মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৪ পি.এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে একটি স্থায়ী রূপ দিতে হবে গণতন্ত্রকে।
তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকে সচল রাখার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। "সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।"
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। এই দিবসটি গণতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের শক্ত ভিত্তি গড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উদযাপন করা হয়। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের নীতি প্রচার ও সুসংহত করার জন্য দিবসটি পালন করা হয়।
তিনি বলেন, "গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।" শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।
বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, "এই দিবসের গুরুত্ব মানবাধিকার রক্ষা করা।" কারণ গণতন্ত্র এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট হন। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে না। এর ফলে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনও বিরাজমান। দেড় দশক ধরে বাংলাদেশেও নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার উচ্ছেদ করে এক ভয়ঙ্কর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম, খুন ও আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ও আপসহীন যোদ্ধা দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় আটক করে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে ১৬ বছর পর দেশবাসী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এখন এদেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রকে সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, "নারী ও পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গে সবার সমান অংশগ্রহণ এবং সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা লাভ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে।" গণতন্ত্র লিঙ্গ ভেদে কারও প্রতি বৈষম্যকে বাড়ায় না, বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করে।
বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমরা দুঃসময় কাটিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদেরকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জানালার গ্রিল কেটে একটি শিশুকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দরজা খোলানোর পর তিনটি বসতঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই সময় পরিবারের সদস্যদের ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতদল স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা সাদিয়া আফরোজ জানান, রাত ৩টার দিকে ৬-৭ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্বামী শরিফুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যদের হাত ও চোখ বেঁধে মারধর করা হয়।
তিনি বলেন, ডাকাতরা দুটি স্বর্ণের চেইন, দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি নাকফুল, এক জোড়া ডায়মন্ডের কানের দুল, দুই জোড়া রূপার নুপুর, পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ৪১ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
অটোরিকশাচালক নুরুল আবছার রুবেল জানান, ডাকাতরা রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কাটার পর একটি শিশুকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়। পরে শিশুটি ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন, ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা তার গলায় ছুরি ধরে হাত বেঁধে পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে ঘর তছনছ করে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ডাকাতির শিকার পরিবারগুলো একই ভবনে পাশাপাশি ভাড়া থাকেন। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কাটার দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে একটি শিশুকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দরজা খোলানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এই কমিটি গঠন করা হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, গতকালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হিসেবে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি সদস্যসচিবের দায়িত্বও পালন করবেন। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করা হবে এবং যদি কারও গাফিলতি পাওয়া যায়, তা শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় সুপারিশও করা হবে। তদন্তের সময় যদি অন্য কোনো বিষয় উঠে আসে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ থেকে ওমানে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল (ইভি বাইক) রপ্তানি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ বিনিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ওমানের মডার্ন স্টার বিজনেসেস এলএলসির (স্টার ড্রোনস) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
এ সমঝোতা স্মারক সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নভোথিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে সই করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ ইকবাল জাহেদী এবং স্টার ড্রোনসের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ আব্দুল গাফুর সাইফ উদ্দিন সই করেন।
চুক্তির আওতায় প্রাথমিকভাবে ওমানের ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ‘বিজ’ (Bees)-এর ডেলিভারি বহরের জন্য বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রিক বাইক সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তী ধাপে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের চাহিদা বিবেচনায় ওমানে একটি অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ইভি প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ওমানে স্থানান্তরের পাশাপাশি দুই দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যৌথভাবে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া স্টার ড্রোনস তাদের ড্রোন ডেলিভারি প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশি ইভি বাইকের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমন্বিত ডেলিভারি নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেছে। চুক্তির আওতায় ওমান থেকে মূলধন ও ড্রোন প্রযুক্তি বাংলাদেশে এনে স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একাডেমিয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ ও স্টার ড্রোনসের মধ্যকার এ সমঝোতা সেই উদ্যোগের বাস্তব ফল।"
তিনি আরও বলেন, "এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জাতীয় অর্থনীতি ও দেশের উদীয়মান সবুজ প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
স্টার ড্রোনসের প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশি পণ্যের মান ও স্থানীয় উদ্ভাবনী সক্ষমতা তাদের আকৃষ্ট করেছে। এ উদ্যোগ শুধু ইভি বাইক কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে ওমানের যৌথ বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ও মিনিস্টার প্লেনিপোটেনশিয়ারি ফাথিয়া বিনতে আহমেদ আল বালুশি।
এ ছাড়া সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী, পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলী আজগর অপু এবং স্টার ড্রোনসের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসঙ্গে অনেক মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কিন্তু মশার কামড় খেতে হচ্ছে শুধুমাত্র একজনকেই—এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। অনেকেই বিষয়টিকে কাকতালীয় মনে করেন, তবে এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে মশা অন্যদের তুলনায় বেশি কামড়ায়।
আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শরীর থেকে নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড, রক্তের গ্রুপ, ঘামের গন্ধ, শরীরের তাপমাত্রা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ত্বকে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারণে মশা কিছু মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে।
নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড
শরীর থেকে নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড মশাকে আকৃষ্ট করে। মশার শুঁড়ে থাকা বিশেষ ধরনের অনুভূতিশক্তিসম্পন্ন অংশ প্রায় ১০০ ফুট দূরত্ব থেকে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করতে সক্ষম।
যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা দ্রুত হাঁটেন, তাদের নিঃশ্বাসের গতি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে শরীর থেকে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়। এতে এডিস এবং ম্যালেরিয়ার মশা তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে।
রক্তের গ্রুপ
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ও’ পজেটিভ এবং ‘ও’ নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের মানুষের প্রতি মশা তুলনামূলকভাবে বেশি কামড়ায়। এরপর রয়েছে ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষ।
তবে মশা কীভাবে রক্তের গ্রুপের পার্থক্য বুঝতে পারে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষের ত্বক থেকে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক সংকেত বের হয়, যা মশা সহজেই শনাক্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
ঘামের গন্ধ
মানুষের ঘামে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিক অ্যাসিড এবং অ্যামোনিয়ার মতো বিভিন্ন উপাদান থাকে। যারা বেশি ঘামেন, তাদের শরীর থেকে এসব উপাদানও বেশি পরিমাণে বের হয়। ফলে তাদের প্রতি মশার আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
শরীরের বেশি তাপমাত্রা
মশার শরীরে থাকা বিশেষ অনুভূতিশক্তি শরীরের তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনও শনাক্ত করতে পারে। বিশেষ করে যারা বেশি ব্যায়াম করেন বা জ্বরে আক্রান্ত, তাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এ কারণে মশা তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে।
অতিরিক্ত মদ্যপান
অতিরিক্ত মদ্যপান করলেও মশার কামড় বৃদ্ধি পেতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। শরীরে অ্যালকোহল প্রবেশ করলে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। একই সঙ্গে ঘামের মাধ্যমে ইথানল বের হয়, যা মশা শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানে শরীরের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা মশাকে আকৃষ্ট করে।
ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া
মানুষের ত্বকে বিভিন্ন ধরনের অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান। ত্বকে থাকা কিছু বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কারণে ম্যালেরিয়া ও এডিস মশা কিছু মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে। ফলে অন্যদের তুলনায় তাদের মশার কামড়ের সংখ্যা বেশি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ