ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রংপুর মেডিকেল থেকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক


রংপুর মেডিকেল থেকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক

রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা সম্পন্ন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. সায়েরা হক। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ব্রুকলিনে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যার চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সায়েরা হক ১৯৯৫ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক পরিচিতিতে তার চিকিৎসাশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রকাশ্য পরিচিতিতে তাকে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যার সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকান চিকিৎসা সমিতির চিকিৎসক তালিকাতেও তার বিশেষত্ব হিসেবে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইল, বাংলায় সহায়তা পাবেন যেভাবে

ডা. সায়েরা হকের চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ভাষায় রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক পরিচিতিতে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত চিকিৎসক তালিকাতেও তাকে বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী রোগীরা নিজেদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা মাতৃভাষায় চিকিৎসকের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

বর্তমানে ব্রুকলিনে নিজের চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখার পাশাপাশি সাউথ ব্রুকলিন হেলথের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন ডা. সায়েরা হক। তার নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রাথমিক চিকিৎসার রোগীদেরও সেবা প্রদান করেন।

চিকিৎসাকেন্দ্রটির প্রকাশ্য তথ্যের এক পর্যায়ে তাকে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যায় ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য পরিচিতিতে তার অভিজ্ঞতা ৩০ বছরের বেশি এবং জরুরি বিভাগে ২১ বছরের বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ পুরোনো ও বর্তমান পরিচিতিতে অভিজ্ঞতার সময়কাল নিয়ে পার্থক্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পাওয়ার পর করণীয় নির্দেশনা

ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান প্রকাশ্য ঠিকানা ৫৪০ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২১৮। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তালিকাতেও এই ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। তবে কিছু পুরোনো জাতীয় চিকিৎসক নিবন্ধন তথ্যের তালিকায় ৫১৮ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর ঠিকানাও রয়েছে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন।

প্রকাশ্য চিকিৎসক তালিকায় ডা. সায়েরা হককে নতুন রোগী গ্রহণকারী চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে। দূর থেকে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি ও অন্যান্য বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য মাতৃভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা, নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে সহজ যোগাযোগ প্রয়োজন।

ডা. সায়েরা হকের প্রকাশ্য চিকিৎসক পরিচিতিগুলোতে বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার তথ্য থাকায় ব্রুকলিনের বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য তার চিকিৎসাসেবা বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।

আরও পড়ুন: প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু

সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষা শেষ হলেও পদ্মার ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


বর্ষা শেষ হলেও পদ্মার ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও পদ্মার ভাঙন থামেনি। নদীর তীব্র স্রোতে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং রাত কাটাচ্ছেন নির্ঘুম। তারা জানেন না কখন স্রোতের টানে তাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তীব্র হয়, তবে এবার বর্ষা শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে এবং বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষের দাবি, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসনের প্রয়োজন।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী ঢেউখালী, আকোটেরচর ও দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙন ঘটেছে এবং ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী ও মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, কালিখোলা, মোল্যাকান্দা ও খালাসীগ্রাম এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভাঙছে। একইভাবে দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দির বাসিন্দারাও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ার কারণে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের অংশ। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও তাদের দাবি। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের মধ্যে বেপারীডাঙ্গী গ্রামের নব্বই পেরোনো হাসমত বেপারীর গল্পটি নদীভাঙনের নির্মমতার প্রতিচ্ছবি। তিনি নিজের ভিটেমাটিতে জীবনের শেষ সময়টা কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু একের পর এক নদীভাঙনে বারবার বসতভিটা হারিয়েছেন। জীবনে আটবার ঘর তুলেও কখনও স্থায়ী হতে পারেননি। সর্বশেষ ভাঙনে আবারও স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠতে হয়েছে। তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত।

কাঁপা কণ্ঠে হাসমত বেপারী বলেন, "জীবনে আটবার ঘর তুলেছি। সবই গিলে খেয়েছে পদ্মা। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না, শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারব কি না।"

হাসমত বেপারীর মতো পদ্মাপাড়ের অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছে। কারও ঘর গেছে, কারও ফসলি জমি, আবার কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বর্ষা শেষ হওয়ার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব পরিবারের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে চরম উদ্বেগ। সরকারি উদ্যোগে পাওয়া ঘরই তাদের শেষ আশ্রয়। সেই ঘরও নদীগর্ভে চলে গেলে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এছাড়া চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, "এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হয়। বর্ষা চলে গেলেও ভাঙন এখনো থামেনি। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।"

দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাজা মিয়া বলেন, "প্রতি বছরই নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা চরের মানুষ এমন বিপদে আর কতবার পড়ব?"

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে এবং নতুন করে মানুষ ভিটেমাটি হারায়। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, "নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, "আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, "পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, "ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।"

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, "নদীর সঙ্গে আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশের চরভদ্রাসনে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সদরপুরেও আমরা স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাব। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় শিগগিরই স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে।"

পদ্মার ভাঙনে বছরের পর বছর ধরে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার অবলম্বন হারানো মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। তাদের ভাষ্য, ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিরাপদ বসতি ও জমি রক্ষায় কার্যকর নদীশাসন। তাই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের একটাই প্রত্যাশা—আর কখনো যেন চোখের সামনে নিজের ভিটেমাটি পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে যেতে দেখতে না হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক এমপি জাফর আলম যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


সাবেক এমপি জাফর আলম যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় কারাগারে

যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মো. জাফর আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের এই সাবেক এমপি পৃথক দু’টি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে গেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ২০১২ সালের একটি হত্যা মামলা এবং ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এর আগে, ২৭ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাবেক এমপি জাফর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল পল্টন থানায় দায়ের করা যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর সাবেক এমপি জাফর আলমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চকরিয়া ও পেকুয়ায় অন্তত ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালত ইতোমধ্যে কয়েক দফা তাকে রিমান্ডে নিয়েছে।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশের দিন সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদল নেতা শামীম মোল্লা নিহত হন। এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭০৪ জনকে আসামি করে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা। মামলায় আসামিদের মধ্যে সাবেক এমপি জাফর আলমের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আলোচিত মামলায় গত ২৮ এপ্রিল পুলিশ জাফর আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করে। তবে ওইদিন আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাভাবিপ্রবিতে ভাসানী পরিষদের নেতৃত্বে ইপিয়ার ও হাবিবুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ পি.এম


মাভাবিপ্রবিতে ভাসানী পরিষদের নেতৃত্বে ইপিয়ার ও হাবিবুর

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) নতুন ৩৩ সদস্যের কমিটি ভাসানী পরিষদের ঘোষণা করা হয়েছে।

এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন এবং সদস্য সচিব হিসেবে হাবিবুর রহমান নিযুক্ত হয়েছেন। তারা আগামী এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা কবি বুলবুল খান মাহবুব ও সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাভাবিপ্রবি শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মো. মিজানুর রহমান মাসুম এবং মোহাম্মদ ইলিয়াস কামালকে মনোনীত করা হয়েছে। যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল আলীম সরকার ও মো. লুৎফর রহমান।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, মো. ইসমাইল হোসাইন, কাজী শহীদুল ইসলাম, দেওয়ান মো. কামাল উদ্দীন, এস. এম. সেলিম মিয়া, মোহাম্মদ মেহের আলী, খন্দকার হাবিল উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান বাবু, রাশেদুল ইসলাম রাসেল, মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ জুয়েল, মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ শামীম হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, মো. মফিজুল মন্ডল, মো. ফখরুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. রিপন তালুকদার, কামরুজ্জামান, মো. মোশারফ হোসেন রিন্টু, মো. আমিনুর ইসলাম, মো. আজিজুল হাকিম, মো. মামুন কবির খান, মো. বারিক আহম্মেদ, আহাম্মদ আলী এবং মো. লাবু মিয়া।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, "মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তার আদর্শ বুকে নিয়ে দেশের ও মানুষের কল্যাণে আমরা কাজ করতে চাই।"

সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, "মাওলানা ভাসানীর আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করে ভাসানী পরিষদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণের পাশাপাশি দেশের মানুষের অধিকার ও কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া হবে।"

নেতারা উল্লেখ করেন, মাওলানা ভাসানীর আদর্শ ও জনকল্যাণের চেতনাকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করবে নবগঠিত কমিটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসাশিক্ষকের বাসায় আরবি শিখতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরল শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ পি.এম


মাদরাসাশিক্ষকের বাসায় আরবি শিখতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরল শিশু

চাঁদপুরে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পুলিশ আমিনুল ইসলাম (৬৪) নামের এক মাদরাসাশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উল্লাশ্বর এলাকা থেকে জামিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার ওই শিক্ষককে আটক করে শাহরাস্তি থানার পুলিশ।

তথ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উল্লাশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী প্রতিদিন আমিনুল ইসলামের বাসায় আরবি শিখতে যেত। এই সুযোগে আমিনুল ইসলাম শিশুটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করতেন। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটির সঙ্গে একই ঘটনা ঘটলে শিশুটি স্কুলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিষয়টি স্কুলশিক্ষিকা সামছুন্নাহারের নজরে পড়লে শিশুটি তাকে ঘটনার কথা জানায়।

পরে ওই স্কুলশিক্ষিকা শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি জানালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন শাহরাস্তি মডেল থানায় জানান।

এরপর শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে ঐদিন গভীর রাতে আটক করেন। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "সংবাদ পেয়েই গুরুত্বের সাথে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছি। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%