প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ধর্ষণের, তার চাচাতো ভাইয়ের। এই জঘন্য অপরাধের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসানো হয় এবং অভিযুক্তকে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওই ১৩ বছরের কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত যুবকের নাম জাহিদুর ইসলাম। তার বয়স ২৪ বছর এবং তিনি ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুরা গ্রামের মাইজম বাড়ির সফিল মিয়ার ছেলে। জাহিদুর পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাহিদুর ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায় এবং বাড়ির পাশে একটি নির্জন ভাঙা ঘরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে এসে তার বড় বোনকে ঘটনার সকল বিষয় জানিয়ে দেয়। অভিযুক্ত জাহিদুর শেষ পর্যন্ত হুমকি দেন, যদি কিশোরী কাউকে বলে তাহলে তাকে মেরে ফেলা হবে।
পরবর্তীতে, পরদিন সকালে কিশোরীর বড় ভাই এই ঘটনার ব্যাপারে জাহিদুকে জিজ্ঞাসা করলে অভিযুক্ত উল্টো হুমকি দেন এবং মামলা করলে সব দেখার হুমকি দেন। এই অবস্থায় ভুক্তভোগীর পরিবার বাধ্য হয়ে স্থানীয় এক গ্রাম্য সর্দারের শরণাপন্ন হয়। এরপর সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন। সালিশের মাধ্যমে জাহিদুরের বিরুদ্ধে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেখানকার লোকজন।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই জানান, তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী নয় তবে মানসিক ও আচরণগত দিক থেকে সে খুব সহজ-সরল। এছাড়াও তিনি জানান, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই অপরাধ ঘটানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর যথাযথ শাস্তির দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে ভর্তি করার পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং গাইনি কনসালটেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। চিকিৎসকের চূড়ান্ত পরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনের মন্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন