ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগামী ছয় মাসে ‘বিস্ময়কর’ গরমের আভাস, সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যু শঙ্কা


আগামী ছয় মাসে ‘বিস্ময়কর’ গরমের আভাস, সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যু শঙ্কা

আগামী ছয় মাসে এল নিনোর কারণে ব্যাপক তীব্রতার ফলে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা।

জলবায়ু সংকটের কারণে ইতিমধ্যে বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রার সঙ্গে যুক্ত হবে এই অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা। ইন্দোনেশিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এর প্রভাব পড়বে। এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত খরা, দাবানল এবং বন্যার কারণে আরও অনেক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গবেষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে এই তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা নিরূপণ করেছেন। তাদের মতে, এই পূর্বাভাসের মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে কোথায় মানুষকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এর মধ্যে উন্নত তাপ পূর্বাভাস ব্যবস্থা, শীতাতপ কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্রে বাড়তি জনবল এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

বর্তমানে এল নিনো বিশ্ব উষ্ণ করে তুলছে, যা সোমবার ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে, যা প্রত্যাশিত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কয়েক মাস আগে ঘটেছে। আগের ঘটনাগুলোর তুলনায় এই তাপ এতটাই বেশি যে বিজ্ঞানীরা একে ‘বিস্ময়কর’ এবং ‘গডজিলা-স্তরের’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

এই প্রতিবেদনের সহলেখক এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন মন্তব্য করেন, ‘চার লাখ ৫১ হাজার মানুষের এই সংখ্যা এতটাই বড় যে এটা অনুভূতিশূন্য মনে হতে পারে। তবে এর মধ্যে আছেন বাবা-মা এবং সন্তানেরা, দাদা-দাদি এবং প্রতিবেশীরা, কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ, পরিবারের যত্ন নেওয়া মানুষ, নিজেদের জীবনযাপন করা মানুষেরা।’

এই মৃত্যুর পূর্বাভাস সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমান তাপমাত্রার পূর্বাভাস শেষ হচ্ছে। তবে ২০২৭ সালের জুন বা জুলাই পর্যন্ত তাপজনিত মৃত্যুর উচ্চ হার অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলো, যেমন নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, ভারত এবং ব্রাজিল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ তাপজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস রয়েছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

গবেষকরা জানান, এল নিনো একটি ‘ভবিষ্যতের পোস্টকার্ড’ হিসেবেও কাজ করছে। কারণ এটি তাপমাত্রাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা জলবায়ু সংকট আগামী বিশ বছরে দেখাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলে শাখার এই প্রতিবেদনের আরেক সহলেখক ড. তাম্মা কার্লেটন বলেন, ‘জরুরি প্রতিক্রিয়া বাড়ানো এবং আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে পারলে এই বছর অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। তবে বিশ বছর পর, যখন আজকের চরম তাপমাত্রাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে, তখন আমরা যেন ক্রমাগত জরুরি অবস্থায় না থাকি। ভবিষ্যতে প্রাণ বাঁচাতে পারে এমন সরঞ্জাম নকশা, স্থাপন এবং মূল্যায়নের জন্য আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে তাপমাত্রা এবং অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর মধ্যে মাস-ভিত্তিক সম্পর্ক অনুসরণকারী পর্যালোচিত পদ্ধতি ব্যবহার করে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আগামী মাসগুলোতে এল নিনোর কারণে আরও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস। ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গড় মাসিক তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যাকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।

গ্রিনস্টোন বলেন, ‘ফসলে কখন আঘাত আসতে পারে, তার পূর্বাভাস দেওয়া এবং আগাম সতর্কতা জানানো মানুষ আগে থেকেই করে আসছে। এই নতুন প্রতিবেদন আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে একই কাজ করার পথ খুলে দিচ্ছে, আমি বলবো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর সেটা হলো মৃত্যু।’ তিনি জানান, এই প্রতিবেদনটি একটি পর্যালোচিত জার্নালে জমা দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতির জরুরি অবস্থার কথা বিবেচনায় এটি চেপে রাখা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হবে।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

এল নিনোর প্রভাবে খাদ্য সরবরাহও ব্যাহত হবে। আগস্টে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে জানিয়েছিল, এর প্রভাবে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে এবং খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। ১৮৭৭-৭৮ সালের একটি বড় এল নিনোর কারণে খরা এবং দুর্ভিক্ষে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারত, ব্রাজিল এবং চীন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ফ্রেডেরিকে অটো সোমবার গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বর্তমান এই এল নিনো ঘটনাটি জলবায়ু ব্যবস্থায় শক্তির এক বিশাল পুনর্বণ্টন এবং এটি বিপজ্জনক। কারণ এটি ঘটছে এমন এক জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর, যা মানুষের প্রভাবে ইতিমধ্যেই অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই বিশ্বের অনেক জায়গায় আমরা এমন সব তাপ চরম অবস্থা দেখবো, যা আগে কখনো দেখা যায়নি, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পানির সংকটের ওপর যার সবরকম প্রভাব পড়বে। এল নিনো আসে এবং যায়, তবে যতদিন আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে থাকবো, ততদিন এটি ক্রমশ উষ্ণতর একটি ভিত্তির ওপর ঘটতে থাকবে, যা কমিউনিটিগুলোর জন্য এর প্রভাব সামাল দেওয়া আরও কঠিন করে তুলবে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জাতিসংঘে ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ডে দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


গ্রিনল্যান্ডে দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে দুটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাকাপোক্ত বা ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নিউইয়র্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দ্রুতই উপযুক্ত জায়গায় বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কাজ শুরু করব। সেখানে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে।’

এই চুক্তির ফলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সব বিষয়ের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে শুধু আমেরিকা মহাদেশ নয়, বরং ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল রক্ষায় যা করা দরকার, তা করার পূর্ণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে আসবে।

ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শত্রু দেশ আর কখনো গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাটি তৈরি করতে পারবে না। এমনকি আমাদের লিখিত অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল বিনিয়োগও করা যাবে না।’

এটি উল্লেখযোগ্য যে, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রচুর খনিজ সম্পদের কারণে বরাবরই আমেরিকার নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ওই এলাকায় চীন ও রাশিয়ার তৎপরতা বাড়ায়, গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা ট্রাম্প এর আগেও বেশ কয়েকবার প্রকাশ করেছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষামন্ত্রী: বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়বে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


শিক্ষামন্ত্রী: বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়বে

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মিলনায়তনে মার্কেটিং বিভাগ অ্যালামনাই আয়োজিত বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দেশের বৃহৎ উদ্যোক্তাদেরও শিক্ষা ও শিল্পের যৌথ অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসতে হবে। তবে বর্তমানে দেশের বড় উদ্যোক্তারা শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যৌথ অংশীদারিত্বের বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগী নন।

তিনি বেসরকারি খাতের বড় উদ্যোক্তাদের শিক্ষা খাতে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মতো ভিসির পদ ছেড়ে রাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বর্তমান সরকার প্রশ্রয় দেবে না।

আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে অত্যাচারিত ও নিপীড়িত পরিবার হলো শহিদ জিয়ার পরিবার।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মেধা বিকাশে বৃত্তির গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের ৯০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়ানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু নিখোঁজের দীর্ঘ তালিকা, স্বজনদের অসহায় কান্নায় উদ্বিগ্ন দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


শিশু নিখোঁজের দীর্ঘ তালিকা, স্বজনদের অসহায় কান্নায় উদ্বিগ্ন দেশ

সাত মাসের মধ্যে নিখোঁজ হওয়া ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসে ৪৬ শিশু নিখোঁজ হয়েছে, ৩১ জনের সন্ধান নেই। পারিবারিক বিরোধ, পাচার, মাদক ও ভিক্ষাবৃত্তির চক্রের আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির তাগিদ অনুভূত হচ্ছে।

দেশের বহু পরিবারের কাছে সন্তান কোথায়, কেমন আছে, আদৌ ফিরবে কি না, এই উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে। শিশু নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে সরকারি ও মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য থেকে। পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান মেলেনি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

সেপ্টেম্বর মাসেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মুন অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সারাদেশে ৪৬ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এখনো ৩১ জনের খোঁজ নেই।

শিশু নিখোঁজের এই দীর্ঘ তালিকার প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের অসহায় অপেক্ষা। রাজধানীতে ১২ বছরের হাবিবুল্লাহ নাঈমের পরিবারও এখন সেই অপেক্ষায়। ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুর্মিটোলা স্কুলের সামনের বাসা থেকে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে টিউশনিতে বের হয়েছিল নাঈম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে র‍্যাব ও খিলক্ষেত থানায় হারানোর ডায়েরি করেছে পরিবার।

নাঈমের মা বলেছেন, ‘একটাই রিকোয়েস্ট আপনাদের মাধ্যমে আমার বাচ্চাটা যেন ফিরে আসে, আপনারা এতটুকু আমাকে হেল্প করেন।’

নাঈম একা নয়। গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় চার বছর বয়সী আফরুজ্জাহান সাইবা। এখনো তার সন্ধান মেলেনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তেজগাঁওয়ের বিটাক ট্রেনিং সেন্টার থেকে নিখোঁজ হয় ১৭ বছরের কিশোর কাওসার হোসেন নিলয়। এক সপ্তাহ ধরে খুঁজেও তাকে পায়নি পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এখনো ৬৮ জনের সন্ধান নেই। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, ১ হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ।

পুলিশের ব্যাখ্যায়, ছোট শিশুদের অনেকেই পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। কেউ নিজের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় পরিবারের কাছে ফিরতে পারে না। আবার কেউ একা বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরতে পারে না।

বয়স বাড়ার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার কারণও বদলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া, পড়াশোনার চাপ, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর আত্মগোপন, স্বাধীনভাবে থাকার চেষ্টা, পরিবারের কাছ থেকে টাকা বা অন্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক বিরোধ এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো কারণ রয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, অনলাইন জিডি চালুর পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৩ সালে নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি।

নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে। আসকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আসক।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেছেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কীভাবে শিশুটি নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না এবং অপরাধে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অপ্রতিমসহ নিখোঁজ হয়ে পরে মৃত পাওয়া শিশুদের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। উদ্ধার তৎপরতায় কোনো ধরনের অবহেলা থাকলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

শিশু নিখোঁজের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ঘটনা একই কারণে ঘটছে না। কিছু শিশু পারিবারিক বিরোধ, অতিরিক্ত শাসন বা অভিমান থেকে বাড়ি ছেড়ে যেতে পারে। তবে বিপুলসংখ্যক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু শ্রমের চক্র, ভিক্ষাবৃত্তির সিন্ডিকেট, মাদক সংশ্লিষ্ট চক্র এবং পাচারকারীরা শিশুদের ব্যবহার করতে পারে। জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা, ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার কিংবা মাদক বহনের মতো অপরাধেও শিশুদের ব্যবহারের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ‘যেখানে শিশুদের সুরক্ষা করার কথা, সেখানে সুরক্ষার পরিবর্তে যখন আমরা দেখব সে ভিকটিম হচ্ছে, মার্ডারের শিকার হচ্ছে এবং সে নিখোঁজ হচ্ছে, এটা আসলে আমাদের চিন্তা করার মতো বিষয়।’

তিনি বলেন, শিশুদের জোরপূর্বক শ্রমে ব্যবহার, ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো এবং বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করার জন্য কোনো কোনো চক্র তাদের কাজে লাগাতে পারে। এমনকি মাদক বহনের ক্ষেত্রেও শিশুদের ব্যবহার করার আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

শিশু নিখোঁজের ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বা চক্রের তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। ক্রাইম ম্যানেজমেন্টের ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, নিখোঁজের ঘটনা বিভিন্ন কারণে ঘটছে।

তিনি বলেন, ‘সেরকম কিছু না, এগুলো বিভিন্ন কারণে হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে কেউ হয়তো রাগ করে বের হয়ে গেছে, এগুলো সংখ্যা খুব বেশি না। এগুলা হয়তো নিখোঁজ জিডি করল, তো দু-এক দিন পর আবার সে বাসায় চলে আসছে, ফেরত আসছে এরকম।’

নিখোঁজের ঘটনায় দ্রুত অনুসন্ধানের নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, থানায় জিডি হওয়ার পর দ্রুত অনুসন্ধান করে নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া এবং তাকে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

শিশু নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদরদপ্তর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটসের (ISHR) এক প্রতিবেদনে একই সময়ে ১৫ হাজার ৯১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ISHR-এর প্রতিবেদনে মাসভিত্তিক তথ্যেও অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং জাতীয় নীতি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য নির্ভুল তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

তথ্যের এই পার্থক্যই শিশু নিখোঁজের বিষয়ে একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যভান্ডারের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে।

আসকও নিখোঁজ শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেস তৈরির দাবি জানিয়েছে। সেখানে নিখোঁজ, উদ্ধার এবং এখনো সন্ধান না পাওয়া শিশুদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার পাশাপাশি কোন ধরনের ঝুঁকিতে শিশুরা বেশি পড়ছে, তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য নেওয়া, সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ শনাক্ত করা এবং আশপাশের থানা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা সম্ভব।

শিশু নিখোঁজের পর সময় যত গড়ায়, তাকে অন্য এলাকা বা জেলার দিকে সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৫ হাজার ৭১৭, ২ হাজার ৩৮, ৪৬ কিংবা ৩১, পরিসংখ্যানের এই সংখ্যাগুলোর প্রতিটির পেছনে রয়েছে একটি শিশু এবং একটি পরিবার। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিবারের স্বাভাবিক জীবনও থমকে যায়।

কেউ থানায়, কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দপ্তরে, কেউ হাসপাতাল বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সন্তানকে খুঁজে বেড়ান। দিনের পর দিন কোনো খবর না পেয়ে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা।

নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে ঝুঁকির ধরন চিহ্নিত করা, নির্ভুল জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি, পুলিশি তৎপরতা ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা।

কারণ একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্তই পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ও সমন্বিত তৎপরতা একটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারে তার পরিবারের কাছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেলের দরজা খুলে ২৬ মিনিট বন্ধ, উত্তরা-মতিঝিল রুটে উপচে পড়া ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


মেট্রোরেলের দরজা খুলে ২৬ মিনিট বন্ধ, উত্তরা-মতিঝিল রুটে উপচে পড়া ভিড়

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলন্ত অবস্থায় মেট্রোরেলের একটি দরজা হঠাৎ খুলে যাওয়ার কারণে প্রায় ২৬ মিনিটের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কারণে এই সময় সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং ত্রুটি মেরামত করা হয়। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব ঘটে।

এমআরটি পুলিশের (অপারেশন) পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ জানান, বুধবার সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করা হয়। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্রেনের পেছনের দিকে একটি দরজা হঠাৎ খুলে যায়।

যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিষয়টি জানার পর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে মেট্রোরেলের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হলে সকাল ৮টা ৩ মিনিটে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়।

এর আগে সকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্তরা থেকে মতিঝিল এবং মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে বিভিন্ন স্টেশনে পৌঁছাচ্ছিল। এই কারণে অফিসগামী যাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

ট্রেন আসতে দেরি হওয়ায় স্টেশনগুলোর প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে মিরপুর-১০, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক বিঘ্নের পর মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে এই ঘটনায় বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি ও ভিড়ের সৃষ্টি হয়।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সাময়িক এই বিঘ্নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%