০৩:৪৫ পি.এম
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এই আধ্যাত্মিক বাণীকে সামনে রেখে লালন ফকিরের ভবের হাটে একতারা, দোতারা এবং ঢোল বাশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে।
জাতপাতের ভেদাভেদ ভুলে লালন ভক্তরা নিজেদের এবং অজানাকে জানার চেষ্টা করছেন। মহাগুরু ফকির লালনের রীতি অনুসরণ করে সাধু সঙ্গে দীক্ষা গ্রহণ করেছেন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে লালন ফকিরের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে পুণ্য সেবার মাধ্যমে সাধুসঙ্গ সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল (১৯ অক্টোবর) এই লালন স্মরণোৎসব শেষ হবে।
আধ্যাত্মিক জগতের অন্যতম প্রভাবশালী সাধক ফকির লালন তার জীবদ্দশায় দৌল পূর্ণিমার তিথিতে ভক্তদের সঙ্গে সাধু সঙ্গ করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার দেহত্যাগের পর অনুসারীরা তার রীতি মেনে সাধু সঙ্গ শুরু করেন। পরবর্তীতে লালন একাডেমি এই উৎসবকে অব্যাহত রেখেছে। ১৩৬ বছর ধরে চলা এই সাধুসঙ্গের উৎসব এখন বিশাল লালন স্মরণোৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারের উৎসবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দেশ-বিদেশি ভক্তরা ভবের হাটে সমবেত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাধু সঙ্গে বাল্য, রাখাল ও পুণ্য সেবার মাধ্যমে মনের হিংসা ও রাগ দূর করতে মহাগুরু লালনের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। এভাবে তারা নিজেদেরকে খাটি করে তুলছেন। ভক্তরা বলছেন, লালন ফকিরই সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে একত্রিত করার প্রেরণা দিয়েছেন।
প্রতিনিয়ত আখড়াবাড়ির ভেতরে খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার চলছে। রাতে আখড়াবাড়ির বাইরে মূল মঞ্চে লালন দর্শনের আলোচনা ও গান গানের মাধ্যমে বাণী প্রচার করা হচ্ছে। লালন অ্যাকাডেমির মাঠে বাউল মেলা চলছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সবাই এক মহা সম্মিলনে মেতে উঠেছেন।
লালন বিশ্লেষক হৃদয় শাহা ফকির মন্তব্য করেন, "নিজেকে জানতে ও যখনই প্রয়োজন হয়, মানুষ এভাবে ভবের হাটে জড়ো হয়।"
ভক্তরা বলছেন, লালনের বাণী ছড়িয়ে দিতে পারলেই এই উৎসব সার্থক হবে।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন