১১:২০ পি.এম
এক হাতে ছাতা, অন্য হাতে কলম নিয়ে পরীক্ষার খাতা সামনে রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এ অবরোধক ও দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে প্রকৃত পরিস্থিতি ফুটে ওঠে।
সম্প্রতি চিকনিকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে টানা বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী এক হাতে ছাতা ধরে অন্য হাতে লিখছেন, আবার কারও বেঞ্চ ও পরীক্ষার খাতা বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাচ্ছে। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, চিকনিকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসাটি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেই কাজটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি বর্তমানে প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ভবনের ছাদে অসংখ্য ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, ফলে বৃষ্টি হলেই সেখান দিয়ে পানি ঢুকে পড়ছে শ্রেণিকক্ষে। অনেক জায়গায় পলেস্তরা খসে পড়ছে, দরজা-জানালাও নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল শেখ মুগ্ধ জানান, ‘প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আমাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে এবং বেঞ্চ ও পরীক্ষার খাতা ভিজে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ছাতা মাথায় পরীক্ষা দিচ্ছি।’
আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে স্বাভাবিক সময়ে ক্লাস করা কঠিন। বৃষ্টির সময় পানি পড়ার পাশাপাশি মাঝে মাঝে পলেস্তরাও খসে পড়ে। ক্লাস করতে হলে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. ইয়াহিয়া খান জানিয়েছেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অথচ তাদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষা-বান্ধব পরিবেশ নেই। টানা বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। ভবনের অব্যবস্থাপনার কারণে পাঠদান ও পরীক্ষার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ জানিয়েছেন, ‘আমরা অত্যন্ত বিব্রতকর ও অসহায় পরিস্থিতিতে রয়েছি। এই বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলেই দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।’
এদিকে, প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নতুন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ধীরগতির কারণে কবে নাগাদ ভবনটি ব্যবহার উপযোগী হবে, সেই সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আজই আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন