বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৪৪ পি.এম
জেলায় আজ বিশাল ও আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, নেত্রকোণা জেলা কার্যালয় মিলিতভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। র্যালির পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান, এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও নেত্রকোণা পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আফরিন সুলতানা।
এছাড়া স্বাগত বক্তব্য এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানগণ, ছাত্র-শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, শিল্প-উদ্যোক্তাগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন, বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ এবং তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত শিশু কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নড়াইল জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার একমাত্র ভরসাস্থল ‘নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতাল’ বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত। হাসপাতালে চিকিৎসক, জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং তীব্র শয্যা সংকটের কারণে রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অতএব, জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১০০ শয্যার এই হাসপাতালে এর ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক রোগী ভর্তি থাকছে, যা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণেরও বেশি। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী, কখনো কখনো আরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও নোংরা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ভর্তি রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত পদের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অত্যন্ত কম। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের (কনসালট্যান্ট) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে, জটিল এবং গুরুতর রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে খুলনা বা ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নিরাপত্তা প্রহরীর অভাবের কারণেও হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর চিকিৎসাসেবা পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্রসহ বেশ কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি প্রায়ই বিকল থাকে অথবা দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে বন্ধ থাকে। ফলে গরিব রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে উচ্চ মূল্যে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
এছাড়া, সরকারি ওষুধের সরবরাহের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় কিছু ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া গেলেও, অধিকাংশ জরুরি ওষুধই রোগীদের বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগী সলেমান মিয়া জানান, বেশিরভাগ ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হলেও সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় ডাক্তারের দেখা মেলে না। এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দৌড়াতে হয়। তারা বলেন, আমরা গরিব মানুষ; সরকারি হাসপাতালে এসে যদি এভাবে বাইরে টাকা খরচ করতে হয়, তাহলে আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকে না।
এদিকে, হাসপাতালের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রায় ৬১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ তলা বিশিষ্ট ২৫০ শয্যার নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও, দীর্ঘ ৮ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। মূল অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও, মূলত লিফট স্থাপন ও নকশা জটিলতার কারণে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে পারছে না। ফলে, আধুনিক আইসিইউ সুবিধাসহ সুউচ্চ ভবনটি পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও সাধারণ মানুষ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল গফফার বলেন, সীমিত জনবল এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকার পরও আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। সংকট দূরীকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় লোকবল পেলে দ্রুত এই সংকট সমাধান সম্ভব হবে।
২৫০ শয্যার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাসপাতালের ১০০ শয্যাকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের আধুনিক ভবনটি ৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ভবনটি চার তলার ওপরে হওয়ায় লিফট ছাড়া রোগী স্থানান্তর সম্ভব নয়। গণপূর্ত বিভাগ লিফট জটিলতা সমাধান করলেই ভবনটি হস্তান্তর করা যাবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলে এটি চালু করা যাবে। আর ২৫০ শয্যা পূর্ণাঙ্গ চালু হলে নড়াইলের স্বাস্থ্য খাতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে।
নড়াইলের সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ, লিফট জটিলতা নিরসন করে ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি চালু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার স্থানটিই হলো মাশহাদ, এবং এখানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার ফলে শহরটির সঙ্গে তেহরানের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআরবি জানায়, মার্কিন হামলায় মাশহাদগামী রেলপথটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের অন্যতম ব্যস্ততম রুট হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ নেতার দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যখন মাশহাদ শহরে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে, ঠিক তখনই এই কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এই হামলার ঘটনার ঠিক এক দিন আগে বুধবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে заяв করেছেন, ‘গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।’
ট্রাম্পের এই হুংকারের পরপরই ইরানের মাশহাদসহ বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ট্রাম্পের দাবি হিসাবে, তার আগের সময় ইরানকে সামান্য সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা নিজেদের সংশোধন করেনি, যার কারণে এই কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প ছিল না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, এই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তির গুরুত্ব বুঝতে পারবে।
বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্তমান মুহূর্তে আলোচনা সংক্রান্ত সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
শামা আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং দুই দেশের জন্য গঙ্গার পানির গুরুত্ব বিষয়ে অবগত।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠন করা দল ও কমিটি ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে।
এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’
তিনি আরও যোগ করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করে।
শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।
অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা নগরীতে দীর্ঘদিনের যানজট, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে শহরের সড়কে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশাকে বৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। যদি আমরা দেখি, একই সঙ্গে নিবন্ধিত প্রতিটি অটোরিকশায় উন্নত প্রযুক্তির নিরাপত্তা ফিচারসমৃদ্ধ বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায়, এ ঘোষণা প্রদান করেন কুসিকের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
সভায় তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত যানবাহনে চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট লাগানো হবে এবং এসব প্লেটে অন্তত আট ধরনের নিরাপত্তা (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, যা জালিয়াতি বা নকল প্লেট ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিবন্ধনবিহীন কোনো অটোরিকশা কিংবা ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহারকারী যানবাহন নগরীতে চলতে পারবে না। যদি কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নকল প্লেট ব্যবহার করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, বর্তমানে নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যার ফলস্বরূপ প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন, যার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হচ্ছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন এবং এমনকি প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনভিত্তিক অটোরিকশা পরিচালনার মাধ্যমে চালক ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণ আরও সহজ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও আরও কার্যকর হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে কুসিক প্রশাসক বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই, বরং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত এবং নগরবাসীর মধ্যে স্বল্প দূরত্বে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরীতে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, সঙ্গে যানজট কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলেও আশা করছে কুসিক।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ