ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে লক্ষ্ণীপুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা


জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে লক্ষ্ণীপুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা

“রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ রোববার থেকে লক্ষ্ণীপুরে পালিত হচ্ছে।

এ কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মাছের পোনা অবমুক্ত করণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জশিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক, সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম, পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এছাড়া, বিভিন্ন মৎস্যজীবি, উদ্যোক্তা, খামারী, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।

এদিন সকালে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের শেষ প্রান্তে অবস্থিত সরকারী শিশু পরিবারের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মেহেদী হাসান। পরে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। কর্মসূচীর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে মাছ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা, আমিষের ঘাটতি মিটানো এবং মাছ উৎপাদনে দেশ ও নিজের স্বাবলম্বি হয়ে বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে মজবুত করা।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাঙ্গলকোটে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসা সুপারের ব্যবস্থাপনায় চলছে নূরানী পাঠদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ পি.এম


নাঙ্গলকোটে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসা সুপারের ব্যবস্থাপনায় চলছে নূরানী পাঠদান

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা আদ্রা উওর ইউনিয়নে অবস্থিত মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ভবনে দীর্ঘদিন যাবৎ নূরানী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর। তিনি মেরকট বাজার কিন্ডার গার্টেন নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটির একই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে নূরানী হাফেজিয়া নামক একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, যা মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের তত্ত্বাবধানে চলছে। এই নূরানী প্রতিষ্ঠানে প্রথম জামাত থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় 75 জন। একই সঙ্গে, শ্রেণিভেদে নূরানী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে 200 থেকে 350 টাকা পর্যন্ত বেতন আদায় করা হচ্ছে। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণী কার্যক্রম চলাকালীন নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ডে-কেয়ার পড়ানোর নামে আলাদা 200 টাকা প্রতি মাসে নেয়া হয়।

১৫ আগস্ট শনিবার সকালে সরেজমিনে মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষে সুপারের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা পূর্ব পাশে চারটি শ্রেণিকক্ষে নূরানি বিভাগের পাঠদান চলছে। সেখানে প্রায় 60 জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন ও শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন মাওলানা মোশাররফ হোসেন। নূরানী তৃতীয় জামাত একটি শ্রেণীকক্ষে দেখা যায়, 4টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে 3টি বেসরকারি প্রকাশনার বই দিয়ে পাঠদান চলছিল।

ভূক্তভোগীরা জানায়, তারা প্রথম শ্রেণিতে মাসিক বেতন বাবদ 200 টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে 300 টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণিতে 350 টাকা বেতন দিয়েছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর। এছাড়া, ডে-কেয়ার বাবদও অতিরিক্ত 200 টাকা ফি নেয়া হয়। মাদ্রাসার প্রথম জামাতের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের মা নাছিমা আক্তার বলেন, "আমার ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আমরা প্রতি মাসে 200 টাকা করে বেতন দিচ্ছি এবং ডে-কেয়ার বাবদ আরও 200 টাকা দিচ্ছি।" মাদ্রাসা তৃতীয় জামাতের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, "আমরা প্রথম জামাত থেকে মাসিক বেতন দিয়ে পড়ালেখা করছি। আমাদের মাদ্রাসার নাম মেরকট বাজার কিন্ডারগার্টেন নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা। আমাদের হুজুররা নূরানি সিলেবাস অনুযায়ী পড়াচ্ছেন।"

নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোশাররফ বলেন, "আমাদের নূরানী শাখায় 75 জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নূরানী কিছু বই থেকে আমরা পাঠদান করি।" তিনি আরও জানান, "দাখিল মাদ্রাসার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এটি একটি আলাদা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল গফুর সাহেব আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান।" দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা ফয়জুল্লাহ বলেন, "এটি মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার একটি শাখা। আমরা নূরানি শাখা হিসবে এটি ব্যবহার করছি।"

মাদ্রাসা দাতা সদস্য আবুল কালাম বলেন, "মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও এখানে নূরানী কার্যক্রম চলছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভবনে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।" এ বিষয়ে মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল গফুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি ব্যস্ত আছি, মাগরিবের পর ফোন করব।" তবে, পরে মাগরিবের পর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার ও অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক এডহক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, "মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা নূরানি শাখা ছিল না, আমি জানতাম না, হয়তো নতুন করে তারা পরিচালনা করছে।" নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, "আমি নূরানী শাখার বিষয়ে অবগত নই। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভবনে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোন নিয়ম নেই, তবে আমি মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।" নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অত্র প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ বার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ পি.এম


৭ বার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা, অতঃপর...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ধর্ষণের, তার চাচাতো ভাইয়ের। এই জঘন্য অপরাধের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসানো হয় এবং অভিযুক্তকে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওই ১৩ বছরের কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত যুবকের নাম জাহিদুর ইসলাম। তার বয়স ২৪ বছর এবং তিনি ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুরা গ্রামের মাইজম বাড়ির সফিল মিয়ার ছেলে। জাহিদুর পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাহিদুর ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায় এবং বাড়ির পাশে একটি নির্জন ভাঙা ঘরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে এসে তার বড় বোনকে ঘটনার সকল বিষয় জানিয়ে দেয়। অভিযুক্ত জাহিদুর শেষ পর্যন্ত হুমকি দেন, যদি কিশোরী কাউকে বলে তাহলে তাকে মেরে ফেলা হবে।

পরবর্তীতে, পরদিন সকালে কিশোরীর বড় ভাই এই ঘটনার ব্যাপারে জাহিদুকে জিজ্ঞাসা করলে অভিযুক্ত উল্টো হুমকি দেন এবং মামলা করলে সব দেখার হুমকি দেন। এই অবস্থায় ভুক্তভোগীর পরিবার বাধ্য হয়ে স্থানীয় এক গ্রাম্য সর্দারের শরণাপন্ন হয়। এরপর সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন। সালিশের মাধ্যমে জাহিদুরের বিরুদ্ধে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেখানকার লোকজন।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই জানান, তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী নয় তবে মানসিক ও আচরণগত দিক থেকে সে খুব সহজ-সরল। এছাড়াও তিনি জানান, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই অপরাধ ঘটানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর যথাযথ শাস্তির দাবি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে ভর্তি করার পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং গাইনি কনসালটেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। চিকিৎসকের চূড়ান্ত পরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনের মন্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ে এনে দিয়েছে অভূতপূর্ব সফলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


গাজীপুরের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ে এনে দিয়েছে অভূতপূর্ব সফলতা

গাজীপুর, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনার পোশাক কারখানাসমূহের একটি প্রধান স্থান হলো গাজীপুর। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পে গাজীপুরে এক নীরব কিন্তু সুদূরপ্রসারী পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ বিপ্লব’ ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য টেকসই উৎপাদনের ওপর যখন সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, তখন গাজীপুরের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ে এনে দিয়েছে অভূতপূর্ব সফলতা। মার্কিন গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল স্বীকৃত শতভাগ পরিবেশবান্ধব কারখানা বা ‘লিড’ সার্টিফাইড কারখানার একটি বিশাল অংশ বর্তমানে এই জেলাতে অবস্থিত, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও নির্ভরতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে গাজীপুরের শ্রীপুর, কোনাবাড়ী ও টঙ্গী শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করার সময় দেখা গেছে যে, অন্ধকারাচ্ছন্ন, অপরিসর এবং উত্তপ্ত গতানুগতিক পরিবেশ পেছনে ফেলে আধুনিক এসব গ্রিন ফ্যাক্টরি আলো-বাতাসে পরিপূর্ণ। কারখানার উন্মুক্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ বাগান। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পানির অপচয় রোধ, এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করে শ্রমিকদের জন্য এমন একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় কর্মপরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

টেকসই প্রযুক্তি: শক্তি ও পানির সাশ্রয়

গাজীপুরের পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলোর প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য হলো সম্পদ ও শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। কারখানাগুলোর ছাদে বসানো বিশাল আকৃতির সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল দিনের মোট বিদ্যুতের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মেটায়। এর ফলে প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং কার্বন নির্গমন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ করতে এসব কারখানায় চালু করা হয়েছে ‘রেইনওয়াটার হারভেস্টিং’ বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতি। বিশাল ছাদ থেকে সংগৃহীত বৃষ্টির পানি পরিশোধনের মাধ্যমে ওয়াশিং ও ডাইংয়ের মতো কাজে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ইটিপি এর মাধ্যমে বর্জ্য পানি শোধন ও রিসাইক্লিং নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় গাজীপুরের প্রাধান্য

পরিবেশবান্ধব স্থাপনার বৈশ্বিক মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশে বর্তমানে লিড সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা ২৯১টি, যার মধ্যে ১১১টি সর্বোচ্চ মানের ‘প্লাটিনাম’ এবং ১৩৩টি ‘গোল্ড’ সনদপ্রাপ্ত।

সর্বশেষ মানদণ্ড অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিবিসি প্রদত্ত পয়েন্ট তালিকায় বিশ্বের সেরা ১০টি গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে বাংলাদেশেরই প্রাধান্য। ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ১০৮ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বের এক নম্বর বা শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে গাজীপুরের হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড। ১০৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত মাসকো গ্রুপের ‘তাসনিয়া ফেব্রিক্স লিমিটেড’। এছাড়া দেশের সেরা শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার তালিকায় রয়েছে গাজীপুরের এসএম সোর্সিং, তানিশাfebrics, ইস্প্রিট অ্যাপারেলস, নিট এশিয়া, ইন্ট্রিগ্রা ড্রেসেস, লিডা টেক্সটাইল অ্যান্ড ডাইং এবং লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ।

উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের সুফল সম্পর্কে মাসকো গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন খান বাসস’কে জানান, ‘নির্মল বাতাস, শক্তি সাশ্রয়ী লাইটিং, পানির অপচয় রোধ ও ৩০% সবুজ এলাকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা কাজের চমৎকার পরিবেশ তৈরি করেছি। বায়াররা এখনো সরাসরি কোনো বাড়তি ‘প্রাইস বেনিফিট’ না দিলেও অভ্যন্তরীণ পরিচালনা খরচ নিয়ন্ত্রণ, লস শনাক্তকরণ এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। এ সুফলের কারণে আমাদের গ্রুপের ১৪টি কারখানাকেই পর্যায়ক্রমে এই মানদণ্ডে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বাসস’কে বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক লিড সনদপ্রাপ্ত সবুজ পোশাক কারখানার দেশ। তবে কেবল ভবনের সনদই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত অর্থে একটি গ্রিন কারখানাকে জ্বালানি দক্ষতা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পানি সাশ্রয় ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক দক্ষতা দেখাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রধান বাজারগুলোতে পরিবেশ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। আগামী দিনে টেকসই উৎপাদন কেবল কমপ্লায়েন্স নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার প্রধান শর্ত হয়ে উঠবে। গাজীপুরকে একটি মডেল ‘গ্রিন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার, বিজিএমইএ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে যৌথভাবে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের সাড়া

হ্যামস গার্মেন্টসসহ শীর্ষস্থানীয় গ্রিন প্রজেক্টগুলোর কারিগরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘৩৬০ ডিগ্রি টোটাল সলিউশন’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত আহমেদ বাসস’কে বলেন, গাজীপুরে বিপুলসংখ্যক গ্রিন বিল্ডিং গড়ে ওঠার মূল কারণ তৈরি পোশাক খাতের সাস্টেইনেবিলিটি চর্চা এবং বায়ারদের চাহিদা। গ্রিন বিল্ডিং তৈরি করলে এনার্জি ও ওয়াটার এফিসিয়েন্সি বাড়ে, যা সরাসরি কারখানার পরিচালনা খরচ কমিয়ে দেয় এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের ইতিবাচক মনোভাব তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, ‘গ্রিন সার্টিফিকেশনের কারণে ক্রেতা সরাসরি বাড়তি অর্থ না দিলেও অর্ডারের ক্ষেত্রে শতভাগ অগ্রাধিকার দেন। অতীতে রানা প্লাজা অথবা তাজরীন ফ্যাশনের যে নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ববাজারে তৈরি হয়েছিল, আজ বিশ্বসেরা ১০টি গ্রিন প্রজেক্টের অধিকাংশ বাংলাদেশে থাকায় সেই কালিমা দূর হয়ে দেশের সুদৃঢ় ব্র্যান্ডিং তৈরি হয়েছে। লিড সার্টিফাইড কারখানাগুলো বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও প্রায় শতভাগ সক্ষমতায় উৎপাদনে থাকছে। অনেক আন্তর্জাতিক বায়ার গ্রিন সনদপ্রাপ্ত কারখানার শতভাগ উৎপাদন সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে বুকিং করে নিচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের দরকষাকষির অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।’

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নীতি সহায়তার দাবি

পরিবেশ প্রকৌশলী ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রিন প্রযুক্তিতে রূপান্তরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ। এই সবুজ শিল্পায়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন ফাইন্যান্সিং, স্বল্প সুদে ঋণ, বিশেষ ট্যাক্স রেয়াত এবং নীতিগত প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকে এই ধারায় যুক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে অনুদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই পরিবেশবান্ধব মডেলটি কেবল একটি অঞ্চলের সাফল্য নয়; এটি গোটা দেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর পথপ্রদর্শক। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক বাজারে বাংলাদেশ অবশ‍্যই তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সময়: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সময়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের গড়ে ওঠার সময়, বাংলাদেশে গড়ে ওঠার সময়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের সকল কার্যক্রমের সাফল্যের ওপরেই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সফলতা বেশিরভাগকাল নির্ভর করে বলেও জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে করদাতাগণ এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়।

দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জন আস্থা অর্জন সম্ভব জানিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটি আপনাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে। করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি। নীতি নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব ও রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা করে এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্টের অন্যতম কারণ ছিল এই বিষয়গুলো। কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এখন আমাদের গড়ে ওঠার সময়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, একের পর এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্যবসায় নতুন নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে। নানা রকম চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসেছে পরিবর্তন। পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা, সম্ভাবনা, সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেশন, ট্রেড ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এই সবগুলো বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকাটা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও এখনো সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক। নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সারা বিশ্বে একটি প্রযোজ্য বিষয় হলো আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় নয়। বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। একজন করদাতা যিনি নিম্ন কর আদায় করছেন রাষ্ট্র যেমন তাকে সম্মানিত করবে, একইভাবে যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন তাকেকে কর প্রদানের জন্য যথাযথভাবে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।

কর ব্যবস্থাপনা কিংবা কর আদায় পদ্ধতি সহজ এবং দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাতে মানুষ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে কর দেয়, কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। একই করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি খুব টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা বা কার্যক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্য ডিজিটালি আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

তারেক রহমান বলেন, ভ্যাট আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস। তবে ভ্যাট ব্যবস্থাপনার সফলতা নির্ভর করে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয় সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট কিংবা ট্যাক্স আদায় শুধু জোর করার বিষয় নয় বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এমনভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে বরং বিশ্বাস করে।

উপস্থিত রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি দেশের স্বার্থে আপনারা এনবিআরকে জনগণের কাছে আরো বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হবেন। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান তথা সবার আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার চায় সবাইকে সাথে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। প্রত্যেকটি মানুষের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে দেখতে চায় সরকার। সমস্যা আছে, থাকবে। আমরা আলোচনা করে ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করবো।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাবৃন্দ, আপনারা নিরাপদে স্বস্তি নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করুন। সরকারের অবস্থান থেকে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো দেশের স্বার্থে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে প্রাধান্য দিতে।

তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত সময়টিতে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল ইতিবাচক। এটি প্রমাণ করে আপনারা (রাজস্ব কর্তকারীরা) পারবেন। অবশ্যই পারবেন ইনশাল্লাহ। আমাদের সকলের প্রয়োজন দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা। আসুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশর স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি।

এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের শুরু হয়। এর পর চলে রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা। এরপর বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। তিনি পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পরিবেশিত স্টলের ডিজিটাল স্ক্রিনে নানা উপস্থাপনা ঘুরে ঘুরে দেখেন। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%