ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাসিরনগরে নতুন পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য


নাসিরনগরে নতুন পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্যের জন্য পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরীন, সহকারী কমিশনার ভূমি সাহেল আহমেল, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহিমুল আরেফিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান শাকিল, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল মমিন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি কেএম খালেদ, সাধারণ সম্পাদক কেএম বসির উদ্দিন তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী সহ উপজেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এছাড়া, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে সেখানে একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলের নেতৃত্ব দেন মাওলানা শছায়েদুল হক।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য পরিদর্শন কক্ষ স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে নাসিরনগর উপজেলায় এই পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস-ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ পি.এম


বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস-ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষ

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় যাত্রীবাহি বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং উপজেলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এই দুর্ঘটনাটি শনিবার (৪ জুলাই) ভোর ছয়টায় ঘটেছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, মহাসড়কের বাটাজোর এলাকায় ঢাকাগামী ট্রাকের সাথে বরিশালগামী আলিফ পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করেন ও হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং তিনজন নারী রয়েছেন। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. মহসীন জানিয়েছেন, দূর্ঘটনা কবলিত বাস এবং ট্রাক দুটিকে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালু খেকোদের হামলায় বরিশালের সাংবাদিক আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


বালু খেকোদের হামলায় বরিশালের সাংবাদিক আহত

বরিশালে অবৈধভাবে আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু খেকোরা হামলা চালিয়ে একজন সাংবাদিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এসময় তার সাথে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারীরা ভাঙচুর করে সেটি পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সময় শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের মোশারফ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়ে সংঘটিত হয়েছে। গুরুতর আহত সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদার (৪০) পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদারের পুত্র। তিনি হিজলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য এবং টাইমস্ অফ বরিশাল পত্রিকার হিজলা প্রতিনিধি।

শনিবার দুপুরে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক মাসুদ সরদার বলেন, স্থানীয় একাধিক বাস্তব পরিস্থিতির দ্বারা তিনি অভিযোগ নিয়ে জানতে পারেন, যে কোড়ালিয়া গ্রামের অসাধু বালু খেকোরা স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছে। ভূগর্ভস্থ থেকে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে আশেপাশের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পড়েছে।

সাংবাদিক মাসুদ সরদার আরো বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বালু খেকোরা তুষার মিয়াজী, আবুল বাশার, আল-আমিন মিয়াজী, ইমরান সরদার, মিজানুর রহমান, আবু-সাঈদ বাবু, আবু-আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ্ বিন কালাম এবং তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা অন্যান্য ৭/৮ জন তাকে অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাসুদকে লাঠিপেটা করে গুরুতরভাবে আহত করে এবং তার সাথে থাকা ক্যামেরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে সেটি পানিতে ফেলে ভাঙচুর করে।

হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুষার মিয়াজীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ থাকায় তার কোনও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে হিজলা থানার ওসি মো. সুলাইমান হোসেন বলেন, সাংবাদিক মাসুদ সরদারের অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

অপর দিকে সাংবাদিক মাসুদ সরদারের ওপর বালু খেকোদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি জানিয়েছেন যে, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের নদীভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আহ্বান রহমাতুল্লাহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


বরিশালের নদীভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আহ্বান রহমাতুল্লাহর

বরিশালের নদীভাঙন সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টা নাগাদ বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থিত অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে ‘আব্দুর রহমান বিশ্বাস স্মৃতি পরিষদ’র আয়োজনে একটি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে তিনি এই আহ্বান জানান।

এ সময় রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘‘বরিশালের নদীভাঙন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিবছর অসংখ্য বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।’’ তিনি নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, চন্দ্রমোহন, চরমোনাই এবং শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

কর্মসূচিটি অধ্যাপক ডা. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস সালাম রাঢ়ী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন টিটু, চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ইসরাইল পণ্ডিত, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হেমায়েত হোসেন মুরাদ, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জাহাঙ্গীর, টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, জাগুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহিদুল ইসলাম তপন, বরিশাল মহানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আলমগীর।

এছাড়াও মহানগর যুবদল নেতা মো. মাসুম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ আল মামুন, মহানগর ছাত্রদল নেতা ওবায়দুল ইসলাম উজ্জ্বল, জেলা ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমান, সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদার, বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতা আকবার মুবীন এবং চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা নাইম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস স্মৃতি পরিষদের সদস্য সচিব ইলিয়াছ আহমেদ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফের বর্ষা মৌসুম এসে গেছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের প্রবল ঝাপটায় কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমে ভাঙনের তান্ডব শুরু হয়ে গেছে। শুক্রবার দেখা গেছে এমন দৃশ্য। সৈকতের শুন্য পয়েন্টের ডাব বিক্রেতা স্বপন মিয়া জানালেন, "আর মনে হয় এখানে দোকান করা যাবে না।" আট বছর ধরে ব্যবসা করা এই দোকানির শঙ্কা; এ বছরে হয়তো তার দোকান পর্যন্ত ঢেউয়ে ভেসে যাবে। এমন শঙ্কায় শত শত ক্ষুদে ব্যবসায়ী। তিনি জানান, এবছর এখন পর্যন্ত তিন-চারদফা সাগর তান্ডব চালিয়েছে। সব যেন লন্ডভন্ড করে দেয়। এখন তারা হতাশ হয়ে গেছেন। এভাবেই ২৫টি বছরে অন্তত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ বেলাভূমি সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত স্পটসহ স্থাপনা। তবুও এই সৈকতকে স্থায়ীভাবে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় কোন প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রতি বছরের বর্ষা মৌসুমে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের লাগাতার তান্ডবে কুয়াকাটা সৈকতের দীর্ঘ এলাকা এভাবে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তীব্র ভাঙনে ট্যুরিজম পার্ক থেকে নির্মানাধীন সড়ক, জাতীয় উদ্যানসহ হাজারো গাছপালা সব যেন তছনছ হয়ে গেছে। বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে আছে ট্যুরিজম পার্ক, মসজিদ-মন্দিরসহ বেড়িবাঁধের বাইরের সাগর লাগোয়া বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। ২০০ একর আয়তনের নারকেল বাগানের ৯৯ শতাংশ সাগরের পেটে চলে গেছে। সাগর গিলে খেয়েছে একেক করে সকল সৌন্দর্যমন্ডিত স্পট। এখন জোয়ারের সময় সৈকতে থাকে না ওয়াকিং জোন। বলতে গেলে গোটা সৈকত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ফলে লগ্নিকারকরা চরম হতাশায় পড়েছেন। পর্যটকরাও চরম উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন।

কুয়াকাটার ক্ষুদে ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন জানান, "এখন আর এই সৈকতে জোয়ারের সময় পর্যটকরা হাঁটতে পারেন না। নদীর পাড়ের মতো হয়ে গেছে। ছাতা-বেঞ্চিতে বসতে পারেন না। নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন না।" পর্যটক আহসান উদ্দিন জানান, "জোয়ারের সময় গোসলে নামা বিপজ্জনক। ভাঙন এলাকায় ঘূর্ণীস্রোত হয়। কংক্রিটের ভগ্নাংশে ক্ষতবিক্ষত হন পর্যটক। প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটেছে। চরম ঝড়িপূর্ণ হয়ে গেছে। সৈকতটি রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তার।"

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সাল থেকে ভাঙনের কবল থেকে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি আকারে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২১২ কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে সৈকতের শুন্য পয়েন্টের দুই দিকে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় একটি প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

এভাবে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার একের পর এক প্রকল্প পরিকল্পনা আর সমীক্ষায় থেমে যায়। শুধুমাত্র সৈকতের শুন্য পয়েন্ট থেকে তিন শ’ মিটার নিয়েই জিও টিউব আর জিও ব্যাগের জরুরি প্রোটেকশনের মধ্যে আটকে আছে। এসব জিও টিউব আর ব্যাগের বালু এখন অনেকটা বের হয়ে গেছে। ব্যাগে, টিউবে শ্যাওলা ধরে গেছে। প্রতিনিয়ত পর্যটক পা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন।

পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ ও কুয়াকাটার বিনিয়োগকারীরা জানান, গোটা সৈকত রক্ষায় সাগরের তীব্র ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কুয়াকাটার দীর্ঘ সৈকত সাগরগর্ভে দ্রুত বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনাও থাকছে চরম ঝুঁকিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, "সবশেষ- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৩ সালে 'কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন' নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতের ভাঙনপ্রবণ প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ৭৫৯ কোটি ৫৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে। সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ৬৮টি গ্রোয়েণ নির্মাণ। ট্যুরিজম পার্ক, মসজিদ-মন্দির এলাকার প্রতিরক্ষায় ৬০০ মিটার এলাকায় কাজ করা। এছাড়া দুই কিলোমিটার ৭০০ মিটার সি-বীচের স্লিপিং ডিফেন্স নির্মাণ করে প্রতিরক্ষা করা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙনরোধ হবে।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ১৭ দশমিক ২৫০ তম কিলোমিটার থেকে ৩৭ দশমিক ২৫০ তম কিমি পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরের দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার মূলত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকা নির্ধারণ করা রয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গামিত লেকের ২৪ দশমিক ২৫০ তম কিমি থেকে আন্ধারমানিক নদী মোহনার ৩৪ দশমিক ৭৫০ তম কিমি পর্যন্ত সাড়ে দশ কিলোমিটার সৈকত সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। যেখানে মূলত পর্যটকরা বিচরণ করেন। এই সাড়ে দশ কিলোমিটারের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার থেকে ৩২ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাঁচ দশমিক এক কিমিটার সাগরের তীব্র ভাঙন এলাকা। বর্তমানে সৈকতে ঝুকিপুর্ণ পাঁচ কিলোমিটার অংশের মধ্যে আড়াই কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। যা রক্ষায় ২০২৩ সালে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হয় প্রায় দুই কিমি অংশে। তখন জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দেয়ার পাশাপাশি জিও টিউব দেয়া হয়।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার এখন মূল সমস্যা সৈকতের স্থায়ী প্রটেকশন দেওয়ার বিষয়টি। তারপরে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ। এসব হচ্ছে এখানকার মূল উন্নয়ন। সাগরের ভাঙন ঝুঁকি থেকে সৈকতসহ কুয়াকাটার বিভিন্ন স্থাপনাসহ বিভিন্ন সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি তিনি জানান। কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়ার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় স্থায়ীভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে যথাযথভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%