বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৫ পি.এম
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বা এমইভি সুবিধা সীমিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে, যারা এ সুবিধার আওতার বাইরে পড়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রযোজ্য হবে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ সেসব দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা বাতিল করে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা প্রবর্তন করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে Multiple Entry Visa (MEV) আর ঢালাওভাবে সব দেশের নাগরিকদের জন্য প্রদান করা হবে না।
নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হবে। এসব উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।
তবে উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এই নতুন ঘোষণা ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটির সঙ্গে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংক্রান্ত ভিসার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই নীতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মাদ আমিন উর রশিদ নোংরা টয়লেট দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, "সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করি। যদি আমি পারি, তাহলে আপনার কাছে জানতে চাইব—আপনি কেন পারলেন না?"
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কৃষিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একটি ৫০ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে মন্ত্রী রোগীদের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা দেখে কৃষিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তিনি পরিচালককে বলেন, "সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব। টাইলসের ওপর কালো দাগ থাকার কথা নয়। হারপিক ব্যবহার করলে এসব দাগ পরিষ্কার হয়ে যায়।" এরপর তিনি হাসপাতালের টয়লেটের পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী টয়লেটগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বলেন, "জঘন্য অবস্থা। সব ফ্লোরে ছয়টি টয়লেট আছে, এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। অন্তত টয়লেটটা তো আপনারা ঠিক রাখবেন।"
তিনি আরও বলেন, "আই ওয়ান্ট ক্লিন রাইট নাও।"
শুধু টয়লেটের অপরিচ্ছন্নতাই নয়, হাসপাতালের বৈদ্যুতিক পাখাগুলোর নাজুক অবস্থাও মন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন, দ্রুত নষ্ট পাখাগুলো মেরামত করার জন্য।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১১৭টি টয়লেট সচল আছে এবং ৩০টি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাথরুগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ১ হাজার ৩৪৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। এসব রোগীর সাথে তাদের একাধিক স্বজনও রয়েছে। এই অবস্থায় হাসপাতালের জনবল সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মীর ১৬৫ পদের মধ্যে ১০২টি পদ খালি রয়েছে। ফলে জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বতসোয়ানা সরকার জানিয়েছে, মাদক পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তাদের এক নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন। এর ফলে তার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একটি বিবৃতিতে বতসোয়ানার সরকার জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী লেসেদি মোলাপিসি ২০২২ সালে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। বতসোয়ানা কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ডুমা বোকোর করা একটি আবেদনের পর তার মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এএফপিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনিও বুতালে বলেছেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) লেসেদির দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।
লেসেদি মোলাপিসি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসেন। সেই সময় তার কাছে হেরোইন পাওয়া যায়। এই অপরাধের জন্য ২০২৪ সালে তার মৃত্যুদণ্ড হয়।
বতসোয়ানা জানিয়েছে, প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলো মামলাটি নিয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২ হাজারের বেশি ছিল। ওই বছর নতুন করে ১৮৫টি মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান (৫) নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুরে উপজেলার সিডস্টোর-আওলাতলী আঞ্চলিক সড়কের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলার মাদ্রাসার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার উত্তরখাম গ্রামের প্রবাসী মোবারক হোসেন মোল্লার ছেলে। কিছুদিন আগে আব্দুর রহমানের পরিবার ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকায় জমি কিনে একটি নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করে। সেই বাড়িতে সে তার মায়ের সাথে বসবাস করতো এবং স্থানীয় ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলার মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।
জানা গেছে, দুপুরে খাবারের জন্য মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আব্দুর রহমানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়, কিন্তু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলার মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, "আব্দুর রহমান আমাদের মাদ্রাসার অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছাত্র ছিল। দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য আমি নিজেই তার হাত ধরে রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রাস্তা পারাপারের সময় একটি বেপরোয়া গতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং সে গুরুতর আহত হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে মমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে সমাজবিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সময় সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মত এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল।" দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর, তিনি জানান, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে আবারো গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।"
একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য।" তিনি বলেন, "আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যা লঘু’।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশী ভাবি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র এবং সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’।
তিনি বলেন, "আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।" বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
অপরদিকে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সকল নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, "এভাবেই রাষ্ট্র ও সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব ও আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সকলের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।"
এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি।" সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।
সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ।" তিনি বলেন, "হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর ও দুষ্টু প্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী 'কংস'।"
শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর 'কংসে'র পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।
হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই দেশ আপনার আমার আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার আমার আমাদের সকলের অধিকার সমান।" তিনি বলেন, "নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।"
বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।" তিনি বলেন, "আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি।"
তিনি আরও বলেন, "শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সকল উৎসব-আয়োজন শান্তিতে ও স্বস্তিতে এবং নিরাপদে পালন করুন। আমি আবারো জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।"
জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুস্পস্তবক উপহার দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে তা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য সূবর্ণা শিকদার ঠাকুর।
অনুষ্ঠানে মন্দিরের ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারাদেশে পুরোহিত ও সেবাইতগণের ব্যাংক একাউন্টে এফটিএ’র মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে যায়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন শুক্রবার। দিবসটির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, গণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ