সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৭ পি.এম
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারের বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্টভাবে পলিসি প্রকাশ করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলায় ৪ দিনের সফরের শেষ দিনে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু রিজার্ভেশন বিদ্যমান, বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এবং সেখানে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন, কিন্তু ভারতও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। আমাদের সম্পর্ক সৎ প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের ফলে দেশের প্রতিটি বিভাগে এবং স্তরে অবনতি ঘটেছে, হত্যা, গুম, খুন, মানিলন্ডারিং অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, যা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন করতে অনেক সময় লাগবে এবং সাত মাস এ জন্য খুবই অল্প সময়।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় সংস্কার পর্ব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।" প্রধানত আইনকানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে এবং সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কিছুটা অসুবিধা দেখা দিচ্ছে, কারণ রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে এখনো একমত হতে পারেনি।
স্পিকার বলেন, "সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল যদি একটি সমঝোতায় আসে, তাহলে বিগত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন ও বঞ্চনা থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল একমত হলে আইনে যে সংস্কার প্রয়োজন তা আনতে পারলে জনগণ গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজন। বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যদি সুন্দর বোঝাপড়া থাকে, তাহলে দেশ উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইলিশের বাণিজ্যে এবার একটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়ে এলেও চলতি বছরে উল্টো ভারত থেকেই বাংলাদেশে ইলিশের চালান এসেছে।
গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে আসতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ভারতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পাঠানো ইলিশের বেশিরভাগ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভারুচ বন্দর ব্যবহার করে এসব মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজারের মাধ্যমেও কিছু ইলিশ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়েছে।
হাওড়া পাইকারি মাছ আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, "ভারত থেকে বাংলাদেশে সাধারণত বোয়াল, রুই, পারশে ও ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ যায়। তবে এ বছর ইলিশ রপ্তানির ঘটনা তাদের জন্য ব্যতিক্রম।"
গুজরাটের ইলিশে তুলনামূলকভাবে ডিম বেশি থাকে এবং স্বাদ কিছুটা নোনতা। এ কারণে ভারতের স্থানীয় বাজারে এ মাছের চাহিদা খুব বেশি নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের কিছু এলাকায় ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা থাকায় গুজরাটের ইলিশের জন্য এখানে নতুন বাজার তৈরি হয়েছে।
প্রতি বছর দুর্গাপূজা ও শারদীয় উৎসবের আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হয়। তবে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গত বছর উৎসবের আগে ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন মহাসচিব আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে পরবর্তী মহাসচিব লাতিন আমেরিকা থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ মহাসচিবের পদটি সাধারণত বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে পালাক্রমে বণ্টন করা হয়। সর্বশেষ লাতিন আমেরিকার মহাসচিব ছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার, যিনি ১৯৯২ সালে দায়িত্ব ছাড়েন।
এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরে এখনো কোনো নারী মহাসচিব হননি। তাই প্রথমবারের মতো একজন নারীকে এই পদে বসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিকভাবে দাবি রয়েছে।
নতুন মহাসচিব এমন একটি জাতিসংঘের দায়িত্ব নেবেন, যা নানা সংকটে চাপে রয়েছে। জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছা তহবিলে অর্থ কমিয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর বকেয়া চাঁদা ও আর্থিক সংকটে জাতিসংঘের তারল্য পরিস্থিতিও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বর্তমান মহাসচিব গুতেরেসের সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজা ও সুদানে সংঘাত এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিবের সামনে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।
কীভাবে নির্বাচিত হন জাতিসংঘের মহাসচিব?
পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করেন।
জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করে। এরপর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীর নিয়োগ অনুমোদন করে।
তবে মূল লড়াই হয় নিরাপত্তা পরিষদে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন—কেউ ভেটো দিতে পারবে না।
নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমে গোপন ও অনানুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে। এসব ভোটে কোনো প্রার্থীর জন্য ‘উৎসাহিত’, ‘মতামত নেই’ অথবা ‘নিরুৎসাহিত’—এই তিন ধরনের অবস্থান জানানো হয়।
এখন পর্যন্ত দুই দফা এমন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের পর গায়ানার প্রার্থী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট এগিয়ে রয়েছেন। তার পরেই রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং আর্জেন্টিনার রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি।
ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট— গায়ানা
জাতিসংঘে গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪-২৫ সালে তিনি নিরাপত্তা পরিষদে গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তার নির্বাচনি অঙ্গীকারের মূল বিষয় ছোট দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকারকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি ৮টি ‘উৎসাহিত’, ৩টি ‘নিরুৎসাহিত’ এবং ৪টি ‘মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। ফলে বর্তমানে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী।
রেবেকা গ্রিনস্প্যান— কোস্টারিকা
রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা UNCTAD-এর মহাসচিব। এর আগে তিনি কোস্টারিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপ-অর্থমন্ত্রী ছিলেন।
২০২২ সালের ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি মহাসচিবের কার্যালয় পুনর্গঠন, মধ্যস্থতার সক্ষমতা বাড়ানো, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার ওভারলেপিং দায়িত্ব কমানো এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে।
জুলাইয়ের প্রথম ভোটে তিনি ১০টি ‘উৎসাহিত’ ভোট পেলেও আগস্টের দ্বিতীয় ভোটে তা কমে ৭টিতে নেমে আসে।
রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি— আর্জেন্টিনা
রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর মহাপরিচালক। প্রায় চার দশকের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। গ্রোসি জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বাস্তববাদী বহুপাক্ষিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
আগস্টের ভোটে তিনি সাতটি ‘উৎসাহিত’ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। তবে ছয়টি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোটও পেয়েছেন।
তার প্রার্থিতা নিয়ে আরেকটি সমস্যা তৈরি হয়েছে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিরোধ। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য চাইলে তার প্রার্থিতায় ভেটো দিতে পারে।
মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা— ইকুয়েডর
ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা ২০১৮–১৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন ওই পদে দায়িত্ব নেওয়া চতুর্থ নারী এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রথম নারী।
তার অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হলো ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড আর্লি অ্যাকশন হাব’ গঠন করা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংকট বড় আকার ধারণ করার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগস্টের ভোটে তিনি মাত্র ৪টি ‘উৎসাহিত’ ভোট পান। ফলে বর্তমানে তিনি বেশ পিছিয়ে রয়েছেন।
মিশেল ব্যাশেলে— চিলি
চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ আমলাতন্ত্র সংস্কার, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।
তবে আগস্টের ভোটে তার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তিনি মাত্র ২টি ‘উৎসাহিত’ এবং ৬টি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট পান।
ম্যাকি সাল — সেনেগাল
সেনেগালের ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন ম্যাকি সাল। তার নির্বাচনি প্রচারের মূল বক্তব্য হলো ‘নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতা’। তিনি জাতিসংঘের সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রশাসনিক কাঠামো পর্যালোচনা এবং মানবাধিকার ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।
তবে তার সামনে বড় বাধা হলো—পরবর্তী মহাসচিব লাতিন আমেরিকা থেকে আসবেন, এমন প্রত্যাশা এবং প্রথম নারী মহাসচিব নির্বাচনের চাপ।
ওলারা ওতুনু— উগান্ডা
উগান্ডার অভিজ্ঞ কূটনীতিক ওলারা ওতুনু চার দশকের বেশি সময় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘে উগান্ডার রাষ্ট্রদূত এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
তিনি দায়িত্বের প্রথম দিন থেকেই ইউক্রেন, গাজা, কঙ্গো, সুদান ও ইরানের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।
জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে তার সমর্থন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে লাতিন আমেরিকার নারী প্রার্থী না হওয়ায় তিনিও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকতে পারেন।
ইভোনে এ-বাকি— ইকুয়েডর
ইকুয়েডরের কূটনীতিক ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ইভোনে এ-বাকি টোঙ্গার মনোনয়নে এই দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য সংঘাত প্রতিরোধ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার। তিনি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের পক্ষে।
তবে আগস্টের ভোটে তিনি কোনো ‘উৎসাহিত’ ভোট পাননি। তার বিপক্ষে ৮টি ‘নিরুৎসাহিত’ এবং ৭টি ‘মতামত নেই’ ভোট পড়ে। ফলে তার প্রার্থিতা বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
সামনে কী হবে?
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ও লবিং আরও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সম্মতি পাওয়া হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহে ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাঁটানো ছবির ভাঙ্গচুরের ঘটনার পর এবার গোলাম আজমের প্রতি জুতা নিক্ষেপের ছবি সাঁটানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ছবি ছাত্র ফেডারেশন কর্তৃক সাঁটানো হয়েছে, যা আশির দশকের একটি প্রতীক।
বায়তুল মোকাররম এলাকায় বাংলাদেশের ক্ষুব্ধ জনগণের মধ্যে জুতা নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়।
এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সাঁটানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এছাড়া, শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ছবি সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল ইতোমধ্যে নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে। তারা উপাচার্যের কাছে গিয়ে এই ছবি অপসারণের জন্য ডাকসুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দিয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তৈয়ব হালদার সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে এসব ছবি ছিঁড়ে ফেলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত পাকিস্তানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর দাবি তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে উপাচার্যের কার্যালয় ও ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতি ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছাত্রদল তাদের দাবি জানায়। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হন সংগঠনটির নেতারা।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন মন্তব্য করেন, ‘একজন বিতর্কিত ব্যক্তির ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় টানানো হয়েছে, যার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ডাকসুর ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টানিয়ে সংগঠনটির ঐতিহাসিক অবস্থানকে বিতর্কিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ডাকসুর সভাপতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবং বিতর্কিত ছবিগুলো অপসারণ না করলে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল গণতান্ত্রিকভাবে সেগুলো মোকাবিলার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় একটি বিশেষ গোষ্ঠীর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাখোশ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে ‘বিতর্কিত’ দুজন ব্যক্তির ছবি টানানো হয়েছে। এ ধরনের কাজ নৈতিকভাবে স্খলনজনিত এবং তা ছাত্রদল মেনে নিতে পারে না। এ কারণে ডাকসুর সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ছবিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’
গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি দুটি সরানো না হলে উপাচার্যের কার্যালয় ও ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ