ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঝিরিপথ পেরিয়ে চবির শহীদ মিনারে পাহাড়ি শাকসবজির বাজার অনুষ্ঠিত


ঝিরিপথ পেরিয়ে চবির শহীদ মিনারে পাহাড়ি শাকসবজির বাজার অনুষ্ঠিত

ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে স্থানীয় কৃষকেরা কাঁধে শাকসবজি ও ফলমূলের ঝুড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করেন। কিছু কৃষক বড় বাজারে পণ্য নিয়ে গেলেও অনেকেই এখানে বসে নিজেদের পণ্য বিক্রি করেন। বিক্রেতাদের মতে, মধ্যস্বত্বভোগী না থাকার কারণে এসব পণ্য সাধারণ বাজারের তুলনায় কম দামে পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন স্বল্প পরিসরে এই বাজারটি বসে। এখানে পাহাড়ি শাকসবজি, কলা, তেঁতুল, সফেদা, জামরুলসহ বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায়। তবে বাজারটির প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড়ি আনারস। চট্টগ্রামের পাহাড়ি আনারসের পরিচিতি থাকলেও এখানে একটি আনারসের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে থাকে, যা স্থানীয় বাজারের তুলনায় কম।

কৃষকেরা সকালে নিজেদের উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূল নিয়ে এসে বিক্রি করেন। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার সুযোগ থাকায় ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে সক্ষম হন। কৃষকদের দাবি, বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে বিক্রি না হওয়ায় এসব পণ্য সাধারণত সতেজ থাকে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এই বাজারের প্রধান ক্রেতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বাজারটি জমজমাট থাকে। ক্লাস শেষে শিক্ষক-কর্মকর্তারা কিংবা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শাকসবজি ও ফলমূল কিনে নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আনাগোনা কমে গেলে বাজারও গুটিয়ে যায়।

শিক্ষকদের অনেকেই এই এলাকা থেকে বাসে ওঠেন। ফলে যাতায়াতের পথে প্রয়োজনীয় বাজার করে নেওয়ার সুযোগ পান তারা। শহীদ মিনার ছাত্রী হলসংলগ্ন হওয়ায় নারী শিক্ষার্থীদেরও এই বাজারে কেনাকাটা করতে দেখা যায়।

বাজারের অন্যতম পুরোনো বিক্রেতা বাশার। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এখানে ব্যবসা করছেন। পাহাড়ে নিজের জমিতে উৎপাদিত শাকসবজি নিয়ে এসে বিক্রি করেন। ছুটির সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই তার প্রধান ক্রেতা। মধ্যস্বত্বভোগী না থাকার কারণে এখানকার পণ্যের দাম তুলনামূলক কম বলেও জানান তিনি।

মো. ইলিয়াস সফেদা, আম ও লেবু বিক্রি করছিলেন। তিনি জানান, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই এলাকায় ব্যবসা করছেন। স্বল্প পরিসরে এখানে বসে ফল বিক্রি করেন। কিছু পণ্য বিক্রি না হলে পরে অন্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

পাহাড়ি কলা নিয়ে বসেছিলেন আবুল কালাম। তিনি জানান, নিজের গাছের কলা প্রতিদিন নিয়ে এসে বিক্রি করেন। বাজারের তুলনায় তার কলার দামও কম। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কলা বিক্রি করায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার পরিচিতি ও সখ্য তৈরি হয়েছে।

শহীদ মিনারসংলগ্ন বাজার থেকে আনারস কিনছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিসা কারিমা। তিনি বলেন, "আসলে এই বাজার থেকে কিছু কেনার উদ্দেশ্যে বের হয়ে কেনা হয় না। ক্লাস শেষে যাওয়ার সময় চোখে যা পড়ে, ভালো লাগলে নিয়ে নিই। এখানকার শাকসবজি ও ফলমূল সতেজ ও টাটকা। সবার ক্ষেত্রেই হয়তো বিষয়টি এমন। কেননা ক্যাম্পাসের দুই নম্বর গেট ও বউবাজারে সপ্তাহে আলাদা চার দিন হাট বসে। সেখান থেকেও আমরা বাজার করি।"

ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মধ্যেও পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বসা এই ছোট বাজারটি শুধুমাত্র কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি সহজ পথ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনুমতি ছাড়া অন্য শহরে ভ্রমণের অভিযোগে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার শাস্তির মুখে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


অনুমতি ছাড়া অন্য শহরে ভ্রমণের অভিযোগে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার শাস্তির মুখে

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্যর্থতার পর, এবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। টিম ম্যানেজমেন্টের অনুমতি ছাড়া এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণ করার কারণে সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয় এবং রিশাদ হোসেনকে আর্থিক জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বাংলাদেশ দলের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়টিও এখন আলোচনায় এসেছে। বিসিবির একটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে দেশের একটি গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া অন্য শহরে ভ্রমণের কারণে তিন ক্রিকেটারকে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয় এবং রিশাদ হোসেনের প্রত্যেককে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে ক্রিকেটারদের এই বিষয়ে জানানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলেও, র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশ সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে পদক জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় লিটন দাসের দলের।

বিশেষ করে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ছিল লক্ষ্যণীয়। শ্রীলঙ্কার তুলনামূলক দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারে।

মাঠের এই ব্যর্থতার পর, টিম ম্যানেজমেন্টের অনুমতি ছাড়া ভ্রমণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তবে তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার বিষয়ে বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শাস্তির চূড়ান্ত পরিমাণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়কে অটোরিকশা ও ফুটপাতে হকার, যানজটে অতিষ্ঠ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


সড়কে অটোরিকশা ও ফুটপাতে হকার, যানজটে অতিষ্ঠ মানুষ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগ ভোগ করছেন। সদরপুরের প্রধান সড়কে ব্যস্ত সময়ে যানজট একটি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে।

ভ্যাপসা গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা, প্রধান সড়কে ইজিবাইক ও অটোরিকশার যত্রতত্র পার্কিং, চালকদের ইচ্ছেমতো ইউটার্ন নেওয়া এবং সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরপুরে নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা না থাকায় কৃষ্ণপুর মোড়, কলেজ মোড়, দর্জিগলি ও সদরপুর বাজারসংলগ্ন প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহন পার্ক করে রাখা হয়। ব্যস্ত সময়ে এসব যানবাহন সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে রাখায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বাস ও ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন প্রধান সড়কে প্রবেশ করলে অনেক সময় যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন বিভিন্ন পেশার প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নানা প্রয়োজনে সদরপুর উপজেলা সদরে আসেন। যানজট কখনো কখনো প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো সেবাগুলোও বিড়ম্বনায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সদরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা তাজিম বেপারি মন্তব্য করেন, দিন দিন সদরপুরে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় সড়ক ব্যবস্থাপনা ও যান নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত যানজট বাড়ছে, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বেড়ে চলেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজার এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। ফুটপাত দখলে থাকায় পথচারীরাও বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এতে যানজট আরও বাড়ে এবং ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শিক্ষার্থী জিতু আক্তার বলেন, স্কুলে যাওয়ার সময় প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়। ইজিবাইক ও অটোরিকশা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায় যান চলাচল ধীর হয়ে যায়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন জানান, সদরপুরে যানজট নিরসনে অচিরেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি পার্কিং বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে যানজট সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা হবে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালু, সড়কে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ এবং নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে সদরপুর উপজেলা সদরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকার অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাকে টেকসই করার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত কাঠামো গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কৌশলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান, কর্মসংস্থানের সমাধান’ শীর্ষক ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাকে সরকারের কৌশলগত কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির পরিমাণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের ম্যান্ডেটকে একটি সুনির্দিষ্ট পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোয় রূপ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এতে যেমন রয়েছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের দার্শনিক ভিত্তি, তেমনি রয়েছে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ও টেকসই সমৃদ্ধির যাত্রায় সরকার ‘৩আর’ (3R) কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে গড়ে তোলা।

অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ‘৩আর’ কৌশল ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রথম ‘আর’—রিকভার (Recover)। এর লক্ষ্য হলো ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং অর্থনীতিকে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা।

দ্বিতীয় ‘আর’—রেস্টোরেশন (Restoration)। এর আওতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনীতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় ‘আর’—রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন (Reconstruction for Acceleration)। এর মাধ্যমে দ্রুত পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পন্ন করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন এর সঙ্গে পর্যাপ্ত ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী সেই প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারবে।

শিক্ষিত যুবসমাজের বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নাগরিকত্ববোধ ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন খাতের শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৭ জন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, আবুল খায়ের গ্রুপ, বেটোপিয়া গ্রুপ, টেলিটক, ইনোফিক্স আইটি সলিউশনস লিমিটেড, বেনকিউ, টেকনোডেরা, টিপি-লিংক বাংলাদেশ, সিঙ্গার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, রাজবাড়ী জুট মিলস লিমিটেড, গ্রামীণফোন, আকিজ রিসোর্স, মেটাডোর ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, বিকাশ, বিআরবি কুষ্টিয়া, গোল্ডেন জুট ও ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের বিপজ্জনক রাসায়নিক কনটেইনার সরানোর কার্যক্রম শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


চট্টগ্রাম বন্দরের বিপজ্জনক রাসায়নিক কনটেইনার সরানোর কার্যক্রম শুরু

দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পুরোনো ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ অপসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ধ্বংসের জন্য ৯টি কনটেইনার নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের এইট বি ইয়ার্ড থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় রাসায়নিক বহনকারী গাড়িগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

প্রথম ধাপে সরিয়ে নেয়া ৯টি কনটেইনারের মধ্যে রয়েছে কের সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডের ১টি কনটেইনার, মিথানলের ৫টি কনটেইনার এবং থিনারের ২টি কনটেইনার। এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংসের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

আমদানির পর বিভিন্ন কারণে এসব রাসায়নিক বন্দর থেকে খালাস নেয়া হয়নি। মামলার জটিলতা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিপজ্জনক রাসায়নিক ভর্তি কনটেইনারগুলো দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে ছিল।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আটকে থাকা মোট ২৯টি কনটেইনারে প্রায় ৮১ টন রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এসব রাসায়নিক বন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। বিষয়টির সমাধানে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অপসারণ করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় রাসায়নিক বহনকারী গাড়িগুলো বন্দরের এইট বি ইয়ার্ড থেকে রূপগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।

পর্যায়ক্রমে বাকি কনটেইনারগুলো সরানো হবে। প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার অপসারণের পর বন্দরের এলাকায় অবস্থিত অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকও পর্যায়ক্রমে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মোট ২৯টি কনটেইনারের অবশিষ্ট কনটেইনারগুলোও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব রাসায়নিক অপসারণের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য সংরক্ষণের চাপ কমবে। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%