০৯:০৩ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলেও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন। এতে ক্যাম্পাসে তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ভাড়াবাসায় সমকামিতা, কোরআন ছুঁয়ে ‘বিয়ে’ করল দুজন কিশোরী
এদিকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
তাদের অভিযোগ, হামলার ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ প্রশাসন ও পুলিশের কাছে থাকার পরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পরও গ্রেপ্তার না করায় প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসান বলেন, ‘সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এটা পুলিশের বড় একটা ব্যর্থতা। ঘটনার অভিযুক্তদের সব ধরনের ডকুমেন্ট থাকার পরেও কেন তাদের আটক করা হচ্ছে না, এটা বড় প্রশ্ন। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা অতি দ্রুত তাদের আটক করুন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাতে চাই, আপনারা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন।’
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে চার সন্তানের কেউই ছিল না কাছে, দরজা ভাঙতেই সামনে এলো ‘অপ্রত্যাশিত দৃশ্য’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি মীর কাদির বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা চিহ্নিত হলেও প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় প্রশাসন তাদের ধরছে না। প্রশাসন স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিচ্ছে। যদি সন্ত্রাসীরা অতি দ্রুত গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবে।’
এর আগে গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন সাংবাদিকেরা। এতে ক্যাম্পাস সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, মাঈনুল ইসলাম রাজু, আরিফ উজ জামান কোরবান ও নূর আহসান মৃদুল আহত হন। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
ঘটনার পরদিন হল প্রশাসন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে হামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে মামলা ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছেন সাংবাদিকেরা। মামলায় আসামিদের নাম উল্লেখ না থাকায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে হামলায় জড়িত হিসেবে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও আইন বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এম আহসান হাবীব, ছাত্রদলকর্মী ও অর্থনীতি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক ও সংগীত বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম অথী, সহসভাপতি ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি ও আইবিএর ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী তানিম রহমান।
আরও পড়ুন: সতীনের কাছে যাওয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী
গত ৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের কাছে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেয়। এতে শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, কর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে এসব সুপারিশের পরও মামলায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে হামলার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীকে পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। একই সঙ্গে আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এদিকে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাজলা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোস্তাক জানান, তদন্ত এখনো চলছে। ভুক্তভোগীদের মেডিকেল সনদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সনদ সংগ্রহের পর সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে দুটি ওয়ান শ্যুটারগান ও দেশীয় অস্ত্রসহ ২৩ জন গ্রেপ্তার
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। তবে আমাদের সিন্ডিকেটের বিষয়টির ডেট ঠিক করেছি। যদিও বন্ধের পরে ডাকব ভেবেছিলাম। তবে আগেই ডেকেছি, যাতে যত দ্রুত সম্ভব এটা সুরাহা হয়। বাকি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আমি প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন