ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘অটোপাসের’ অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করার অঙ্গীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


‘অটোপাসের’ অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করার অঙ্গীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয়ভাবে একটি শিক্ষিত, মেধাভিত্তিক এবং শক্তিশালী জাতি গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে আপসহীন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি উল্লেখ করেন, নকলমুক্ত এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ‘অটোপাস’ বা ঢালাওভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো দাবি বা অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, কিছু স্পটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার পেছনে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত নির্দিষ্ট কিছু মহলের ইন্ধন রয়েছে এবং এমনকি আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকে প্রকৃত পরীক্ষার্থী বা ছাত্রছাত্রীও নন।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যে সব শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ত্রুটি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের যথোপযুক্ত নম্বর (ক্রেডিট) দেয়ার ঘোষণা দেয়াও করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ছড়ানো ছবি ও ভিডিওগুলোকে ‘ডিইনফরমেশন’ বা অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আরব আমিরাতে (ইউএই) একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ ওসমান শরীফ হাদি হত্যা মামলার আসামিরাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ও ওয়ারেন্টের কপি পাঠানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী সে দেশে আটক আসামিদেরও দ্রুত ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় আদালতে বেআইনি অনুপ্রবেশের মামলার কারণে ভারত কিছুটা সময় নিলেও চুক্তি অনুযায়ী মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেও আসামিদের প্রত্যর্পণ সম্ভব।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

জুলাই-আগস্ট ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার পতনের প্রাক্কালে হাসপাতাল থেকে বহু নথিপত্র গায়েব, চিকিৎসায় বাধা এবং লাশ গুম করার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা প্রায় ১৪০০ বলা হলেও সরকারের ধারণা এই সংখ্যা ২০০০-এর অধিক। বর্তমানে ডিএনএ টেস্ট ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে নথিবদ্ধ শহীদদের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি শহীদ ও আহতদের সুনির্দিষ্ট গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আহতদের ক, খ ও গ—এই তিন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ পি.এম


কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ Islam সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সাথে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে নেয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ আমরা সকলে ভাই ভাই, আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ধরে এভাবেই চলে আসছে। আগামী প্রজন্মও ঠিক আমাদের মতোই মিলেমিশে থাকবে।'

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, 'নির্বাচনের আগে আমাদের ইশতেহারে রংধনুর কথা উল্লেখ ছিল। সাতটি রং নিয়ে যেমন রংধনু হয়, ঠিক তেমনি আমাদের দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও জাতি রয়েছে। আমরা সবাই মিলে এক বাংলাদেশ হয়ে থাকব।'

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কখনো ধর্ম নিয়ে বিভেদ করে না। কোনো বৈষম্য করে না, আমাদের কাছে সবাই সমান। আমরা সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করি না। সবাই মিলে একসঙ্গে দেশ গড়ব, এটাই আমাদের বিশ্বাস।'

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা যাবে না। কেউ যদি নষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে যেই হোক না কেন।'

এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, 'যারা জীবন দিয়ে আজকের এই দিনটিকে এনেছে, আমি তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহত জুলাই যোদ্ধা যারা রয়েছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশে নেয়া হবে।'

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি), নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটের সভাপতি আব্দুলাহ, সেক্রেটারি সোহেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৫ পি.এম


বাগেরহাটের সভাপতি আব্দুলাহ, সেক্রেটারি সোহেল

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি বাগেরহাট জেলার ২০২৬ সালের বাকি সেশনের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটির নতুন জেলা সভাপতি আহমেদ আব্দুল্লাহ মনোনীত হয়েছেন এবং সেক্রেটারি হিসেবে সোহেল রানা নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার, ১৫ জুলাই, বাগেরহাট খানজাহান আলী ট্রাস্টের হল রুমে একটি দায়িত্বশীল সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ তাদের নাম ঘোষণা করেন।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২৬ সালরের বাকি সেশনের সভাপতি এবং জেলা সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সেক্রেটারি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এদিকে, এর আগে ২০২৫-২৬ সালের সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাফেজ মোর্শেদ আলম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় সিলেটে পালিত জুলাই শহীদ দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় সিলেটে পালিত জুলাই শহীদ দিবস

সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় আহতদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহিদ পরিবারের সার্বিক কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এ আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিসিক প্রশাসক বলেন, 'দীর্ঘ ১৭ বছরের অন্যায়, অবিচার, নিপীড়ন, গুম ও হত্যার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের পুঞ্জীভূত সফলতা আসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। এই আন্দোলনে দলমত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।'

আন্দোলনের শহিদ ও আহতদের অবদান স্মরণ করে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহিদ পরিবারের সার্বিক কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্র তাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।' একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের চেতনা তুলে ধরার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিউক চেয়ারম্যান বলেন, 'জুলাই আন্দোলন জাতিকে ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের অপশাসন থেকে মুক্তি সম্ভব হয়েছে।' ভবিষ্যতে যেন কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পথে না হাঁটে, সে জন্য দায়ীদের বিচারের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, 'প্রকৃত কোনো আহত জুলাই যোদ্ধা তালিকার বাইরে থাকলে যাচাই-বাছাই করে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।' তিনি শহিদ পরিবার ও আহতদের প্রতি সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুর রফিক, জুলাই যোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি লিটন আহমদ, আমরা জুলাই যোদ্ধা মহানগর শাখার সদস্যসচিব আবদুল মতিন, শহিদ পরিবারের সদস্য সাইফ আলম ও মো. রফিক উদ্দিন বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন, শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নগরীর রিকাবীবাজারস্থ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিডিও ফাঁসের ভয়, জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যার নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ভিডিও ফাঁসের ভয়, জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যার নেপথ্যে কী?

হত্যার ঘটনার আগের রাত পর্যন্ত জোবায়েদ ও তার সহযোগীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। ঘটনার দিন আসলে ওই ছাত্রকে পড়াতে গৃহশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসাইন। কিন্তু তিনি ওই বাসা থেকে আর জীবিত ফিরে আসেননি। প্রায় ৯ মাসের তদন্তের পর পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে তার হত্যা করা হয়েছে।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই ছিল এ হত্যার মূল কারণ। নজরদারি, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, অস্ত্র কেনা, গতিবিধি অনুসরণসহ সব প্রস্তুতি শেষে তার হত্যা সম্পন্ন হয়।

প্রায় ৯ মাসের তদন্তের শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত হিসেবে বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), তার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে (২১) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং আয়লান ছিলেন সহযোগী। অভিযোগপত্রে ৫০ জনের সাক্ষ্যের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক আলামতের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা নামের এক বাসার সিঁড়ি থেকে পুলিশ জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ভবনে তাকে বর্ষা পড়াতেন। একদিন পর মৃত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জোবায়েদ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন এবং ফরাশগঞ্জে মেসে বসবাস করতেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বর্ষা ও মাহির ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে চিনতেন এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মোবাইল ফরেনসিক বিশ্লেষণে জোবায়েদ ও বর্ষার অন্তরঙ্গ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মাহিরের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক আবার শুরু হলে, জোবায়েদের কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা তাঁকে 'হুমকি' হিসেবে দেখছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উঠে এসেছে, এ কারণেই গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তারা জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনায় লিপ্ত হন। এক মাস ধরে বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করে শেষ পর্যন্ত হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্তে জানা যায়, হত্যার ৮ থেকে ৯ দিন আগে মাহির ও তাঁর বন্ধু আয়লান ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন। পরে দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি কেনেন। কয়েকদিন ধরে জোবায়েদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্ষা নিয়মিত জোবায়েদের টিউশনে আসা যাওয়ার তথ্য মাহিরকে জানাতেন। ১৯ অক্টোবর ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে জোবায়েদ নিজের লাইভ লোকেশন বর্ষাকে পাঠান। এই তথ্য পাওয়ার পরেই মাহির ও আয়লান হামলা চালান।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, জোবায়েদের ঘাড়ে প্রায় ১০ ইঞ্চি লম্বা সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। ফরেনসিক প্রতিবেদনের তথ্য থেকে জানা যায়, ছুরির আঘাতে জোবায়েদের গলার ডান পাশের ক্যারোটিড আর্টারি ও ইন্টারনাল জুগুলার ভেইন ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া ছুরিতে মাহিরের ডিএনএ পাওয়া যায়।

অভিযোগপত্রে মাহিরের দেওয়া জবানবন্দির উদ্ধৃতি রয়েছে। সেখানে মাহির বলেছেন, বর্ষা তাকে নিয়মিত জোবায়েদকে হত্যা করতে চাপ দিতেন। ধরা পড়লে কি হবে—এমন প্রশ্ন করলে বর্ষা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, তাদের পরিবারে অনেক আইনজীবী আছেন।

মাহির তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘মারার পর ধরা পড়লে সামলাবো কেমনে—বর্ষাকে এই প্রশ্ন করলে বর্ষা উত্তর দেয়, তাঁর (বর্ষার) বাসায় অনেক অ্যাডভোকেট আছেন। কোথায় মারা যায়? এই প্রশ্নে বর্ষা জানায়, বর্ষার বাসার নিচে সুনশান নীরবতা, সেখানে মারলে সুবিধা হবে। বর্ষা আমাকে প্রতিনিয়ত মারার জন্য চাপ দিত। ঘটনার দিন ১৯ অক্টোবর বেলা ১টার দিকে বর্ষা আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘কখন মারবা।’

জবানবন্দি অনুযায়ী, জোবায়েদ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বর্ষার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মাহির ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে আঘাত করেন। তিনি আয়লানকে ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসতে বললে আয়লান যাননি।

তদন্তে দেখা যায়, হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েদ কোনোভাবে সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠে বর্ষার সামনে হাজির হন এবং তাকে বাঁচানোর আকুতি জানালে বর্ষা তাকে বলেন, তোর মতো পাপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়া উচিত।

পুলিশের দাবি, হত্যার কয়েকদিন আগেই মাহির ও আয়লান জোবায়েদকে সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন। বর্ষাকে আর না পড়ানোর জন্য সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু জোবায়েদ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আশরাফ হোসেন বলেন, হত্যার আগের রাত পর্যন্তও বর্ষা ও জোবায়েদের মধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকার মতো কথোপকথন ছিল। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্ষা খুব ধূর্তভাবে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। ফলে জোবায়েদ কোনোভাবে হত্যার পরিকল্পনার আভাস পাননি।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি ১৩ জুলাই জিআরও শাখায় পৌঁছেছে। সেই দিন যথাসময়ে উপস্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় আগামী ১২ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের নতুন সময় নির্ধারণ করেছে আদালত।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু।

তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে দেওয়া ডিএনএ প্রতিবেদন মাহিরের সঙ্গে মিলে গেছে। এছাড়া অভিযোগপত্রে তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার সুযোগ নেই। কেউই ছাড় পাবেন না।

অভিযুক্ত বর্ষার মা আনিকা রহমান ১৪ জুলাই বলেন, আমি আগেই বলেছি, আমার মেয়ে নির্দোষ। এখনো বলছি, আমার মেয়ে নির্দোষ।

এদিকে জোবায়েদের বড় ভাই ও মামলার বাদী এনায়েত হোসেন বলেন, অভিযোগপত্রে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%