বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১২ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় রান্নার কার্যক্রম নিয়মিত গ্যাস সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত না থাকায় ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
এই ক্যাফেটেরিয়ায় প্রতিদিন ৫-৬ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, রান্নার কার্যক্রম একটি গ্যাসলাইন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই লাইন থেকে আরও কয়েকটি স্থাপনায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংযোগ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনে গেছে। ফলে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নিয়মিতভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসনসহ একাধিক স্থাপনায় একই গ্যাসলাইন থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহারের ফলে রান্নার ব্যস্ত সময়ে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ আরও কমে যায়।
ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সংকটের কারণে নিয়মিত রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হয়। লাকড়ির জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এর ফলে ক্যান্টিনের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, লাকড়ির চুলায় রান্না করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। ফলে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে রান্নার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খাবারের আইটেম চালু করা সম্ভব হবে।
তারা আরও জানান, গ্যাস সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীসহ প্রশাসন সবাই অবগত আছেন, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যাতে ক্যান্টিনে নিয়মিত পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রইচ উদ্দিন বলেন, "এখন দেশের প্রায় সব জায়গাতেই গ্যাস সংকট রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাদের ক্যাফেটেরিয়ার মেইন লাইনটিও বৈধ কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমরা দ্রুতই চেষ্টা করছি, যেন সমস্যাটি স্থায়ী সমাধান করা যায়।"
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। এক শিক্ষার্থী বলেন, "অনেক সময় ক্যান্টিনে খাবার অর্ডার করার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত ক্লাস থাকলে খাবার খেয়ে সময়মতো ক্লাসে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গ্যাসের সমস্যার কারণে যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত দ্রুত এর সমাধান করা। আমরা সময়মতো খাবার পাচ্ছি না, অথচ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসায় অবৈধভাবে গ্যাসের সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও বেশি সজাগ থাকা উচিত।"
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "ক্যান্টিনে খাবারের আইটেমও খুব বেশি বৈচিত্র্যময় নয়। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে যদি নতুন নতুন খাবার যুক্ত করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে।"
ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে রান্নার সময় কমার পাশাপাশি খাবার তৈরির সক্ষমতাও বাড়বে। এতে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে এবং নতুন নতুন খাবারের আইটেমও যুক্ত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত গ্যাস সংকটের কারণে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের ওপর। তাই ক্যাফেটেরিয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও পৃথক গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসা গ্রহণের সময় রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন—এটাই সকলের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। তবে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই ক্ষতির অর্ধেকেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য বলেও জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস’। ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা’ এবং স্লোগান ‘জীবনের জন্য নিরাপদ সেবা’। অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ চিকিৎসা এবং জীবনভর নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার ওপর এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় চিকিৎসা, পরীক্ষা, ওষুধ সেবন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে হয়। এই কারণে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরিমাণও বেশি হয়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় ভুল রোগ নির্ণয়, ওষুধ ব্যবহারে ভুল, সংক্রমণ, চিকিৎসার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে বাধার কারণে রোগীরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৪ শতাংশই অসংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রোগী সুরক্ষার ঝুঁকি হাসপাতালের শয্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক ও বহির্বিভাগের চিকিৎসাতেও ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। এর একটি বড় অংশ প্রতিরোধযোগ্য।
ওষুধ ব্যবহারে ভুল, রোগ নির্ণয়ে ভুল, অনিরাপদ অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে সংক্রমণ, রোগীর পরিচয় শনাক্তকরণে ভুল এবং অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন রোগী সুরক্ষার প্রধান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অনিরাপদ চিকিৎসার বোঝা আরও বেশি। শুধুমাত্র হাসপাতালেই এসব দেশে বছরে আনুমানিক ১৩ কোটি ৪০ লাখ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। রোগী সুরক্ষাসংক্রান্ত ক্ষতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও এসব দেশে ঘটে বলে জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
রোগী সুরক্ষা শুধুমাত্র চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, রোগীর তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় রোগী ও স্বজনকে সম্পৃক্ত করা—এসব ব্যবস্থা জোরদার করলে চিকিৎসাজনিত ক্ষতি কমানো সম্ভব।
চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপদ চিকিৎসা পাওয়াও রোগীর অধিকার। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় পুরো চিকিৎসাযাত্রার প্রতিটি ধাপে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ৭ জন প্রভাষক এবং ১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হবে। আবেদন করার শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর।
চাকরির বিবরণ
১. পদের নাম: প্রভাষক, পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগ
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)
২. পদের নাম: প্রভাষক, ফার্মেসি বিভাগ
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)
৩. পদের নাম: প্রভাষক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)
৪. পদের নাম: প্রভাষক, আর্কিটেকচার বিভাগ
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)
৫. পদের নাম: প্রভাষক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)
৬. পদের নাম: সহকারী অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা (গ্রেড-৬)
৭. পদের নাম: প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)
আবেদন করার প্রক্রিয়া: আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ‘রেজিস্ট্রার, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজাপুর, পাবনা-৬৬০০’ ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠাতে হবে।
আবেদন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম্যাটে আবেদন করতে হবে।
আবেদন ফি: ৬০০ টাকা
আবেদনের শেষ তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে নকল বৈদ্যুতিক তার তৈরির অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযানে ২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। এ সময় নকল তার তৈরির জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম, কাঁচামাল এবং প্রস্তুতকৃত বৈদ্যুতিক তার জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-১০-এর সহকারী পরিচালক তাপস সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কারখানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নকল বৈদ্যুতিক তার তৈরির সরঞ্জাম, কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত তার জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানার ব্যবসায়ী মো. মানিক (৩৬) কে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, নকল বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাতের কারণে শিপু মিয়া (২৭) নামের এক নৌযান শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এই দুর্ঘটনাটি মাটিয়ান হাওরের মধ্যবর্তী স্থানে ঘটে।
নিহত শিপু মিয়া বালিজুরী গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে।
পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শিপু মিয়া ইঞ্জিনচালিত নৌযানের মাধ্যমে তাহিরপুর উপজেলার বাগলি শুল্কস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এবং একই গ্রামের প্রতিবেশী ইঞ্জিনচালক মোজ্জামিল হক বাগলি থেকে ময়মনসিংহের চারঘাটে চুনাপাথর নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হন। পথে মাটিয়ান হাওরে বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে নৌযানের সুকানীর দায়িত্বে থাকা শিপু মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে ইঞ্জিনচালক মোজাম্মিল হক আহত শিপু মিয়াকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিপুর মিয়ার চাচাতো ভাই এবং সুনামগঞ্জ জেলা ট্রলার বাল্কহেড নৌ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিপু ও মোজাম্মিলের আজ বাগলী থেকে চুনাপাথর নিয়ে ময়মনসিংহের চারঘাটে যাওয়ার কথা ছিল। সকালে বাড়ি থেকে নৌকা নিয়ে তারা মাটিয়ান হাওর দিয়ে বাগলী যাচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাত হলে নৌকার সুকানীর দায়িত্বে থাকা শিপু গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এলোমেলোভাবে চলতে থাকলে ইঞ্জিনচালক মোজাম্মিল বিষয়টি টের পান। পরে শিপুকে নিয়ে সে তাহিরপুর হাসপাতালে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাতের শিকার হয়ে একজন নৌযান শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ