বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে দুটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাকাপোক্ত বা ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নিউইয়র্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দ্রুতই উপযুক্ত জায়গায় বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কাজ শুরু করব। সেখানে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে।’
এই চুক্তির ফলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সব বিষয়ের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে শুধু আমেরিকা মহাদেশ নয়, বরং ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল রক্ষায় যা করা দরকার, তা করার পূর্ণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে আসবে।
ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শত্রু দেশ আর কখনো গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাটি তৈরি করতে পারবে না। এমনকি আমাদের লিখিত অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল বিনিয়োগও করা যাবে না।’
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রচুর খনিজ সম্পদের কারণে বরাবরই আমেরিকার নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ওই এলাকায় চীন ও রাশিয়ার তৎপরতা বাড়ায়, গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা ট্রাম্প এর আগেও বেশ কয়েকবার প্রকাশ করেছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মিলনায়তনে মার্কেটিং বিভাগ অ্যালামনাই আয়োজিত বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দেশের বৃহৎ উদ্যোক্তাদেরও শিক্ষা ও শিল্পের যৌথ অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসতে হবে। তবে বর্তমানে দেশের বড় উদ্যোক্তারা শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যৌথ অংশীদারিত্বের বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগী নন।
তিনি বেসরকারি খাতের বড় উদ্যোক্তাদের শিক্ষা খাতে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মতো ভিসির পদ ছেড়ে রাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বর্তমান সরকার প্রশ্রয় দেবে না।
আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে অত্যাচারিত ও নিপীড়িত পরিবার হলো শহিদ জিয়ার পরিবার।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মেধা বিকাশে বৃত্তির গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের ৯০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়ানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাত মাসের মধ্যে নিখোঁজ হওয়া ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসে ৪৬ শিশু নিখোঁজ হয়েছে, ৩১ জনের সন্ধান নেই। পারিবারিক বিরোধ, পাচার, মাদক ও ভিক্ষাবৃত্তির চক্রের আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির তাগিদ অনুভূত হচ্ছে।
দেশের বহু পরিবারের কাছে সন্তান কোথায়, কেমন আছে, আদৌ ফিরবে কি না, এই উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে। শিশু নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে সরকারি ও মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য থেকে। পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান মেলেনি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সেপ্টেম্বর মাসেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মুন অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সারাদেশে ৪৬ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এখনো ৩১ জনের খোঁজ নেই।
শিশু নিখোঁজের এই দীর্ঘ তালিকার প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের অসহায় অপেক্ষা। রাজধানীতে ১২ বছরের হাবিবুল্লাহ নাঈমের পরিবারও এখন সেই অপেক্ষায়। ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুর্মিটোলা স্কুলের সামনের বাসা থেকে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে টিউশনিতে বের হয়েছিল নাঈম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে র্যাব ও খিলক্ষেত থানায় হারানোর ডায়েরি করেছে পরিবার।
নাঈমের মা বলেছেন, ‘একটাই রিকোয়েস্ট আপনাদের মাধ্যমে আমার বাচ্চাটা যেন ফিরে আসে, আপনারা এতটুকু আমাকে হেল্প করেন।’
নাঈম একা নয়। গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় চার বছর বয়সী আফরুজ্জাহান সাইবা। এখনো তার সন্ধান মেলেনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তেজগাঁওয়ের বিটাক ট্রেনিং সেন্টার থেকে নিখোঁজ হয় ১৭ বছরের কিশোর কাওসার হোসেন নিলয়। এক সপ্তাহ ধরে খুঁজেও তাকে পায়নি পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এখনো ৬৮ জনের সন্ধান নেই। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, ১ হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ।
পুলিশের ব্যাখ্যায়, ছোট শিশুদের অনেকেই পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। কেউ নিজের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় পরিবারের কাছে ফিরতে পারে না। আবার কেউ একা বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরতে পারে না।
বয়স বাড়ার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার কারণও বদলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া, পড়াশোনার চাপ, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর আত্মগোপন, স্বাধীনভাবে থাকার চেষ্টা, পরিবারের কাছ থেকে টাকা বা অন্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক বিরোধ এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো কারণ রয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, অনলাইন জিডি চালুর পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৩ সালে নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি।
নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে। আসকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আসক।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেছেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কীভাবে শিশুটি নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না এবং অপরাধে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অপ্রতিমসহ নিখোঁজ হয়ে পরে মৃত পাওয়া শিশুদের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। উদ্ধার তৎপরতায় কোনো ধরনের অবহেলা থাকলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
শিশু নিখোঁজের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ঘটনা একই কারণে ঘটছে না। কিছু শিশু পারিবারিক বিরোধ, অতিরিক্ত শাসন বা অভিমান থেকে বাড়ি ছেড়ে যেতে পারে। তবে বিপুলসংখ্যক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু শ্রমের চক্র, ভিক্ষাবৃত্তির সিন্ডিকেট, মাদক সংশ্লিষ্ট চক্র এবং পাচারকারীরা শিশুদের ব্যবহার করতে পারে। জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা, ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার কিংবা মাদক বহনের মতো অপরাধেও শিশুদের ব্যবহারের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ‘যেখানে শিশুদের সুরক্ষা করার কথা, সেখানে সুরক্ষার পরিবর্তে যখন আমরা দেখব সে ভিকটিম হচ্ছে, মার্ডারের শিকার হচ্ছে এবং সে নিখোঁজ হচ্ছে, এটা আসলে আমাদের চিন্তা করার মতো বিষয়।’
তিনি বলেন, শিশুদের জোরপূর্বক শ্রমে ব্যবহার, ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো এবং বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করার জন্য কোনো কোনো চক্র তাদের কাজে লাগাতে পারে। এমনকি মাদক বহনের ক্ষেত্রেও শিশুদের ব্যবহার করার আশঙ্কার কথা জানান তিনি।
শিশু নিখোঁজের ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বা চক্রের তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। ক্রাইম ম্যানেজমেন্টের ডিআইজি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, নিখোঁজের ঘটনা বিভিন্ন কারণে ঘটছে।
তিনি বলেন, ‘সেরকম কিছু না, এগুলো বিভিন্ন কারণে হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে কেউ হয়তো রাগ করে বের হয়ে গেছে, এগুলো সংখ্যা খুব বেশি না। এগুলা হয়তো নিখোঁজ জিডি করল, তো দু-এক দিন পর আবার সে বাসায় চলে আসছে, ফেরত আসছে এরকম।’
নিখোঁজের ঘটনায় দ্রুত অনুসন্ধানের নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, থানায় জিডি হওয়ার পর দ্রুত অনুসন্ধান করে নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া এবং তাকে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
শিশু নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদরদপ্তর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটসের (ISHR) এক প্রতিবেদনে একই সময়ে ১৫ হাজার ৯১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ISHR-এর প্রতিবেদনে মাসভিত্তিক তথ্যেও অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং জাতীয় নীতি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য নির্ভুল তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
তথ্যের এই পার্থক্যই শিশু নিখোঁজের বিষয়ে একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যভান্ডারের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে।
আসকও নিখোঁজ শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেস তৈরির দাবি জানিয়েছে। সেখানে নিখোঁজ, উদ্ধার এবং এখনো সন্ধান না পাওয়া শিশুদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার পাশাপাশি কোন ধরনের ঝুঁকিতে শিশুরা বেশি পড়ছে, তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য নেওয়া, সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ শনাক্ত করা এবং আশপাশের থানা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা সম্ভব।
শিশু নিখোঁজের পর সময় যত গড়ায়, তাকে অন্য এলাকা বা জেলার দিকে সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৫ হাজার ৭১৭, ২ হাজার ৩৮, ৪৬ কিংবা ৩১, পরিসংখ্যানের এই সংখ্যাগুলোর প্রতিটির পেছনে রয়েছে একটি শিশু এবং একটি পরিবার। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিবারের স্বাভাবিক জীবনও থমকে যায়।
কেউ থানায়, কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দপ্তরে, কেউ হাসপাতাল বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সন্তানকে খুঁজে বেড়ান। দিনের পর দিন কোনো খবর না পেয়ে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা।
নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে ঝুঁকির ধরন চিহ্নিত করা, নির্ভুল জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি, পুলিশি তৎপরতা ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা।
কারণ একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্তই পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ও সমন্বিত তৎপরতা একটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারে তার পরিবারের কাছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলন্ত অবস্থায় মেট্রোরেলের একটি দরজা হঠাৎ খুলে যাওয়ার কারণে প্রায় ২৬ মিনিটের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কারণে এই সময় সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং ত্রুটি মেরামত করা হয়। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব ঘটে।
এমআরটি পুলিশের (অপারেশন) পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ জানান, বুধবার সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করা হয়। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্রেনের পেছনের দিকে একটি দরজা হঠাৎ খুলে যায়।
যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিষয়টি জানার পর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে মেট্রোরেলের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হলে সকাল ৮টা ৩ মিনিটে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়।
এর আগে সকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্তরা থেকে মতিঝিল এবং মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে বিভিন্ন স্টেশনে পৌঁছাচ্ছিল। এই কারণে অফিসগামী যাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।
ট্রেন আসতে দেরি হওয়ায় স্টেশনগুলোর প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে মিরপুর-১০, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক বিঘ্নের পর মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে এই ঘটনায় বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি ও ভিড়ের সৃষ্টি হয়।
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সাময়িক এই বিঘ্নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছে, যা মানবাধিকার সুরক্ষায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার ফল। সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি আইন, যা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা তৈরি সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে, সে সম্পর্কে এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডাব্লিউ জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে, নির্বাচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা কমিয়ে দিয়েছে এবং এর তদন্তের ক্ষমতাও দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডাব্লিউ।
এইচআরডাব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, "বাংলাদেশের প্রকৃত নিরাপত্তা খাত সংস্কার প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "একটি স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান দরকার, যার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।" নিরাপত্তা বাহিনীকে নজরদারি ও জবাবদিহির বাইরে রাখার সরকারি উদ্যোগ জনগণের মধ্যে এই আস্থা তৈরি করবে না যে হত্যা ও গুমের ঘটনা অতীতেই থেকে যাবে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, সমালোচকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গুম ও হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও তারেক রহমানের সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত শত শত ব্যক্তিকে নির্বিচারে আটক করে রেখেছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। তবে, সংস্থাটির স্বাধীনতা সীমিত ছিল এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতাও ছিল না। কমিশনের নিয়োগ কমিটিতে সরকার ও সরকারঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন কেবল সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে এবং সুপারিশ করতে পারত।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনের সদস্য নিয়োগে আরও স্বাধীন ব্যবস্থা, স্বাধীন অর্থায়ন ও জনবল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে আটককেন্দ্রগুলো পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছিল, যা নির্যাতনবিরোধী ঐচ্ছিক প্রটোকলের অধীনে প্রয়োজনীয়।
ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর অধ্যাদেশটি বহাল রাখা অথবা কার্যকারিতা হারানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু এইচআরডাব্লিউ জানিয়েছে, বিএনপি সরকার সেটি বহাল রাখেনি।
৬ সেপ্টেম্বর বিরোধীদের সংসদ বর্জনের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত নতুন আইন পাস হয়েছে। এই আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা কমিশনের নেই। কমিশন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। তবে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রতিবেদন না দিলে অথবা দেওয়া প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে কমিশন নিজস্ব তদন্ত করতে পারবে, এমন একটি অস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি এর বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতাও কমানো হয়েছে এবং জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থার মর্যাদা ও স্বাধীনতা হ্রাস করা হয়েছে। এইচআরডাব্লিউয়ের মতে, তদন্তের ক্ষমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও পর্যাপ্ত সম্পদের দিক থেকে নতুন আইনটি প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে হচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনও পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনে সেই ক্ষমতা বাদ দিয়ে অভিযুক্ত সংস্থা ছাড়া অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে কমিশনকে আটককেন্দ্র, এমনকি গোপন আটকস্থল হিসেবে সন্দেহ করা জায়গাও পর্যবেক্ষণ, পরিদর্শন ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিধিতে থাকা কমান্ডের দায়বদ্ধতার মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল। সেখানে কোনো কর্মকর্তা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জানার কথা থাকা সত্ত্বেও তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে দায়ী হতে পারতেন। নতুন আইনে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়ী করতে তার সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ প্রয়োজন হবে।
১০ সেপ্টেম্বর সংসদ বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন আইন পাস করে। এর মাধ্যমে র্যাবের নাম পরিবর্তন করে বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন করা হয়। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংস্থাটির সাত সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। এ ছাড়া র্যাবের কয়েকজন সাবেক সদস্যের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যার মধ্যে গুমের অভিযোগও রয়েছে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।
বিএনপি আগে র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।
নতুন আইনে র্যাবের সদস্য, ক্ষমতা, সম্পদ ও নথিপত্র বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নের কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাহিনীটির প্রতীকেও র্যাবের পরিবর্তে শুধু বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
গত মে মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, নাম পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা নতুন বাহিনীটিতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ।
এইচআরডাব্লিউ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নের বিধিমালা প্রণয়নের সময় মানবাধিকার যাচাই, স্বাধীন বাহ্যিক তদারকি, গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষেত্রে সুরক্ষা, র্যাবের নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণ এবং বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত সামরিক সদস্য মোতায়েন বন্ধের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর চাপ দিতে।
সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের উদীয়মান মানবাধিকার পরিস্থিতি ও নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
এলেইন পিয়ারসন বলেন, "ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আগের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তারেক রহমান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।" কিন্তু নতুন সরকার দ্রুত শেখ হাসিনা সরকারের ‘নিপীড়নমূলক পদাঙ্ক’ অনুসরণ করছে দেখে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ