০৮:১২ পি.এম
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সেলের পঞ্চম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বৃক্ষরোপণ সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ। সভায় বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা, চারার বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। এই আন্দোলনকে সফল করতে জনসম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গাছের চারা উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেন। বৃক্ষরোপণে কর্মসূচিকে সফল করতে সকলকে আহবান জানান তিনি। বৃক্ষরোপণে কোন অনিয়ম ও অনাচার সহ্য করা হবে না বলে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই কিছু চারা মারা যাবে, তাই সকল মন্ত্রণালয়কে আগামী চার বছরের পরিকল্পনায় সেই হিসাব ধরতে হবে। নার্সারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তিনি বন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। একই সাথে কোন জেলায় কোন গাছ উপযোগী এবং অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে তিনি জানান।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ও ভূমিরূপ বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করলে রোপিত বৃক্ষ বাঁচার হার বাড়ানো সম্ভব। সেই বিবেচনা থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি কেওড়া গাছের চারা আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে রোপণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ বলেন, রোপিত চারার পরিচর্যা, সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় পুনঃরোপণ এবং বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আগামী চার বছরের কর্মপরিকল্পনায় রোপণ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। একই সাথে রোপণস্থলের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনার বিপরীতে অগ্রগতি ৬৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নির্ধারিত ছকে তথ্য প্রদানকারী ১১টি দপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫২ লাখ ৯৩ হাজার চারা রোপণের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করছে, সেসকল তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয়টি দপ্তর ইতোমধ্যে নিজ নিজ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে উপকূলীয় অঞ্চলে বন অধিদপ্তরের আরও ২ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চলতি বছরের সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।
কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর নির্ধারিত ছকে তথ্য সংগ্রহ চলমান রাখার কথা বলা হয়। সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প সংগঠনগুলোর বৃক্ষরোপণের তথ্য একই কাঠামোয় সংগ্রহ এবং সমন্বিত হিসাব প্রস্তুতের প্রয়োজনীয়তা সভায় তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘One Tree One Child’ উদ্যোগের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় যথাক্রমে ৬ কোটি ১৫ লাখ, ৫ কোটি ৪ লাখ এবং ২ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বৃক্ষরোপণের তথ্য সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং ড্যাশবোর্ড তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে উপকমিটির সুপারিশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে কর্মশালা আয়োজন, তথ্য সংগ্রহের অভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞের সহায়তায় সম্ভাব্যতা ও ব্যয়- যাচাইয়ের আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম অনলাইনে যুক্ত হন এবং সেলের সদস্য ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশীর মতামত তুলে ধরেন। বৃক্ষরোপণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় অংশগ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেন তারা।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: এমদাদুল হক চৌধুরী সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন