন্দ। পরে সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগই সাংগঠনিক রূপ নেয়।
সময়ের সঙ্গে NAAM Foundation-এর কার্যক্রমও বিস্তৃত হয়েছে। কৃষক পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জল সংরক্ষণ, জলাধার ও খাল পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ শুরু করে সংগঠনটি।
নানা পাটেকারের কাছে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো ছিল শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সাহায্যের বিষয় নয়। জলসংকট ও কৃষকের দুর্দশার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তার সমাজসেবার বড় অংশজুড়ে ছিল পানি সংরক্ষণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন।
অভিনয়জগতেও নানা পাটেকার ছিলেন স্বতন্ত্র এক নাম। প্রচলিত অর্থে নায়ক না হয়েও, নিজের অভিনয়গুণে অসংখ্য চরিত্রকে নায়কোচিত করে তুলেছেন তিনি। কখনও তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে রাগ, কখনও প্রতিবাদ, আবার কখনও অসহায় মানুষের আর্তি। বাস্তব জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার ছাপ তার অভিনয়কে দিয়েছে আলাদা গভীরতা।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকার। সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তার ছিল বিশেষ সম্পর্ক। তবে কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক ভূমিকা তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
নানা পাটেকার চলে যাওয়া শুধুমাত্র একজন শক্তিমান অভিনেতার বিদায় নয়, বরং একজন সমাজসেবী ও কৃষকের অকৃত্রিম সহযাত্রীরও বিদায়। অভিনয়ের পর্দার বাইরেও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া নানা পাটেকার এই অধ্যায়ই হয়তো তাকে দীর্ঘদিন আলাদা করে মনে রাখার অন্যতম কারণ হয়ে থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ