রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৯ পি.এম
ঢাকার ধামরাইয়ে এক ঘণ্টা আটক থাকার পর আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, যুবলীগ পরিচয়ে তাকে আটক করা হয়, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতা এসে দাবি করেন যে তিনি দলের কর্মী। তাদের হস্তক্ষেপের ফলে আবু বক্করকে মুক্তি দেওয়া হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের ধামরাই পৌর কমিটির অন্তত দুইজন নেতা জানান, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আবু ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ধামরাই পৌর যুবলীগের সভাপতি আমিনুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় পর্যন্ত তিনি যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
আটকের পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন জনি আবু বক্করকে নিজেদের কর্মী দাবি করেন। উল্লেখ্য, আবু বক্কর ও সাব্বির হোসেন দুজনই ধামরাইয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহকর্মী ছিলেন।
আবু বক্করকে আটক করার সময় একজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুবলীগের সম্পৃক্ততায় আবু বক্করকে আটক করেন ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক। পরে তাকে ধামরাই থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে আটক রাখা হয়। খবর পেয়ে সাব্বির হোসেন জনি ধামরাই থানায় আসেন এবং আবু বক্করকে বিজেপির কর্মী দাবি করে একটি কমিটির তালিকা দেখান।
ওই কমিটির তালিকার একটি প্যাডের ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তালিকায় ২১ সদস্যের নাম রয়েছে, যেখানে ৬ নম্বর ক্রমিকে মো. আবু নাম যুগ্ম আহ্বায়ক পদে উল্লেখ রয়েছে। প্যাডের ওপরে তারিখ দেওয়া হয়েছে ৪ আগস্ট ২০২৩। নিচে স্বাক্ষর রয়েছে ঢাকা জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের। তবে স্বাক্ষরের সঙ্গে কোনো তারিখ নেই।
যদিও আবু বক্কর সিদ্দিক যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকার কথা বললেও, তিনি প্রথমে জানান যে তিনি সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর তিনি জানতে চান, কোন পদে রয়েছেন।
আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, "ওসি ডাকছিল। পরে কিছুক্ষণ পরই চলে আসছি। আটক করে নাই।" পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে কখনো ছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "না না, বিজেপি আমি। প্রায় ৫-৭ বছর ধরে বিজেপি করি।"
গেল নির্বাচনের সময় নৌকার প্রচারের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করে একটি ছবি দেখা গেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আগে তো কত জায়গায় কত ছবি উঠাইছি।" বর্তমানে বিজেপির স্থানীয় কমিটিতে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি সহসভাপতি পদে আছেন। ওই কমিটি ২০২৩ সালে অনুমোদিত হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
তবে কমিটিতে কোনো সহসভাপতি পদ নেই জানালে, পরবর্তীতে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, "সহ সেক্রেটারি, তাই না?" বিজেপির কমিটি কতদিন হলো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "২৩ সালে বোধহয় কমিটি হয়েছে।" বর্তমান কমিটিতে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আছে, একটা প্রক্রিয়া চলছে।"
আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, "আবু নামে কাউকে আমি আটক করিনি। আবু বক্কর সিদ্দিক নামে একজনকে একটি তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি চলে গেছেন। তাকে এখানে আটক করা হয়নি।"
আবু বক্কর সিদ্দিককে যুবলীগের পরিচয়ে আটক করা হয়েছিল এবং পরে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, এমন তথ্যের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা, জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, "উনি যুবলীগ করেন কিনা, এ ধরনের বিষয় নিয়ে পরে কথা বলবো।" এরপর তিনি বিস্তারিত না বলে পরে কথা বলবেন বলে জানান। তিনি বলেন, "আপনি আমার স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।"
আবু বক্কর সিদ্দিককে আটকের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন জনি বলেন, "উনি যে কমিটি আছে ২০২৩ সাল থেকে তিনি সেই কমিটির তালিকা দেখাতে পারেননি। আর নতুন কিছু কর্মকর্তা বিষয়টি জানতেন না। পরে যাচাই করে দেখা যায়, তার কমিটির বিষয়টি ঠিক আছে।"
আবু বক্কর সিদ্দিক আগে যুবলীগ করতেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "যুবলীগ করত, হয়ত। আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ২০২৩ সালে।" যদিও আবু বক্কর সিদ্দিক ৫-৭ বছর ধরে বিজেপি করছেন বলে দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাব্বির হোসেন জনি বলেন, "২০২৩ সালে কমিটি হয়েছে। কমিটি পেয়েছি ২৩ সালের মাঝামাঝি।"
আবু বক্কর সিদ্দিক বিজেপিতে যুক্ত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন কিনা, ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে নৌকার পক্ষে প্রচার চালানোর একটি ছবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাব্বির হোসেন জনি বলেন, "বিষয়টি নিয়ে তিনি পরে কথা বলবেন।" পরে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে চান না। তবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আবু বক্কর সিদ্দিকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আবু বক্কর সিদ্দিককে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেছে এবং তিনি বিভিন্ন জায়গায় সভা করেছেন। পার্থ ভাইর সঙ্গেও ছবি আছে। এখনও অ্যাকটিভ আছে। পার্থ ভাই ভালোমতো চিনে।"
সাব্বির হোসেন জনি আরও বলেন, "একজন কোথায় কী করল, সবই তো আমি জানি না। স্থানীয় নির্বাচনগুলো এককভাবে করতে পারে।"
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, "একটা ভুল তথ্য ছিল। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, যে জন্য আনা হয়েছে, তথ্য মেলে না। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসআই এনামুল বলছে, এমন একটা তথ্য ছিল। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির নেতাদের ভাষ্যমতে, তিনি ৩-৪ বছর ধরে তাদের সঙ্গে জড়িত। কমিটি ২৩ সালে হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: সেলস অ্যাসোসিয়েট
লোকবল নিয়োগ: ৫০০ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি পাস
অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে ইনভেন্টরি বা মজুদ পণ্য গণনা, আপ-সেল ও ক্রস-সেলে দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর
চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
কর্মক্ষেত্র: আউটলেট
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৩২ বছর
কর্মস্থল হিসেবে বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ঢাকা (সাভার), দিনাজপুর, ফরিদপুর, ফেনী, যশোর (যশোর সদর), খুলনা, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, রাজশাহী ও রংপুর নির্ধারিত করা হয়েছে।
বেতন: ১০,০০০-১২,০০০ টাকা (মাসিক)
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে তিনজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অপর একজনের সম্পৃক্ততা নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে কামরুল হাসান (১৫) এবং সদর দক্ষিণের এলাহিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতীমকে নির্জন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, তুহিন মূলত অপ্রতিমের মায়ের আইফোনের দিকে নজর ছিল। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই ফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও তার বন্ধু কামরুল হাসান। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফাহাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুল হাসানও হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে জানা যায় এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরদিকে, গ্রেপ্তারকৃত সিয়ামের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ এবং গণপরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এর ধারাবাহিকতায়, মিরপুরের পল্লবীতে পরিস্থান পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিরামিক রোডে এই ঘটনা ঘটে।
পরিস্থান পরিবহনের মালিক খান মো. মহিতুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তার সাবেক ড্রাইভার ফোন করে তাকে জানায় যে, পরিস্থান বাসটিতে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে, তার বাসটি পুড়ে গেছে।
মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে বৃষ্টির মধ্যে সিরামিক রোডের সরকারি কলেজের পাশে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকাল সোয়া ৭টার থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে পার্কিং অবস্থায় পরিস্থান পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
একইদিন মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে হাইকোর্ট ও শিল্পকলা একাডেমির সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুর দেড়টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। আর হাইকোর্টের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে দুপুর সোয়া ১টার দিকে।
এর আগে, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার পরে রাজধানীর শাহবাগে তিন নেতার মাজারের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তার আগে সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়, যাতে ইবাদুর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালক আহত হন।
ককটেল বিস্ফোরণের এসব ঘটনার পাশাপাশি শনিবার সন্ধ্যা ও রাতে রাজধানীর মিরপুর, মধ্যবাড্ডা এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তিনটি বাস ও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সন্ধ্যায় মিরপুরে দুটি বাসে এবং মধ্যবাড্ডায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে সড়কের ওপর জব্দ করে রাখা একটি পিকআপে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এছাড়া, গত শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত নয়টি এলাকায় ১৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার, মগবাজার, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা ও নিউমার্কেট এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে। কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এদিকে, ঢাকায় দুইদিন ধরে চলমান এই ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মো. শাহীন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই রাজধানীতে এসব নাশকতা চালানো হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে জামায়াতের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলা শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা অনুভব করায় সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়। আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করেন।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে ভালো হয়ে যাবে বলে আলমগীর শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে নিপীড়ন করা হয়। এ ঘটনার পর কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে শিশুটি শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, ২০২২ সাল পর্যন্ত আলমগীর জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শনিবার রাতে মামলা করেন। ওই মামলায় রাতেই আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আজ দুপুরে আলমগীরকে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ