রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫২ পি.এম
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারে বজ্রপাতের ফলে দুই জেলের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার সাথে আরো তিন জেলে আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার তুফানিয়া ও চরহেয়ারের মধ্যবর্তী বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের হাবিব খাঁর ছেলে ইমন খাঁ (২২) এবং একই গ্রামের শহিদুল শিকদারের ছেলে শাকিব শিকদার (২৩)।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সুমন খাঁর মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে পাঁচজন জেলে নদীতে মাছ ধরার জন্য যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নদীতে জাল ফেলার সময় হঠাৎ ট্রলারটির ওপর বজ্রপাত ঘটে। এতে ট্রলারে থাকা পাঁচজন জেলে আহত হন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইমন খাঁ ও শাকিব শিকদারকে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিন জেলের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাইদুল প্যাদা দুই জেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাঙ্গাবালী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আন নূরে জায়েদ বলেছেন, "বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি হাইস্কুলের মেয়েদের লকার রুমে চারটি গোপন ক্যামেরা বা রেকর্ডিং ডিভাইসের সন্ধান পাওয়ার পর স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে, তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের নাম এরিক জেমস (৫৩)। তিনি ওয়েলসবার্গের ব্রুক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কুলের মেয়েদের শরীরচর্চার লকার রুমে চারটি রেকর্ডিং ডিভাইস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি আলাদা একটি লকার রুমে এবং অন্যটি স্কুলের ড্যান্স দলের সদস্যদের ব্যবহৃত ড্রেসিং এরিয়ায় ছিল।
বুধবার শিক্ষার্থীদের ছুটি হওয়ার পর ব্রুক কাউন্টি স্কুলস কর্তৃপক্ষকে লকার রুমে রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের অভিযোগ সম্পর্কে জানানো হয়। এরপর স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী, কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ডিভাইসগুলো ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তের সময় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমসের বাড়ি থেকেও অতিরিক্ত কয়েকটি রেকর্ডিং ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে নর্দার্ন রিজিওনাল জেলে রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের পরিমাণ ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে তারবার্তা, মৌখিক বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ গোপনে ধারণ করা বা ধারণের চেষ্টা এবং আবাসিক নয় এমন স্থাপনায় বেআইনিভাবে প্রবেশ।
তদন্ত চলাকালে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুলের কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্রুক কাউন্টি স্কুলস।
স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা তাদের মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্বের সঙ্গে আপস করে এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। একটি জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগ ও চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই জরিপে এটি সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায় ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে, তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন।
প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়ে গেছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেছেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে, রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ।
দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারে প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, তারা একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারির পর রামুর মেরিন ড্রাইভের সংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেছেন, "গোয়েন্দা নজরদারি ও দীর্ঘ তদন্তের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।" তারা প্রথমে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা জানালেও, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া এবং বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, "তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল, এ কারণে তারা দেশত্যাগ করতে পারেনি।" ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রামুর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি হোটেলে কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্লু ওশ্যানসহ কয়েকটি হোটেলে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
পুলিশ বলছে, জব্দ করা আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করে এগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হতো, তা জানার চেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এই ঘটনায় রামু থানায় করা মামলার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা করে চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘একই বাহিনী নতুন মোড়কে’ ফিরিয়ে আনার ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
সংস্থাটির ভাষ্যমতে, প্রস্তাবিত এসআরবি বিল, ২০২৬-এ অস্পষ্ট ক্ষমতা, পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তার এবং দুর্বল জবাবদিহির সুযোগ থাকায় র্যাবের বিতর্কিত সংস্কৃতি নতুন বাহিনীতেও ফিরে আসতে পারে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, র্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বহু প্রতীক্ষিত এবং এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল টিআইবি। তবে, একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ঘটে না।
ড. ইফতেখারুজ্জামান র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণের কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন বাহিনীর কাঠামো, জনবল, ক্ষমতা, বলপ্রয়োগের বিধান এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে র্যাবের বদলে ‘এসআরবি’ নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির একটি বাহিনী গড়ে উঠতে পারে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবিত বিলে এসআরবিকে গোয়েন্দা নজরদারি, অভিযান, তল্লাশি ও সাধারণ তদন্তের মতো বহুমুখী ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর পাশাপাশি ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা’ এবং ‘সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব’-এর মতো অস্পষ্ট শব্দবন্ধ রাখা হয়েছে। এসব বিধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নমত দমন ও বলপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে অতীতের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ এবং বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও উদ্বেগজনক।
টিআইবির মতে, এসব বিধান নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নতুন বাহিনীতে র্যাবের জনবল স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়েও টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, যাচাই-বাছাই ছাড়া র্যাবের সদস্যদের ঢালাওভাবে এসআরবিতে স্থানান্তর করা হলে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ কারণে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছে টিআইবি। জাতিসংঘের সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর মানদণ্ড অনুসরণ করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন বা গুমের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা জড়িত সদস্যদের নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না করার ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রস্তাবিত এসআরবি বিলের ২২ ধারায় অভিযোগ নিষ্পত্তির যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। বিল অনুযায়ী, বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাদেরই সহকর্মীদের দিয়ে তদন্ত করানোর ব্যবস্থা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করবে এবং তা নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে পারবে না। এর পরিবর্তে পুলিশ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠন করা জরুরি।
এছাড়া, তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার আইনি সুরক্ষার বিধান রাখারও দাবি করেছে টিআইবি।
সংস্থাটি মনে করে, র্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ সদস্য যাচাই প্রক্রিয়া, বিচারিক সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, র্যাব বিলুপ্তি শুধুমাত্র একটি বাহিনীর নাম ও খোলস পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন, নাগরিকের অধিকার এবং কার্যকর জবাবদিহির ভিত্তিতে নতুন আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সূচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ‘কসমেটিক মেকওভার’-এর মাধ্যমে দেশের নাগরিক বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
উল্লেখ্য, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর ধারা-ওয়ারি বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত পলিসি ব্রিফ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে টিআইবি। সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা এবং বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে বিলটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ