সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৯ পি.এম
বাংলাদেশে এসে বন্ধুদের বিয়েতে অংশগ্রহণ করতে মালয়েশিয়া থেকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পৌঁছেছেন চার মালয়েশীয় নাগরিক। তারা স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা, গ্রামীণ পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, তারা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রামে বন্ধু নাজমুল মৃধার বাড়িতে উপস্থিত হন। এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে কনের বাড়িতে চলে যান।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান, যেখানে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিকসহ চার মালয়েশীয় নাগরিক আগমন করেন।
তথ্য অনুযায়ী, মৃধাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল মৃধা প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন। দীর্ঘদিন কাজ করার পর, তিনি গত ১০ বছর ধরে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার কর্মদক্ষতা, সততা এবং ভালো আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সহকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি দেশে ফিরে একই গ্রামের জান্নাত আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। রোববার অনুষ্ঠিত বিয়েতে মালয়েশিয়ার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমন্ত্রণ জানান নাজমুল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চার মালয়েশীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মালয়েশীয় নাগরিক ইসমাঈল মন্তব্য করেন, "বন্ধু নাজমুল যখন আমাকে তার বিয়েতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখনই রাজি হয়ে যাই। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। তাই তার বিয়েতে সরাসরি অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল। এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।"
অন্য মালয়েশীয় নাগরিক জেসু বলেন, "নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে আমাদের বরণ করে নিয়েছেন। তাদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশে ফিরে গেলেও আবার বাংলাদেশে আসতে চাই।"
বন্ধুদের আগমনে উচ্ছ্বসিত নাজমুল মৃধা জানান, "প্রবাসজীবনে সততা, কর্মদক্ষতা ও ভালো আচরণ থাকলে মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়। মালয়েশিয়ায় যাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তাদের মধ্যে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিক অন্যতম। বর্তমানে আমরা একসঙ্গে ব্যবসাও করছি। আমার বিয়েতে তারা এসেছেন, এটি আমার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "প্রবাসে যারা আছেন, তারা যেন সব সময় সততা ও আদর্শের সঙ্গে কাজ করেন। আমাদের নীতি-আদর্শ ভালো হলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে বাংলাদেশের মানুষেরই লাভ হবে।"
কনে জান্নাত আক্তার বলেন, "তারা আমাদের বিয়েতে এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষও তাদের দেখতে ও কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিদেশি অতিথিরা আমাদের বিয়েতে আসায় আমাদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।"
এদিকে, চার মালয়েশীয় নাগরিকের উপস্থিতি ঘিরে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়। তাদের একনজর দেখতে ও ছবি তুলতে নাজমুলের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের অনেক মানুষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় তিন সহপাঠী স্কুলছাত্রী। কিন্তু তারা স্কুলে না গিয়ে প্রথমে পাবনা বাস টার্মিনালে চলে যায়। সেখান থেকে বাসে নাটোর, এরপর রংপুর হয়ে কুড়িগ্রাম পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকার দিকে যাওয়া। তবে অপরিচিত এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলায় তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় উদ্ধার করা হয় তিন স্কুলছাত্রীকে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা সদর থানা পুলিশ তিন কিশোরীকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনা ঘটে।
তিন কিশোরী পাবনা সদর উপজেলার চর আশুতোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং দুজন পরস্পরের আত্মীয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক। অভিভাবকদের মধ্যে কেউ ফার্নিচারের কাজ করেন, কেউ আবার ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, তিন কিশোরীর একজন দীর্ঘদিন ধরে নিজের চেহারা ও চোখের সমস্যা নিয়ে পরিবারের কাছ থেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছিল। এই কারণে তার মধ্যে ক্ষোভ ও অভিমান তৈরি হয়। একপর্যায়ে সে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার চিন্তা করতে শুরু করে। অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল BTS-এর প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। ওই কিশোরী সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তার দুই সহপাঠীকে জানায়। পরে তারাও তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনজন স্কুলে একত্র হয়। এরপর ক্লাসে না গিয়ে অটোরিকশায় করে পাবনার অনন্ত মোড় এলাকায় যায়। সেখান থেকে আরেকটি অটোরিকশায় পাবনা বাস টার্মিনালে পৌঁছে বাসে ওঠে। তারা বাসে প্রথমে নাটোরে যায়। সেখান থেকে রংপুর হয়ে পরে কুড়িগ্রামে পৌঁছায়।
পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাদের একজন পরিবারের গচ্ছিত প্রায় এক লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে তিন কিশোরী রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে। এ সময় খুঁজতে খুঁজতে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের।
ওই মহল্লায় বসবাস করেন কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজ উদ্দিন। তার স্ত্রী অপরিচিত তিন কিশোরীকে দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কিশোরীদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তিনি তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি এসআই তাজকে জানানো হলে তিনি ও তার স্ত্রী কৌশলে কিশোরীদের কাছ থেকে পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিশোরীদের অবস্থানের কথা জানান। একইসঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এদিকে তিন কিশোরী বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাদের সন্ধানে পাবনা সদর থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই বিদ্যালয়ের তিন নাবালিকা একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাদের উদ্ধারে তৎপর হয় পাবনা জেলা পুলিশ।
পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিন কিশোরীর অবস্থান নিশ্চিত করে পাবনা পুলিশ। কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ করে। কুড়িগ্রাম সদর থানার একজন উপ-পরিদর্শকের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় সংঘর্ষের পর বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং শ্রমিকদের মধ্যে চলাচল বন্ধ রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এই পরিস্থিতি দ্বিতীয় দিনের মতো চলমান রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলা ও আন্তঃজেলা রুটে বাস ও অটোরিকশা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসটার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। বাসগুলো সারি করে টার্মিনালে রাখা হয়েছে। একইভাবে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশাও ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। যাত্রীদের ব্যাটারিচালিত রিকশায় (ইজিবাইক) দূরের গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এর ফলে শহরের পার-নওগাঁ এলাকায় ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকেও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফেনীতে একটি বেসরকারি অফিসে কর্মরত আরমান হোসেন ছুটি নিয়ে বাড়ি আসছিলেন জরুরি কাজ সারতে। কিন্তু তিনি গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। আজ সকালে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, "গতকাল বাস ও অটোরিকশা বন্ধ থাকায় আমি গন্তব্যস্থলে যেতে পারিনি। আজকেও একই অবস্থা। বাস ও অটোরিকশা কিছুই চলছে না।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পরিবহন শ্রমিকদের কাছে মানুষ জিম্মি। এক শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আরেক সংগঠনের দ্বন্দ্ব এদের লেগেই থাকে। এসব দ্বন্দ্বের জেরে তারা পাবলিক পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে। প্রতিবারই পরিবহন শ্রমিকদের দাবি আদায়ে বলি হই আমরা সাধারণ মানুষ। কোনো সরকার, প্রশাসনই এদের সঙ্গে পারেনি। ভবিষ্যতেও মনে হয় না এদের হাত থেকে মানুষ রক্ষা পাবে।"
শহরের বালু ডাঙা বাসস্ট্যান্ডে রাজশাহীগামী যাত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, "আমার দুই মেয়ে রাজশাহীতে পড়াশোনা করে। এক মেয়ে খুব অসুস্থ। মেয়েকে দেখার জন্য সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস চলছে না। অটোরিকশাও বন্ধ। এতে চরম সমস্যায় পড়েছি। এখন চিন্তা করছি, সান্তাহার রেল স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে করে রাজশাহী যাব। এ ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।"
মান্দার যাত্রী খসরু বাসার বলেন, "কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ। এখন কীভাবে যাব, বুঝতেছি না। অটোরিকশা, বাস সবই বন্ধ আছে। আমরা সাধারণ যাত্রীরা সব সময় পরিবহনশ্রমিকদের কাছে জিম্মি। তাদের দাবির কোনো শেষ নেই।"
বাস ও অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাচালকের সঙ্গে মহন্ত পরিবহন নামে একটি বাসের চালক ও তার সহকারীর বাকবিতন্ডা হয়। এর পরিণতি হিসেবে শনিবার দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশাচালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে মহন্ত পরিবহনের বাস চালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে উদ্ধার করে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চালক রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই চালক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাসচালক ও তার সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে রোববার সকাল ৭টা থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা কয়েকটি সড়কে (নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া, ঢাকা রুটে) বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাস শ্রমিকেরা সড়কে অটোরিকশাও চলাচল করতে দিচ্ছে না। বাস শ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে যেসব অটোরিকশাচালক সড়কে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বাস শ্রমিকরা। গতকাল দিনভর প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে বাস শ্রমিকেরা।
জেলা অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল জানান, "গত শনিবার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি সিএনজিতে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বাস শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে গতকাল দুপুরে নজিপুরে অটোরিকশা ও বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এটা নিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক হয়নি। বাস শ্রমিকেরা রাস্তায় অটোরিকশা চলাচল করতে দিচ্ছে না। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে বাস শ্রমিকেরা।"
জানতে চাইলে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, "বাসের একজন চালক ও তার সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে বাস ধর্মঘট চলছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য গতকাল পুলিশ সুপারের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠন ও অটোরিকশা চালকদের সংগঠনের নেতাদের বৈঠক হয়েছে। আমাদের দাবি, বাস চালক ও তার সহকারীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।"
আরেকটি উল্লেখযোগ্য দাবি হচ্ছে, মহাসড়কে অটোরিকশাসহ সব ধরনের তিন চাকার যান বন্ধ রাখতে হবে। সরকারি আইন অনুযায়ী মহাসড়কে কোনো প্রকার তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ। প্রশাসন, বাস মালিক ও মোটর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অটোরিকশার চালকেরা মহাসড়কে জোর করে গাড়িয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সীমান্তের নিকটে অবস্থিত মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজারের কাছাকাছি সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হামলায় আরও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এবং স্থানীয় একটি ত্রাণ সংস্থা সোমবারের (২৮ সেপ্টেম্বর) হামলার খবর জানিয়েছে। স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অংও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সোমবার কিয়াউকতাও শহরে বিমান হামলা চালানো হয়।
ওয়াই হুন অং জানান, তার দল ওই এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হামলার স্থানটি মূল সংঘাত এলাকা থেকে অনেক দূরে ছিল এবং চলমান সংঘাতের সঙ্গে ওই এলাকার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। এরপর থেকে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
তবে বিমান হামলার বিষয়ে আরাকান আর্মি ও স্থানীয় ত্রাণকর্মীর দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্রের মন্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। দেশটির সরকার পূর্বে দাবি করেছে, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে।
আরাকান আর্মি ও ওয়াই হুন অংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ের প্রাণঘাতী বিমান হামলাগুলোর মধ্যে কিয়াউকতাওয়ের হামলাটি অন্যতম। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিম রাখাইনের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন। সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, যা মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
এই খসড়ায় প্রতি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার বিধান পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ধারা ৬৪ তে সংশোধনের জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধানের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হবে; যদি ১৫তম দিবসে সরকারি ছুটি থাকে, তবে পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে পারবে।
মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ