ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মুস্তাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মুস্তাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় স্বামী মুস্তাককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছে, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার অপরাধে মুস্তাককে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুস্তাক গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মৃত হাজী আজমত আলীর ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়া ও আসামি মুস্তাকের বিয়ের বয়স প্রায় ১২ বছর। তাদের সংসারে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মুস্তাক দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন এবং ঘটনার প্রায় ১০ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতন চলতে থাকে। তারা ভূঞাপুর থানাধীন ঘাটান্দি গ্রামের জহুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলের মধ্যে যেকোনো সময় আসামি মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে ঘরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণায় থাকা বক্স খাটের তোশক ও পাটাতন তুলে তার নিচে লুকিয়ে রাখেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে আসামি মুস্তাক তার ছোট ছেলেকে নিয়ে শ্যালিকা নাসরিনের বাসায় রেখে বাজার করার কথা বলে সরে পড়েন। অন্যদিকে, বড় ছেলে আল-মাসুদকে নিজ ঘরে বাইরে থেকে ছিটকিনি আটকে আটকে রেখে যান। সকালে বাসার কেয়ারটেকার ছিটকিনি খুলে দিলে বড় ছেলে তার খালার বাসায় যায়। সারাদিন ধরে মুনিয়ার খোঁজ না পেয়ে এবং আসামি মুস্তাকের ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে স্বজনরা ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বক্স খাটের নিচ থেকে মুনিয়ার তোশক ও পাটাতন সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মো. আমিনুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসান তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর আসামি মুস্তাকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিযুদ্ধ শেষে আদালত আসামি মুস্তাকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন।

তিনি আরও জানান, মামলা চলাকালীন আসামি মুস্তাক জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। বর্তমানে তিনি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার জামানত বাজেয়াপ্ত করেছেন। আসামি গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে তার এই কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলশানে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেলেন রুহুল কবীর খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


গুলশানে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেলেন রুহুল কবীর খান

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তারিখে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সদর দপ্তর ও প্রশাসন শাহরিয়ার আলী কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া, আদেশে জানানো হয়েছে যে, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই: আবদুল আউয়াল মিন্টু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই: আবদুল আউয়াল মিন্টু

পরিবেশ, প্রাণী এবং জনস্বাস্থ্যকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি সকল কার্যক্রমকে মানুষের, প্রাণীর, উদ্ভিদের এবং বাস্তুতন্ত্রের সমন্বিত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সদর দপ্তরে ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই কথা বলেন। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান এ সম্মেলনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা পরস্পর-সংযুক্ত ক্ষেত্রগুলোর সম্মিলিত সুস্থতার ওপর নির্ভর করে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকায় এক খাতে চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতে পড়তে পারে। পরিবেশ, প্রাণী এবং জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথকে একটি ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অংশীদারিত্বের কাঠামো গড়ে তুলছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টেকসই সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের মাধ্যমে এ অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আগামী নভেম্বরে আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-এর আগে এই সম্মেলনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, রোমের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরতে এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করবে।

তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কাছ থেকে শেখার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের আলোচনা বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক দংইউ ছু, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলাঁ, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মুইগুলু এনচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুরো ম্যাকুত, মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেন হিলারিও, কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এভেলিন নায়ের মন্টেইরো রামোস, ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনেভের অ্যানি, আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি. ডি. মার্টিন হেইডনসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে নির্মাণকাজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


কিশোরগঞ্জে নির্মাণকাজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরানথানা এলাকায় নির্মাণকাজ চলাকালীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানথানা ইসলামি মার্কেটের সামনে সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে একজন হলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাইল গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৪) এবং অপরজন হোসেনপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সাব্বির (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের মতে, সোমবার দুপুরে শহরের সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজে কিছু শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনের ওপরের অংশে নির্মাণকাজের জন্য রড টানার কাজ চলছিল। একপর্যায়ে শ্রমিকরা রডটি ওপরে তুলতে গিয়ে সেটি ভবনের বাইরের অংশে থাকা একটি খোলা এসির সঙ্গে সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তের মধ্যে দুই শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় শত শত মানুষ ভিড় করেন। এতে পুরানথানা ইসলামি মার্কেট ও সামাদ প্লাজার আশপাশে ব্যাপক জনসমাগম সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

জেলা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন, "এভাবে প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও এসি খোলা অবস্থায় রেখে নির্মাণকাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসতর্কতার কারণে একই সঙ্গে দুইজন শ্রমিকের প্রাণ চলে গেল। নির্মাণকাজের আগে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপদ করা উচিত ছিল। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।"

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সময় শ্রমিকদের ব্যবহৃত লোহার রড ভবনের বাইরে থাকা এসির সংস্পর্শে চলে যাওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। নির্মাণকাজের সময় রড, বাঁশ, মই বা অন্যান্য ধাতব সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে আশপাশে থাকা বৈদ্যুতিক লাইন, এসির সংযোগসহ বিদ্যুতের উৎসগুলো সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন, "যেকোনো ভবনে নির্মাণকাজ শুরুর আগে আশপাশের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি নিরাপদ করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বেষ্টনী, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজের সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে তদারকি না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাথমিকভাবে অসতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, "দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩ বছরের অপ্রতিমের সঙ্গে ১৯ বছরের তুহিনের বন্ধুত্বের রহস্য উদঘাটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


১৩ বছরের অপ্রতিমের সঙ্গে ১৯ বছরের তুহিনের বন্ধুত্বের রহস্য উদঘাটন

কুমিল্লার ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করার ঘটনা শুরুতে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটেছে বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে ক্ষোভ, অপ্রতিমের বয়সে বড়দের সঙ্গে ‘অসম বন্ধুত্ব’ এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের মতো বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মতে, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ১৭ প্রো-ম্যাক্সটি কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের আলাদা স্বার্থ ও ক্ষোভও হত্যার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়। মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। ফোন নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তুহিন ছাড়া অন্য দুজন কিশোর। তাদের বাইরে আরও এক তরুণের সম্পৃক্ততাও যাচাই করা হচ্ছে।

ঘটনার দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনতে মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে তুহিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেদিন তুহিন বারবার অপ্রতিমের ফোনে বার্তা পাঠাচ্ছিল। তাকে বাসা থেকে বের হতে বলেছিল। এক পর্যায়ে বলা হয়, অপ্রতিমের কাছে থাকা দামি আইফোনটি দিয়ে তারা টিকটকের জন্য ভিডিও বানাবে এবং ছবি তুলবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তুহিনের কথায় শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে অপ্রতিম শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরাও জানিয়েছিলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের গতিবিধি ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রতিম ও তুহিন পাশাপাশি হাঁটছে এবং কথা বলছে। তাদের আচরণ স্বাভাবিক ছিল। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা যায়। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকেই একসঙ্গে দেখা যায়।

অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁচা রাস্তা দিয়ে সেখানে যেতে হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। তদন্তকারীদের মতে, পরে সেখানে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও দুই কিশোর।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে অন্যরাও তাকে আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার সময় সে আশপাশে থেকে পাহারা দেওয়ার মতো কোনও ভূমিকা পালন করেছিল কিনা, তা যাচাই করছে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। এ কারণে বাইরের লোকদের জন্য সেখানে কী ঘটছে, তা বোঝার সুযোগ কম।

অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এর কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে। রাতে অপ্রতিমের মরদেহ নিয়ে টানাটানি করেছিল শিয়াল। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্যও পর্যালোচনা করছে পুলিশ।

তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আরেকটি বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করতো গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে ওই টাকা ফেরত চাইছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল ওই কিশোর। অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া সময়রেখা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনও জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানতেন না যে অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর তাদের কাছে পৌঁছায়।

তদন্তকারীরা বলছেন, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত ৮টার দিকে ঘটনায় নিজে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তখনও অন্যদের নাম বলতে চাইছিল না তুহিন। অন্যদের নাম প্রকাশ না করতে সে ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিল বলেও জানা গেছে।

তবে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মুঠোফোনে বারবার ফোন আসছিল। কল করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওই কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, আটকের সময়ও তার গায়ে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। ওই কিশোরকে আটকের খবর পাওয়ার পর তুহিন আরেক কিশোরের নাম জানায়। এরপর তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর মুঠোফোন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখতো। ঘটনার দিন নিজের মুঠোফোন সঙ্গে নেয়নি সে। পরিবর্তে পরিবারের অন্য একজনের ফোন নিয়ে বের হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, পরে মুঠোফোনের অবস্থান যাচাই করা হলে যাতে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি ধরা না পড়ে, সে জন্যই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এর পক্ষে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য আলামত আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা ওই কিশোরের বাবাকে। তার অনুপস্থিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনও যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।

অপ্রতিম ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে শান্ত, মিশুক ও পড়াশোনায় ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান জানিয়েছেন, স্কুলে কোনো ঝামেলায় তাকে জড়াতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতো এবং একটি দল তৈরি করেছিল। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।

তবে রোববার সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ রেকর্ড নেই।

সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্ক, ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বয়স নিহত শিশুটির চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি।’

পুলিশের কাছে অবশ্য অপ্রতিম ও ওই ব্যক্তিদের একসঙ্গে চলাফেরা, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির তথ্য রয়েছে। এই বয়স ও সামাজিক অবস্থানের ব্যবধানের সম্পর্ককেই তদন্তকারীরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে দেখছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অপ্রতিমের সঙ্গে যাদের ওঠাবসা ছিল, তারা তার সহপাঠী নন; বয়সেও বড়। তদন্তে তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিওর তথ্যও পাওয়া গেছে।

অপ্রতিমের গৃহশিক্ষক মো. আল আমিন বলেন, ‘অপ্রতিম সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও সে অনেক ম্যাচিউরড ছিল। তাছাড়া দীর্ঘদিন কোটবাড়ি এলাকায় থাকায় এবং তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তাকে সবাই সহজে রিসিভ করতো। সেও বড় ও ছোট—দুই বয়সের মানুষের সঙ্গেই মিশতো। তবে সিনিয়রদের সঙ্গে তার মেলামেশা বেশি ছিল।’

তুহিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তুহিনের সঙ্গে সম্পর্ক কত দিনের, সেটি আমি জানি না। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, তুহিন মোটরসাইকেল দিয়ে অপ্রতিমকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যেতো। ছেলে মানুষ ছিল, তাই বিষয়টি খুব ভালোভাবে রিসিভ করেছে হয়তো। এভাবেই হয়তো তাদের সম্পর্ক বেশি গভীর হয়ে গেছে।’

অপ্রতিমের মামা কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, অপ্রতিমরা আগে গন্ধমতি এলাকার আরেকটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে রাফিন নামে অপ্রতিমের এক প্রতিবেশী বন্ধু ছিল। রাফিনের বয়স ১৫-১৬ বছর। রাফিনের বন্ধু তুহিন। তুহিনের বয়স ১৯ বছর। রাফিনের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠে অপ্রতিম। সেই সুবাদে রাফিনের বন্ধু তুহিনের সঙ্গেও তার পরিচয় হয়। তবে তুহিনের মোটরসাইকেল থাকায় তারা প্রায়ই ঘুরতে যেতেন। সে কারণে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্ক অন্যদের তুলনায় বেশি গভীর ছিল।

তিনি বলেন, ‘অপ্রতিম নিখোঁজের পর আমরা যখন তাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন তুহিনকে কল দিই। সে আমাদের বাসায় দেখা করেনি। সে আমাদের সঙ্গে পাশের রামপুরা এলাকায় এসে দেখা করে। ওই সময় তার সঙ্গে সিয়াম নামের একজন ছিল, যাকে পরে পুলিশ আটক করেছে। তখন সে আমাদের জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে তার বের হওয়ার কথা থাকলেও সে বের হয়নি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে তাকে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়ায় আমরা নিশ্চিত হই, বিষয়টি লুকাচ্ছে তারা। এরই মধ্যে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার হয়। ততক্ষণে তুহিন পুলিশ হেফাজতে চলে যায়।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আইফোন, পাঁচ হাজার টাকা, তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ঘটনার সময় আরও কয়েকজনের উপস্থিতির বিষয় সামনে এসেছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%