ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০ দিনে ৩ বার বদলি, ঘুরে ফিরে নিজের জেলায় বিতর্কিত প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন


২০ দিনে ৩ বার বদলি, ঘুরে ফিরে নিজের জেলায় বিতর্কিত প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন

লক্ষ্মীপুরে উন্নয়ন কাজের বিল ছাড়াতে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন আদায়, অসম্পূর্ণ ভবনে ৩৩ কোটি টাকার শতভাগ বিল পরিশোধ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে ২০ দিনের ব্যবধানে তিন উপজেলায় বদলি করা হয় এবং পরে পুনরায় একই পদে বহাল করা হয় তাকে।

স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে ‘মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে ম্যানেজ’ করে বদলি আদেশ বাতিল করে নিজ জেলার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন পুনরায় স্বপদে বহাল হয়েছেন।

দাপ্তরিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে (স্মারক নং-৯৫৩৫) ইকবাল হোসেনকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় বদলি করা হয়। এর মাত্র এক সপ্তাহ পর তাকে পরশুরাম থেকে সরিয়ে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী করা হয়। তবে ১০ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন নিজেই অপর এক অফিস আদেশে (স্মারক নং-১০১৪৭) পূর্বের বদলি বাতিল করে ইকবাল হোসেনকে পুনরায় লক্ষ্মীপুর সদরে বহাল করেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর

অপরদিকে, বরিশালের মুলাদী থেকে বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হককে জেলা সদরে বদলি করা হলেও তিনি একদিনের জন্যও অফিসে যোগদান করার সুযোগ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, জিয়াউল হক দায়িত্ব নিতে এলে ইকবাল হোসেন তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে অফিস থেকে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা নতুন অফিস আদেশে (স্মারক নং-১০১৪৬) পূর্বের সদর উপজেলার বদলি আদেশ সংশোধন করে জিয়াউল হককে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পিটিআই প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে শতভাগ বিল দেওয়ার অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই ইকবাল হোসেন নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব নিতে বাধা দেন এবং সদরের পদ আঁকড়ে ধরেছেন।

লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) পাঁচতলা একাডেমিক ভবন ও মহিলা হোস্টেল নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে কয়েক দিন ধরে জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনগুলোর আস্তর, রং, টাইলস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। অথচ মোট ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যের এই দুটি প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার শতভাগ বিল ছাড় করা হয়েছে। কাজ শেষ না হতেই শতভাগ বিল নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ঠিকাদার বেলাল হোসেন ও এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।

আরও পড়ুন: সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর

নির্মাণাধীন মসজিদ, পুকুরঘাট, কালভার্ট ও গভীর নলকূপের বিল পাশের জন্য ৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগে গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএসএম মহসীনকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় (স্মারক নং-৭২৫৯)। তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছেন, এমন অভিযোগ রয়েছে।

দপ্তরের কর্মচারীদের অভিযোগ, কথায় কথায় অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করায় পুরো অফিসে একধরনের জিম্মিদশা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার বলেন, প্রধান প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে ২০ দিনের মধ্যে ফিরে আসায় তিনি এখন আরও বেপরোয়া। দ্রুত তার অপসারণ ও তদন্তের শাস্তি বাস্তবায়ন করা না হলে উপজেলার সব উন্নয়নকাজ স্থবির হয়ে পড়বে।

এ ছাড়া সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা নিজ জেলায় পদায়ন বা দায়িত্বে থাকতে পারেন না বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ইকবাল হোসেনের নিজ বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৫ নম্বর চরপাতা ইউনিয়নের চরপাতা গ্রামে হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ জেলা সদর উপজেলায় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিধি লঙ্ঘন করে নিজ জেলায় বহাল থাকায় তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ঠিকাদারদের ওপর দাপট দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মামলা, আসামি তানভীর ও সুমন

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুর সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, কাজ অসম্পূর্ণ রেখে শতভাগ বিল পরিশোধ ও কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সবার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত দুটি ফোনও বন্ধ রয়েছে। এর আগে তিনি জানান, "যে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে, সে অপরাধী। ভালো লোক না। আমিও এসব বিষয়ে দেখছি।"

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।

আরও পড়ুন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন, গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন, গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইলের বিধিনিষেধকে বিশ্বের জন্য ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি আবেগঘন ভাষণ প্রদান করেন। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও গাজা সিটিতে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ‘তথাকথিত যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন।

ম্যাক্রোঁ তার ভাষণে উল্লেখ করেন, এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রায় এক ডজন দেশের মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাজার ঘটনায় যদি আমরা নিষ্ক্রিয় থাকি, তাহলে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় যাবে?

তিনি বলেন, কিছু লোক কথিত শান্তির বড়াই করছেন। কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেয়নি। আমাদের কি এমন দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হবে, যা আমাদের সবাইকে লজ্জিত করে? কখনোই নয়।

ম্যাক্রোঁ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের প্রতিদিনের ‘লঙ্ঘন’ নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশী সব দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ওপর ইসরাইলের নিরাপত্তা নির্ভর করে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এতে বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইসরাইলের নিরাপত্তা দুর্বল হবে এবং তা হুমকির মুখে পড়বে।

ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউএনজিএতে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বার্নহ্যাম বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনীতিবিদদের ওপর মানুষের আস্থা আরও কমবে। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু কথার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ না থাকলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।

বার্নহ্যাম জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে বাণিজ্যও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। তিনি ইসরাইলের ‘ই-১’ বসতি প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাধাগ্রস্ত করার ‘ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

কার্নি জানান, সহায়তার ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২০ শতাংশ ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’ নিশ্চিতকরণের জন্য ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার বহুবর্ষী উদ্যোগও রয়েছে।

গাজায় ফিলিস্তিনিরা অপরিসীম মানবিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ইসরাইলিরাও হামাস, ইরান ও তাদের মিত্রদের কাছ থেকে ‘অস্তিত্বের হুমকি’ মোকাবিলা করছে।

তিনি ইসরাইলের ই-১ বসতি প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান। এ ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ঘোষণাকারী ১২টি দেশের মধ্যে কানাডাও রয়েছে।

ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ৬০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি বা প্রায় ৪২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অটোয়া।

সূত্র: আলজাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিদিনের যেসব অভ্যাসে ক্ষতি হচ্ছে হাঁটুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


প্রতিদিনের যেসব অভ্যাসে ক্ষতি হচ্ছে হাঁটুর

হাঁটু শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, বসা অথবা দাঁড়ানো, এই সব দৈনন্দিন কার্যকলাপে হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনের কিছু অভ্যাস রয়েছে, যা আমরা নিয়মিতভাবে করি, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথা সৃষ্টি না করলেও ধীরে ধীরে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

হাঁটুর সমস্যা শুধুমাত্র বয়স বৃদ্ধির ফল নয় অথবা কোনো আঘাতের কারণে নয়। দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ভুলভাবে ব্যায়াম করা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা কিংবা উপযুক্ত জুতা না পরার মতো অভ্যাসগুলোও হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের কোন অভ্যাসগুলো আপনার হাঁটুর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা

দিনের অধিকাংশ সময় বসে থাকলে হাঁটুকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় উরু ও নিতম্বের পেশি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে হাঁটার সময় হাঁটু পর্যাপ্ত সহায়তা পায় না। দীর্ঘ সময় হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকলে উঠে দাঁড়ানোর সময় শক্তভাব বা আড়ষ্টতা অনুভব হতে পারে।

অতএব, একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে হাঁটাহাঁটি করা অথবা পা হালকাভাবে নড়াচড়া করা উপকারী হতে পারে।

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সিঁড়ি ভাঙা

সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা একটি ভালো শারীরিক কার্যকলাপ হতে পারে। তবে শারীরিক সক্ষমতা না থাকলে বারবার অনেক সিঁড়ি ভাঙলে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে যদি আগে থেকেই হাঁটুতে ব্যথা বা পেশি দুর্বল থাকে, তাহলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

সিঁড়ি ব্যবহারের সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে চলা এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত।

ওয়ার্ম-আপ ছাড়াই ব্যায়াম শুরু করা

দৌড়ানো, লাফানো বা স্কোয়াটের মতো ব্যায়াম হঠাৎ শুরু করলে পেশি ও জয়েন্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। কয়েক মিনিটের হালকা নড়াচড়া শরীরকে ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।

কঠোর ব্যায়াম শুরুর পূর্বে ওয়ার্ম-আপ করা উচিত। একইসাথে, ব্যায়ামের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো।

ব্যায়ামের সময় হাঁটুর ব্যথা উপেক্ষা করা

ব্যায়ামের পর সামান্য পেশির ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু হাঁটুর ব্যথা যদি বারবার হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা ক্রমেই বাড়তে থাকে, তাহলে সেটি অবহেলা করা উচিত নয়।

ব্যথা উপেক্ষা করে একই ধরনের ব্যায়াম চালিয়ে গেলে বিদ্যমান সমস্যা আরও বাড়তে পারে। প্রয়োজনে ব্যায়ামের ধরন বা তীব্রতা কমিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক সাপোর্ট নেই এমন জুতা পরা

জুতা শুধু পায়ের আরামের বিষয় নয়, এটি হাঁটুর সময় পা ও হাঁটুর ওপর চাপ কিভাবে পড়বে, তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভুল মাপের বা পর্যাপ্ত সাপোর্ট না দেওয়া জুতা হাঁটুর স্বাভাবিক ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় হাঁটা বা ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে আরামদায়ক, সঠিক মাপের এবং কাজের উপযোগী জুতা বেছে নেওয়া উচিত।

একেবারেই শারীরিক পরিশ্রম না করা

হাঁটুর জন্য শুধুমাত্র অতিরিক্ত ব্যায়ামই সমস্যা নয়, একবারেই শরীরচর্চা না করাও ভালো নয়। কোমর ও উরুর পেশি শক্তিশালী থাকলে তা হাঁটুকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।

নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো কম চাপযুক্ত শারীরিক কার্যকলাপ শরীর সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন

শরীরের ওজন বেশি হলে দৈনন্দিন চলাফেরার সময় হাঁটুর ওপর চাপও বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হাঁটুর অস্বস্তি এবং অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

স্কোয়াট বা ভারোত্তোলনের ভুল কৌশল

স্কোয়াট, লাঞ্জ বা ভারত্তোলনের সময় সঠিক কৌশল না মানলে হাঁটুর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারী ওজন নিয়ে বারবার একই ব্যায়াম করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাহলে ওজন বা ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানোর আগে সঠিক কৌশল শেখা অত্যন্ত জরুরি। নতুন করে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম শুরু করলে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে সঠিক পদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য যেসব অভ্যাসে পরিবর্তন করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য যেসব অভ্যাসে পরিবর্তন করবেন

ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব, তবে এজন্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে। যদিও ক্যানসার সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও ক্যানসারের বিভিন্ন বাহ্যিক ও পরিবেশগত কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মরণব্যাধি এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে কিছু অভ্যাসের কারণে। চিকিৎসকরা জানান, ক্যানসার নিরাময় বা নির্মূল হবে— এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

ক্যানসার কখন শরীরে বাসা বাঁধবে, তা আগে থেকে বোঝা খুবই কঠিন। ক্লান্তি বাড়লে অনেকেই মনে করেন এটি অতিরিক্ত কাজের চাপের ফল। কিন্তু যিনি ক্রনিক অম্বল, বদহজম, গ্যাস, পেটে যন্ত্রণা বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তিনি কি কখনো ভেবেছেন যে, এসব লক্ষণ অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে?

শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তি ও অসুখকে অবহেলা করা বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ক্যানসারের ভয় দূর করতে হলে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস এখনই পরিবর্তন করা উচিত।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসে পরিবর্তন আনবেন—

১. ধূমপান

ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ধূমপান কমাতে হবে। যদি কেউ দিনে ৬টি সিগারেট খান, তাহলে সেই সংখ্যা কমিয়ে ২টিতে আনতে হবে। তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন থাকে, যেমন— বেনজিন, ফরম্যালডিহাইড ও নাইট্রোসামিন, যা কোষের ডিএনএ গঠনে বাধা দেয় এবং জিনগত পরিবর্তন ঘটায়। ফলে ক্যানসারের কোষ জন্ম নেওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত।

২. অ্যালকোহল

যদি আপনার অ্যালকোহল পান করার অভ্যাস থাকে, তা বন্ধ করা উচিত। কারণ অ্যালকোহল শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে গিয়ে ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামে একটি বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়। এটি ডিএনএ প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। এছাড়া অ্যালকোহল শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অ্যালকোহল পরিহার বা সীমিত করলে লিভার, মুখ ও গলা, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয়, স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।

৩. খাবার খাওয়া

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কিংবা কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা পেট ফাঁকা রাখতে হবে। গবেষকরা রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরের দিন সকাল ৮টা বা ১০টায় প্রাতঃরাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সময়টাতে শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ প্রক্রিয়া চলে, যেখানে শরীর নিজেই কোষে জমে থাকা টক্সিন এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে ধ্বংস করে।

৪. ঘুমের নিয়ম

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার মধ্যে শুয়ে পড়া শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য উপকারী। কারণ রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরের ডিএনএ মেরামতের কাজ চলে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমানোর সময় শোবার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা বাঞ্ছনীয়। নীল আলো সামান্য মাত্রায় থাকলেও মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। এই মেলাটোনিন যে কোনো টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করতে পারে।

৫. প্লাস্টিকের ব্যবহার

প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে গরম খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নন-স্টিক বাসনের পরিবর্তে লোহা বা স্টেনলেস স্টিলের বাসন ব্যবহার করা উচিত। প্লাস্টিকের ব্যাগ বা টিফিন বাক্সের ব্যবহার কমালে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে। প্লাস্টিক এবং নন-স্টিক বাসনে বিসফেনল-এ, থ্যালেট, পিএফএএসের মতো রাসায়নিক থাকে, যা হরমোনের গোলমাল ঘটায় এবং কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সহায়তা করে। এর ফলে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েডের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ করতে প্রস্তুত। নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি এই তথ্য দেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠক করেন। বৈঠকে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শীত আসার আগে এই অর্থহীন রুশ যুদ্ধের অবসান চান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন উভয়ই। তিনি জানান, সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা কূটনীতির পথ খুলে দিতে পারে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, "আমরা জ্বালানি যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত।" তিনি উল্লেখ করেন, "যদি তারা আমাদের ডিজেল, শোধনাগারসহ অন্যান্য স্থাপনায় হামলা না করতে চায়, তবে আমরাও প্রস্তুত।" তবে, তিনি সতর্ক করেন যে, তাদেরও বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহের মতো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হবে।

নতুন হামলার সতর্কতা

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতার ওপর ইউক্রেনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, এসব হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দামের ওপর পড়ছে।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা নিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্রাম্প বলেন, "এটি রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের আঘাত।" তিনি আরও জানান, ডিজেলের দামের ওপরও এটি বড় প্রভাব ফেলছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমাধান নিয়েও আলোচনা হবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই দেশ একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে, এর পরপরই আবার হামলা শুরু হয়।

জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে’ বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে, যা শীত মৌসুমে ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থার আরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার তেলশিল্পের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

শীতকালে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহব্যবস্থায় ফের বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে, ট্রাম্পের সঙ্গে শীতকালীন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন, যা ইউক্রেনের হাতে থাকা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম একমাত্র অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকে এ শীতে প্যাট্রিয়ট পাওয়া গেলে জার্মানির সঙ্গে ইউক্রেনের চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র থেকে তা সমন্বয় করা হবে। জার্মানি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ইউক্রেনকে ৬০০টি প্যাট্রিয়ট দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান না করায় এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো এতে সম্মতি দেননি বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ইউক্রেনে লাইসেন্সের আওতায় প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে চাপ দিতে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের অবকাঠামোর জন্য আরও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%