০৯:৫২ পি.এম
অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলা, ২টি পৌরসভা এবং ৩৪টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয় এবং সেখানে প্রায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ডাল, চালসহ শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পানি নামতে শুরু করলে জনদুর্ভোগ বাড়তে শুরু করেছে। তবে চলমান বন্যা পরিস্থিতির মোকাবেলায় বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে দেওয়ান বাড়ির পুকুরপাড় রাস্তায় মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানের অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলের ঘর-বাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবাহিত হয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। এদিকে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা বেড়ে গেছে।
জেলা সদরের বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ একটি ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে পুকুর থেকে পানি তুলে সেই পানি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করছে। বান্দরবান বাজারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। এ সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে সহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অন্যদিকে, প্রতিটি পরিবারকে ১০ লিটার করে একটি জেরিক্যানে (এক ধরনের পাত্র) পরিশোধিত পানি বিতরণ করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, বান্দরবানের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে এই ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে বিভিন্ন পয়েন্টে দৈনিক দেড় লাখ লিটার পানি পরিশোধন করা হবে এবং এসব পানি পৌরসভার বাসিন্দাদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি উপজেলায় ২০ হাজার করে পানি পরিশোধন ট্যাবলেট এবং জেলা সদর উপজেলায় ৬০ হাজার পানি পরিশোধন ট্যাবলেট স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন