ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘শিশির মনিররা কাপুরুষ, শিবির তখন ছাত্রলীগ হয়ে ছিল’


‘শিশির মনিররা কাপুরুষ, শিবির তখন ছাত্রলীগ হয়ে ছিল’

বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আবরারকে হত্যার পর শিশির মনিরদের ভূমিকা কী ছিল, তারা কেন নীবর ছিলেন। কারণ তারা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আসামিদের পক্ষে মামলা লড়ার কারণে সামাজিক মাধ্যমে তাকে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। তবে গত বছরের শুরুতে ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে আববার হত্যা মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ভবিষ্যতে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির, বিষয়টি কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন আবরার ফাহাদের বাবা। আবরার ফাহাদকে শিবির তকমা দিয়ে হত্যা করা হলে তার বিচারের দাবিতে সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।

২০১৮-২০২৪ পর্যন্ত ভিপি নুর ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ।

‘আর শিশির মনিররা ছিলেন আবরার ফাহাদের খুনি ছাত্রলীগের পক্ষের কাপুরুষ। ছাত্রশিবির তখন ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিল! আমরাও সবাই যদি এভাবে কায়দা করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতাম, তবে আবরার ফাহাদ হত্যার পরে প্রতিবাদের জন্য একটা লোক রাস্তায় পাওয়া যেতো না!’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে বর্তমান শিবিরের ভিপি-জিএসদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তারা ছিলেন হল ও ডিপার্টমেন্ট পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা। আজকে ভিপি নুরকে নিয়ে জামায়াত-শিবির গালিগালাজ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে এক ভিপি নুরের যে অবদান আছে, পুরো জামায়াত-শিবিরের সেই অবদান নেই।

তিনি বলেন, ১৮-২৪ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের এই কঠিন সময়ে ভিপি নুর একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী তরুণ নেতৃত্বর নাম। জামায়াত-শিবির আরও ১০০ জন সাদিক কায়েম জন্ম দিলেও একজন ভিপি নুরের একশো ভাগের এক ভাগ হতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি ঠিক কোন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করতেন, কিংবা আদৌ তার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। যদিও বলা হয়ে থাকে, শিবির তকমা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কিছু নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ছাড় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ছাড় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির উল্লেখ করেছেন, ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও দেশের জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘রিথিংক ওয়াটার ফিউচার, ইয়ুথ লিডারশিপ, জাস্টিস অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য ও মানব নিরাপত্তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি আইন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টন সরাসরি সম্পর্কিত। এজন্য পানি ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, পানি ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ কূটনীতি, ন্যায়বিচার ও মানব নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার পাশাপাশি পানি সুশাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

হুমায়ূন কবির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য। আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বিষয় হিসেবে থাকবে।

সভায় পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী সংরক্ষণ এবং আন্তঃসীমান্ত পানির ন্যায্য বণ্টনে তরুণদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানার কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো অজানা মানবিক গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


নানার কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো অজানা মানবিক গল্প

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৭৫ বছর।

হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে সব চেষ্টা শেষে, শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নানা পাটেকারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু বলিউড বা মারাঠি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় অভিনয়জগতের প্রতিটি স্তরে। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি পেয়েছেন আলাদা পরিচিতি।

২০১৫ সালে অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে মিলে NAAM Foundation প্রতিষ্ঠা করেন নানা পাটেকার। কৃষক আত্মহত্যা, খরা, জলসংকট ও গ্রামীণ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগের শুরুটা হঠাৎ করে হয়নি। মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষক পরিবারগুলোর দুর্দশা দেখে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করেছিলেন নানা ও মকরন্দ। পরে সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগই সাংগঠনিক রূপ নেয়।

সময়ের সঙ্গে NAAM Foundation-এর কার্যক্রমও বিস্তৃত হয়েছে। কৃষক পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জল সংরক্ষণ, জলাধার ও খাল পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ শুরু করে সংগঠনটি।

নানা পাটেকারের কাছে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো ছিল শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সাহায্যের বিষয় নয়। জলসংকট ও কৃষকের দুর্দশার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তার সমাজসেবার বড় অংশজুড়ে ছিল পানি সংরক্ষণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন।

অভিনয়জগতেও নানা পাটেকার ছিলেন স্বতন্ত্র এক নাম। প্রচলিত অর্থে নায়ক না হয়েও, নিজের অভিনয়গুণে অসংখ্য চরিত্রকে নায়কোচিত করে তুলেছেন তিনি। কখনও তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে রাগ, কখনও প্রতিবাদ, আবার কখনও অসহায় মানুষের আর্তি। বাস্তব জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার ছাপ তার অভিনয়কে দিয়েছে আলাদা গভীরতা।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকার। সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তার ছিল বিশেষ সম্পর্ক। তবে কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক ভূমিকা তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

নানা পাটেকার চলে যাওয়া শুধুমাত্র একজন শক্তিমান অভিনেতার বিদায় নয়, বরং একজন সমাজসেবী ও কৃষকের অকৃত্রিম সহযাত্রীরও বিদায়। অভিনয়ের পর্দার বাইরেও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া নানা পাটেকার এই অধ্যায়ই হয়তো তাকে দীর্ঘদিন আলাদা করে মনে রাখার অন্যতম কারণ হয়ে থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

কোস্টগার্ডের অভিযানে সুন্দরবনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এই তথ্য জানালেন কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শওকত আহমেদ।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড "অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন" ও "অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড" নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, একটি ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবনের শেলা নদী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৭ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৬টি একনলা বন্দুক, ৩টি এয়ারগান, ১টি পাইপগানের ট্রিগার এবং ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‎

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের বড় সাফল্য: ৭ মাসে ৩২ কূপ খননে বিপুল গ্যাস পাওয়া গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


সরকারের বড় সাফল্য: ৭ মাসে ৩২ কূপ খননে বিপুল গ্যাস পাওয়া গেছে

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে গতি এসেছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সাত মাসে ৩২টি কূপ খননের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খনন করার উদ্যোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানিনির্ভরতার চাপও কমবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৩২টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি কূপ রয়েছে— বিয়ানীবাজার-১, বিয়ানীবাজার-২, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, কৈলাশটিলা-৭, কৈলাশটিলা-৮, রশিদপুর-৩, রশিদপুর-৫, রশিদপুর-১১, সিলেট-৭, সিলেট-১০, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স এবং রশিদপুর-২।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১১টি কূপ হলো— টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ এবং রূপগঞ্জ-১।

অন্যদিকে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাতটি কূপ হলো— তিতাস-১৪, তিতাস-১৬, তিতাস-২৪, তিতাস-২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ এবং কামতা-২।

পেট্রোবাংলা জানায়, সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে ৩২টি কূপ থেকে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার রিজার্ভার এন্ড ডাটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এর পুরোটা এখনও কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে। এগুলো হলো— রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি নাগাদ এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

খননকাজ সম্পন্ন হলে এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্টের সক্ষমতার ভিত্তিতে এ গ্যাসের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, "সরকারের দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতে আমদানি করা এলএনজির ওপর দেশের নির্ভরতা কমানোর একটি উদ্যোগ।" তিনি আরও বলেন, "নতুন গ্যাস যাতে সময়মতো জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন করে গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর তা গ্রিডে সরবরাহের অবকাঠামোর অভাবে যেন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিষয়টি জরুরি, কারণ বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ইতোমধ্যে প্রতিদিন ১ হাজার এমএমসিএফেরও বেশি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। এজন্য বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে মোট ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করেছে। একইসঙ্গে নতুন কূপের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণে সার্ভে কার্যক্রম চলছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্থানে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ দেশীয় উৎস থেকে এবং ৯০০ থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশীয় উৎসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৬৬ এমএমসিএফ থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৭০০ এমএমসিএফে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) থেকে দৈনিক প্রায় ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, "দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।" তিনি জানান, "ইতোমধ্যে ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।"

তিনি জানান, "আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।" পাশাপাশি ১৯টি প্রকল্প চলমান এবং আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং পরবর্তী ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%