০৪:৪৩ পি.এম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চার গণনাকারীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের কারণে মৌখিকভাবে কাজে অংশগ্রহণ না করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাদের জানিয়েছে যে, তাদের শুমারি কার্যক্রমে অংশ না নিতে বলা হয়েছে, এমন অভিযোগ তারা করেছেন। এ সময় ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে মব ও বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
বাদ পড়া চার ব্যক্তির নাম হলো—শেখ ইমন আহমেদ, ইমরান আলী পাঠান, অপুর রায় চৌধুরী এবং শাহ আলম হৃদয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
অভিযোগ রয়েছে যে, শেখ ইমন আহমেদ মাধবপুরের আন্দিউরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি আন্দিউরা ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে শেখ ইমন আহমেদের দাবি, এআই ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।
ইমরান আলী পাঠান সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মাধবপুর পৌরসভার গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
অপরদিকে, অপুর রায় চৌধুরী আদাঈর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, এবং তিনি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
শাহ আলম হৃদয় ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যদিও তিনি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা সত্ত্বেও ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত—এমন অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
শাহ আলম হৃদয় তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, "আমি এখনো আশায় আছি, আমি আশাবাদী—আমি কাজ করতে পারব। আমি মেধা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, আমাকে বাদ দেওয়া হবে কেন? আমি মাননীয় এমপির কাছে ন্যায়বিচার চাই।"
মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দীন বলেছেন, "প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মব আতঙ্ক থেকে প্রশাসনকে মুক্ত থাকতে হবে। এত কিছু যদি করতেই হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হলো কেন?"
এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান মন্তব্য করেছেন, "আমরা বাছাই কমিটির সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।" তবে চারজনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শাকিফ ইশমাম চৌধুরীর কাছেও চার জনকে বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন