০৭:৪০ পি.এম
জাতীয় সংসদের সাধারণ আসন শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এবং ভোটারদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ভিন্ন। যখন এ ধরনের আসন শূন্য হয়, তখন সাধারণ আসনের মতো সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয় না। বরং, যে দল বা জোটের জন্য আসনটি বরাদ্দ ছিল, সেই দলের মনোনীত প্রার্থীই আসনটি পূরণ করে।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনে উল্লেখ আছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে যদি কোনো সংরক্ষিত মহিলা আসন শূন্য হয়, তাহলে শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, শুধুমাত্র সেই দল বা জোটই উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। উপনির্বাচনে ভোটারও হবেন ওই নির্দিষ্ট দল বা জোটের সংসদ সদস্যরা।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে মোট ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন সদস্য আছেন, এবং তাদের মধ্যে ফেরদৌসী আহমেদ সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, "কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলে, তিনি নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন, সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে।" এরপর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে এবং আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই পদ পূরণের জন্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "এই উপনির্বাচনের জন্যও পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করতে হবে।" তবে ভোটার হবেন সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নারী আসনের পদত্যাগকারী সংসদ সদস্য যে দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন, সেই দলের সংসদ সদস্যরা। অর্থাৎ, এই আসন বিএনপির। শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনে শুধুমাত্র বিএনপিই এখানে প্রার্থী দিতে পারবে। যদি একক প্রার্থী থাকে, তাহলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই ঘটনার পর বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ। ইতিমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন