প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পরিবেশ, প্রাণী এবং জনস্বাস্থ্যকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি সকল কার্যক্রমকে মানুষের, প্রাণীর, উদ্ভিদের এবং বাস্তুতন্ত্রের সমন্বিত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সদর দপ্তরে ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই কথা বলেন। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান এ সম্মেলনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা পরস্পর-সংযুক্ত ক্ষেত্রগুলোর সম্মিলিত সুস্থতার ওপর নির্ভর করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকায় এক খাতে চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতে পড়তে পারে। পরিবেশ, প্রাণী এবং জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথকে একটি ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অংশীদারিত্বের কাঠামো গড়ে তুলছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টেকসই সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের মাধ্যমে এ অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আগামী নভেম্বরে আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-এর আগে এই সম্মেলনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, রোমের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরতে এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করবে।
তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কাছ থেকে শেখার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের আলোচনা বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক দংইউ ছু, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলাঁ, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মুইগুলু এনচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুরো ম্যাকুত, মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেন হিলারিও, কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এভেলিন নায়ের মন্টেইরো রামোস, ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনেভের অ্যানি, আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি. ডি. মার্টিন হেইডনসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন