সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৭ পি.এম
গ্যাসের দীর্ঘ সংকটের পর অবশেষে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। ইতোমধ্যে কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে এবং কারিগরি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই মূল ইউরিয়া সার উৎপাদনে যাচ্ছে চট্টগ্রাম আনোয়ারার এই সার কারখানাটি।
সার কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরিয়া উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যান্টটি বন্ধ থাকায় ইউরিয়া ইউনিটের কিছু পাইপলাইন ও যন্ত্রাংশে সাধারণ মেরামত ও সুরক্ষামূলক তদারকি করা হচ্ছে। এসব মেকানিক্যাল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ইউরিয়া উৎপাদন পুরোদমে শুরু হবে।
সিইউএফএলের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, কারখানাটি প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে। গ্যাস পাওয়ার পরপরই অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ইউরিয়া প্ল্যান্টের সাময়িক যান্ত্রিক প্রস্তুতি শেষ করে শিগগিরই কারখানার সার্বিক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্দেশনার আলোকে কৃষিভিত্তিক শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে সার ও বিদ্যুৎ খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে সিইউএফএলে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পৌঁছানো হচ্ছে এবং প্ল্যান্ট চালু রাখা সাপেক্ষে গ্যাসের যোগান আরও বাড়ানো সম্ভব।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক পরিচালিত এই কারখানায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার টন ইউরিয়া সার তৈরি হয়। কারখানাটি পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরলে তা দেশের কৃষিখাতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় একটি গরুর খামার ও খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত কার্যক্রমের ফলে আশপাশের বসতঘর ও অন্যান্য স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে, উপজেলার কোলাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকশা এলাকায়। আগুনে মো. সোহেল শেখের গরুর খামারের কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত একটি ঘর এবং খড়ের গাদা পুড়ে যায়।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় খামারে থাকা গরুগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে কোনো ব্যক্তি হতাহত হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে তা আশপাশের বসতঘর ও অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি দূরপাল্লার বাসের চাপায় ১০ বছর বয়সী ঈশা দাশ নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মিঠাদিঘি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ঈশা দাশ সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাশপাড়া এলাকার সুনিল কান্তি দাশের কন্যা। তিনি ছদাহা কেয়াফাত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, দুপুরের সময় একটি দূরপাল্লার বাস ঈশা দাশকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কেরানিহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম নগরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ্ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, বাসচাপায় স্কুলছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল কোনো আমেরিকান খেলোয়াড়ের জন্য। তবে সেই সম্ভাবনা পূরণ করতে পারলেন না বেন শেল্টন। ফাইনালে জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভের কাছে পরাজিত হয়ে স্বপ্নভঙ্গ হলো এই আমেরিকান তরুণের।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শেল্টনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতলেন জভেরেভ।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপটের সঙ্গে খেলতে শুরু করেন জার্মান তারকা। প্রথম সেটটি ৬-৩ ব্যবধানে জিতে নেন তিনি। দ্বিতীয় সেটেও টাইব্রেকারে ৭-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে শিরোপার আরও কাছে পৌঁছান জভেরেভ।
তবে তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন শেল্টন। লড়াই জমিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ৭-৫ ব্যবধানে সেটটি জিতে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। এতে আমেরিকান তারকার সামনে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কিন্তু চতুর্থ সেটে আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি শেল্টন। ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচ ও শিরোপা নিশ্চিত করেন জভেরেভ।
শেল্টনের এই পরাজয়ের ফলে আমেরিকান পুরুষ টেনিসের গ্র্যান্ড স্লাম-খরা আরও দীর্ঘ হলো। সর্বশেষ ২০০৩ সালে ইউএস ওপেন জিতেছিলেন অ্যান্ডি রডিক। এরপর থেকে কোনো আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্লামের শিরোপা জিততে পারেননি।
এবার শেল্টনের সামনে ছিল সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর বড় সুযোগ। কিন্তু ফাইনালে জভেরেভের কাছে পরাজিত হয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হলো ২৩ বছর বয়সী এই আমেরিকানের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যৌথভাবে যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করতে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্দেশ্যে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের পাঁচ তারকা হোটেল ‘সেন্ট ডেভিডস’-এ একটি ঐতিহাসিক যৌথ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।
ব্রিটেনের গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভানেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। বৈঠকের শেষে নেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন, যেখানে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা গণভোটের অধিকার দাবি করা হবে।
এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যে যুক্তরাজ্যের তিনটি আঞ্চলিক (ডিভলভড) সরকারের নেতৃত্ব স্বাধীনতাপন্থি দলগুলোর হাতে রয়েছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি মন্তব্য করেন, তিন দেশে স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা টেকসই নয়। তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
কার্ডিফের এই বৈঠকে চারটি প্রধান স্তম্ভ—অর্থনীতি, জ্বালানি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নেতারা স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদান এবং আয়ারল্যান্ড পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ইইউতে ফেরার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এছাড়া ওয়েলসের কর ও নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও উত্থাপন করা হবে।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীনতা গণভোটের সুযোগ নেই। জন সুইনিকে পাঠানো এক চিঠিতে বার্নহাম উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে নির্বাচিত তার সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী স্বাধীনতা বা নতুন গণভোটের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়েছে।
এদিকে বৈঠকের দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাবলিন সফরে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঔপনিবেশিক শাসনামলে যুক্তরাজ্য যে ‘ভাগ করো শাসন করো’ নীতির মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সার্বভৌম রাজ্য ও সাম্রাজ্যকে বিচ্ছিন্ন বা বিভক্ত করেছিল, সেই একই ধরনের বিচ্ছিন্নতার সুর বর্তমানে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে প্রবল হয়ে উঠছে। যুক্তরাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও তিন দেশের নেতাদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের এই নজিরবিহীন ঐক্যবদ্ধ রূপরেখাকে বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা যুক্তরাজ্যের চূড়ান্ত ভাঙনের বার্তা হিসেবে দেখছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ