বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৪০ পি.এম
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রথমবারের জন্য বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিইএল)-এর দ্যা ইম্প্যাক্ট র্যাঙ্কিংয়ে ‘এ’ স্থান অর্জন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সূত্র থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকাশিত এ র্যাঙ্কিংয়ে মাভাবিপ্রবি বিশ্বব্যাপী ১০০১-১৫০০ ব্যান্ডে অবস্থান লাভ করেছে।
একই সময়ে, মাভাবিপ্রবি বাংলাদেশের ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বিভিন্ন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যও অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা)-তে মাভাবিপ্রবি ৩০১-৪০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়ে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এই সূচকের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৬৩। এছাড়াও, এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ) এবং এসডিজি-৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো)-তে বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে ৬০১-৮০০ ব্যান্ডে এবং এসডিজি-১১ (টেকসই নগর ও জনপদ)-তে ৪০১-৬০০ ব্যান্ডে সাফল্য অর্জন করেছে।
র্যাঙ্কিংয়ে প্রকাশিত অন্যান্য তথ্য থেকে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪১ শতাংশ নারী এবং ৫৯ শতাংশ পুরুষ। প্রতিটি শিক্ষকের অনুপাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭.১।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা র্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে চলেছে মাভাবিপ্রবি।
দ্যা ওয়ার্ল্ড ইনভারসিটি র্যাঙ্কিংয়ে-২০২৬-এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ১২০১-১৫০০ ব্যান্ডে অবস্থান লাভ করেছে এবং গবেষণার মান সূচকে বিশ্বে ৭৪৬ তম অবস্থান অর্জন করেছে।
কিউ এস এশিয়া র্যাঙ্কিং ২০২৫-এ ৮৫১-৯০০ ব্যান্ডে স্থান লাভের পাশাপাশি, সাইটেশন পেপার সূচকে ১৩৭ তম এবং প্রতিজন শিক্ষক পিছু গবেষণা পত্র সূচকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে।
অন্যদিকে, এসসিমাগো ইনস্টিটিউশনস র্যাঙ্কিং -২০২৬-এ বাংলাদেশের ৪৭টি তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম, বিশ্বে ১৯৩০ তম এবং সামাজিক ক্রমবিন্যাস সূচকে ৯০৪ তম স্থান অর্জন করেছে।
এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, দ্যা ইম্প্যাক্ট র্যাঙ্কিং ২০২৬ ‘এ’ প্রথমবারের মতো স্থান অর্জন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও অনুপ্রেরণার বিষয়।
এই সাফল্য আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবেষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রেখে মাভাবিপ্রবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।
তিনি এই অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জেলায় আজ বিশাল ও আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, নেত্রকোণা জেলা কার্যালয় মিলিতভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। র্যালির পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান, এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও নেত্রকোণা পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আফরিন সুলতানা।
এছাড়া স্বাগত বক্তব্য এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানগণ, ছাত্র-শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, শিল্প-উদ্যোক্তাগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন, বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ এবং তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত শিশু কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নড়াইল জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার একমাত্র ভরসাস্থল ‘নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতাল’ বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত। হাসপাতালে চিকিৎসক, জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং তীব্র শয্যা সংকটের কারণে রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অতএব, জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১০০ শয্যার এই হাসপাতালে এর ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক রোগী ভর্তি থাকছে, যা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণেরও বেশি। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী, কখনো কখনো আরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও নোংরা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ভর্তি রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত পদের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অত্যন্ত কম। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের (কনসালট্যান্ট) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে, জটিল এবং গুরুতর রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে খুলনা বা ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নিরাপত্তা প্রহরীর অভাবের কারণেও হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর চিকিৎসাসেবা পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্রসহ বেশ কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি প্রায়ই বিকল থাকে অথবা দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে বন্ধ থাকে। ফলে গরিব রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে উচ্চ মূল্যে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
এছাড়া, সরকারি ওষুধের সরবরাহের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় কিছু ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া গেলেও, অধিকাংশ জরুরি ওষুধই রোগীদের বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগী সলেমান মিয়া জানান, বেশিরভাগ ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হলেও সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় ডাক্তারের দেখা মেলে না। এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দৌড়াতে হয়। তারা বলেন, আমরা গরিব মানুষ; সরকারি হাসপাতালে এসে যদি এভাবে বাইরে টাকা খরচ করতে হয়, তাহলে আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকে না।
এদিকে, হাসপাতালের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রায় ৬১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ তলা বিশিষ্ট ২৫০ শয্যার নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও, দীর্ঘ ৮ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। মূল অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও, মূলত লিফট স্থাপন ও নকশা জটিলতার কারণে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে পারছে না। ফলে, আধুনিক আইসিইউ সুবিধাসহ সুউচ্চ ভবনটি পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও সাধারণ মানুষ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল গফফার বলেন, সীমিত জনবল এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকার পরও আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। সংকট দূরীকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় লোকবল পেলে দ্রুত এই সংকট সমাধান সম্ভব হবে।
২৫০ শয্যার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাসপাতালের ১০০ শয্যাকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের আধুনিক ভবনটি ৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ভবনটি চার তলার ওপরে হওয়ায় লিফট ছাড়া রোগী স্থানান্তর সম্ভব নয়। গণপূর্ত বিভাগ লিফট জটিলতা সমাধান করলেই ভবনটি হস্তান্তর করা যাবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলে এটি চালু করা যাবে। আর ২৫০ শয্যা পূর্ণাঙ্গ চালু হলে নড়াইলের স্বাস্থ্য খাতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে।
নড়াইলের সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ, লিফট জটিলতা নিরসন করে ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি চালু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার স্থানটিই হলো মাশহাদ, এবং এখানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার ফলে শহরটির সঙ্গে তেহরানের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআরবি জানায়, মার্কিন হামলায় মাশহাদগামী রেলপথটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের অন্যতম ব্যস্ততম রুট হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ নেতার দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যখন মাশহাদ শহরে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে, ঠিক তখনই এই কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এই হামলার ঘটনার ঠিক এক দিন আগে বুধবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে заяв করেছেন, ‘গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।’
ট্রাম্পের এই হুংকারের পরপরই ইরানের মাশহাদসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ট্রাম্পের দাবি হিসাবে, তার আগের সময় ইরানকে সামান্য সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা নিজেদের সংশোধন করেনি, যার কারণে এই কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প ছিল না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, এই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তির গুরুত্ব বুঝতে পারবে।
বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্তমান মুহূর্তে আলোচনা সংক্রান্ত সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
শামা আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং দুই দেশের জন্য গঙ্গার পানির গুরুত্ব বিষয়ে অবগত।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠন করা দল ও কমিটি ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে।
এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’
তিনি আরও যোগ করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করে।
শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।
অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ