ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিনাজপুরে ওয়ান শুটার গান ও গুলিসহ ২ জন গ্রেপ্তার


দিনাজপুরে ওয়ান শুটার গান ও গুলিসহ ২ জন গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় ট্রাফিক পুলিশ দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের হাসপাতাল মোড়ে নিয়মিত চেকপোস্ট চলাকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার দপ্তরীপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে হারুন (৫৫) এবং ষষ্ঠীতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রতন (২০)। হারুন পিকআপ চালক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং রতন একটি পিকআপ গ্যারেজে কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, লিলির মোড় থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে হারুন ও রতন বালুবাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। হাসপাতাল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রুপক কুমার ঝা তাদের থামার সংকেত দেন। কিন্তু তারা সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সার্জেন্ট রুপক কুমার তাদের ধাওয়া করে আটক করেন।

আটকের সময় তাদের বহন করা লাল রঙের একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ট্রাফিক কনস্টেবল শাহনেওয়াজ ও মেহেদী হাসান অংশ নেন। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) অমৃত সরকারের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে আটক দুজনকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলিসহ কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ট্রাফিক বিভাগের টিআই (প্রশাসন) রাহিনুর ইসলাম খান জানান, রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি থামিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় আরোহীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তল্লাশি করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড এস্টেট) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসার নির্দেশনায় চলমান চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাসপাতাল মোড়ে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুইজনকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। গ্রেপ্তার হারুনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পাসে স্কয়ার গ্রুপে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


এইচএসসি পাসে স্কয়ার গ্রুপে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড, যা স্কয়ার গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় হল সম্প্রতি তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার সকল সনদপত্রের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ক্যালকুলেটর, এবং জীবনবৃত্তান্ত। এসব তথ্যসহ আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টার মধ্যে উল্লিখিত ঠিকানায় লিখিত পরীক্ষার জন্য উপস্থিত থাকতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

পদের নাম: সেলস অফিসার

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি পাস

অভিজ্ঞতা: বিক্রয়ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দায়িত্ব ও কর্তব্য:

- দোকান থেকে পণ্যের অর্ডার গ্রহণ করা এবং দোকানে অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা।

- বিক্রয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করা।

- পরিবেশকের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ বছর

কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ নাছিরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ নাছিরের

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে নাছির উল্লেখ করেছেন, সন্ত্রাসনির্ভর ছাত্ররাজনীতির ধারক ও বাহক, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আলবদর বাহিনীর উত্তরসূরি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে যে উসকানিমূলক হেট স্পিচ ছড়িয়েছে, তা দেশের সকল ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ছাত্রশিবিরের ক্যাডারের এহেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অরাজকতার আশঙ্কা করছে।

তিনি আরও লিখেছেন, "আমরা স্পষ্ট করে বলছি, কেউ আমাদের কোনো নেতাকর্মীর ওপর আঘাত করতে চাইলে আমরা তাদেরকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে ইতস্তত বোধ করব না।" বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুর মেডিকেল থেকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


রংপুর মেডিকেল থেকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক

রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা সম্পন্ন করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. সায়েরা হক। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ব্রুকলিনে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যার চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সায়েরা হক ১৯৯৫ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক পরিচিতিতে তার চিকিৎসাশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রকাশ্য পরিচিতিতে তাকে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যার সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকান চিকিৎসা সমিতির চিকিৎসক তালিকাতেও তার বিশেষত্ব হিসেবে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ডা. সায়েরা হকের চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ভাষায় রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক পরিচিতিতে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত চিকিৎসক তালিকাতেও তাকে বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী রোগীরা নিজেদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা মাতৃভাষায় চিকিৎসকের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

বর্তমানে ব্রুকলিনে নিজের চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখার পাশাপাশি সাউথ ব্রুকলিন হেলথের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন ডা. সায়েরা হক। তার নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রাথমিক চিকিৎসার রোগীদেরও সেবা প্রদান করেন।

চিকিৎসাকেন্দ্রটির প্রকাশ্য তথ্যের এক পর্যায়ে তাকে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসাবিদ্যায় ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য পরিচিতিতে তার অভিজ্ঞতা ৩০ বছরের বেশি এবং জরুরি বিভাগে ২১ বছরের বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ পুরোনো ও বর্তমান পরিচিতিতে অভিজ্ঞতার সময়কাল নিয়ে পার্থক্য রয়েছে।

ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান প্রকাশ্য ঠিকানা ৫৪০ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২১৮। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তালিকাতেও এই ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। তবে কিছু পুরোনো জাতীয় চিকিৎসক নিবন্ধন তথ্যের তালিকায় ৫১৮ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর ঠিকানাও রয়েছে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন।

প্রকাশ্য চিকিৎসক তালিকায় ডা. সায়েরা হককে নতুন রোগী গ্রহণকারী চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে। দূর থেকে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি ও অন্যান্য বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য মাতৃভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা, নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে সহজ যোগাযোগ প্রয়োজন।

ডা. সায়েরা হকের প্রকাশ্য চিকিৎসক পরিচিতিগুলোতে বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার তথ্য থাকায় ব্রুকলিনের বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য তার চিকিৎসাসেবা বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।

সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষা শেষ হলেও পদ্মার ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


বর্ষা শেষ হলেও পদ্মার ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও পদ্মার ভাঙন থামেনি। নদীর তীব্র স্রোতে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং রাত কাটাচ্ছেন নির্ঘুম। তারা জানেন না কখন স্রোতের টানে তাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তীব্র হয়, তবে এবার বর্ষা শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে এবং বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষের দাবি, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসনের প্রয়োজন।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী ঢেউখালী, আকোটেরচর ও দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙন ঘটেছে এবং ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী ও মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, কালিখোলা, মোল্যাকান্দা ও খালাসীগ্রাম এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভাঙছে। একইভাবে দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দির বাসিন্দারাও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ার কারণে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের অংশ। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও তাদের দাবি। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের মধ্যে বেপারীডাঙ্গী গ্রামের নব্বই পেরোনো হাসমত বেপারীর গল্পটি নদীভাঙনের নির্মমতার প্রতিচ্ছবি। তিনি নিজের ভিটেমাটিতে জীবনের শেষ সময়টা কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু একের পর এক নদীভাঙনে বারবার বসতভিটা হারিয়েছেন। জীবনে আটবার ঘর তুলেও কখনও স্থায়ী হতে পারেননি। সর্বশেষ ভাঙনে আবারও স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠতে হয়েছে। তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত।

কাঁপা কণ্ঠে হাসমত বেপারী বলেন, "জীবনে আটবার ঘর তুলেছি। সবই গিলে খেয়েছে পদ্মা। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না, শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারব কি না।"

হাসমত বেপারীর মতো পদ্মাপাড়ের অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছে। কারও ঘর গেছে, কারও ফসলি জমি, আবার কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বর্ষা শেষ হওয়ার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব পরিবারের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে চরম উদ্বেগ। সরকারি উদ্যোগে পাওয়া ঘরই তাদের শেষ আশ্রয়। সেই ঘরও নদীগর্ভে চলে গেলে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এছাড়া চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, "এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হয়। বর্ষা চলে গেলেও ভাঙন এখনো থামেনি। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।"

দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাজা মিয়া বলেন, "প্রতি বছরই নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা চরের মানুষ এমন বিপদে আর কতবার পড়ব?"

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে এবং নতুন করে মানুষ ভিটেমাটি হারায়। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, "নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, "আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, "পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, "ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।"

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, "নদীর সঙ্গে আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশের চরভদ্রাসনে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সদরপুরেও আমরা স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাব। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় শিগগিরই স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে।"

পদ্মার ভাঙনে বছরের পর বছর ধরে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার অবলম্বন হারানো মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। তাদের ভাষ্য, ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিরাপদ বসতি ও জমি রক্ষায় কার্যকর নদীশাসন। তাই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের একটাই প্রত্যাশা—আর কখনো যেন চোখের সামনে নিজের ভিটেমাটি পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে যেতে দেখতে না হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%