০৯:০৮ পি.এম
রাজধানীর মান্ডার গ্রিন মডেল টাউনের উন্নয়নকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট হাউজিং কোম্পানিকে আগামী ছয় মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয় তারা, তাহলে এলাকার মানুষের স্বার্থে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি জানিয়ে দেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর মান্ডার গ্রিন মডেল টাউনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যের সময় তিনি এসব কথা বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বছরের মধ্যে যদি আপনারা আপনাদের কাজগুলো করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা আমাদের জনগণকে নিয়ে এই এলাকার উন্নয়ন করার জন্য যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা নিতে বাধ্য হব।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
গ্রিন মডেল টাউনসহ কিছু আবাসিক এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার প্রসঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকার সব আবাসিক এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কিছু হাউজিং কোম্পানি চায় না এসব এলাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে আসুক। এর ফলে সেবা এবং উন্নয়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হাউজিং কোম্পানির কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন এই এলাকার উন্নয়ন আপনারা করেন। আর যদি ব্যর্থ হন, তবে জনগণের স্বার্থে আমরা বাধ্য হয়ে উন্নয়নকাজ হাতে নেব।’ তিনি জানিয়েছেন, প্লট বা জমির মালিকদের কাছ থেকে উন্নয়নের জন্য ৩৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও এখনও খেলার মাঠ, কবরস্থান, রাস্তা এবং কাঁচাবাজার তৈরি করা হয়নি। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা হাউজিং কোম্পানির দায়িত্ব।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, ‘রাজনীতি শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, সেবার জন্য। বিগত সরকারের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ছিল না, কারণ তারা ভোটে নির্বাচিত ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত, তাই আমরা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে বাধ্য।’
এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অনুষ্ঠানে এলাকার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী। অন্যান্য হাউজিং এলাকার মতো গ্রিন মডেল টাউনেও নিজস্ব ড্রেস ও ব্যবস্থাপনায় অভ্যন্তরীণ পরিবহন চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বর্জ্য সংগ্রহের অতিরিক্ত ফি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী গৃহস্থালি ময়লা বাবদ বাসাপ্রতি ১০০ টাকার বেশি নেয়া যাবে না। আগামী এক মাস পর এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে এবং অতিরিক্ত টাকা আদায়কারীদের বরাদ্দ বা অনুমতি বাতিল করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন