রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৭ পি.এম
দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুস সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করে। নতুন করে দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই দরেই সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হবে।
বাজুসের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায়।
অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯৬৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্ধারিত দামেই দেশের বাজারে সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হতে থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে একটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা পাঁচটি তালা ভেঙে নিয়ে গেছে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিপত্র চুরি বা তছনছ করা হয়নি।
এই চুরির ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে যেকোনো সময় শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে তালা দিয়ে বাড়িতে চলে যান। শনিবার সন্ধ্যায় অফিস সহকারী বোরহান হাওলাদার দাপ্তরিক জরুরি কাজে কার্যালয়ে এসে মূল দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করার পর তিনি বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
পরে কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ও মালামাল যাচাই করে দেখা যায়, পাঁচটি তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আবারও নিশ্চিত করে জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিপত্রে হাত দেওয়া হয়নি।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদ মামুন বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় আমাদের অফিস সহকারী বোরহান আমাকে ফোন করে জানান, অফিসের তালা ভাঙা। পরে এসে দেখি পাঁচটি তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। তবে কোনো নথিপত্র তছনছ করা হয়নি। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ দিতে বলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, দুই দিন কার্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে কোনো একসময় চুরির ঘটনা ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
"ও কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে?" অথবা "একদিন কি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?"—যদি সম্পর্কের মধ্যে থেকেও এমন প্রশ্ন বারবার মনে আসে, তাহলে সম্পর্কের আনন্দের চেয়ে অনিশ্চয়তা বড় হয়ে উঠতে পারে। সঙ্গীর কোনো ছোট আচরণও তখন মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
নিজের কিছু আচরণ খেয়াল করলেই বোঝা যেতে পারে, সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ কাজ করছে কি না। পাঁচটি আচরণ রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে অনিশ্চয়তার প্রবণতা প্রকাশ করতে পারে।
যদি সঙ্গী নির্দিষ্ট সময়ে মেসেজ না করে, আগের মতো বার্তা বা ইমোজি ব্যবহার না করে কিংবা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসে, তাহলে দুশ্চিন্তা শুরু হয় কি? ফোনে সঙ্গীর কণ্ঠস্বর একটু ভিন্ন শোনালে মনে হতে পারে, "ও কি আর আগের মতো আমাকে ভালোবাসে না?" অথবা "আমি কি কোনো ভুল করেছি?"
সাধারণভাবে ব্যস্ত থাকার বদলে খুব দ্রুত নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রবণতা থাকলে সেটিও সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার লক্ষণ হতে পারে।
যদিও সঙ্গী আপনাকে ভালোবাসেন—এটি জানার পরও যদি বারবার তার কাছে নিশ্চয়তা চান, তাহলে তা সম্পর্কের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। "আমাদের মধ্যে সব ঠিক আছে তো?", "তুমি কি এখনো আমাকে ভালোবাস?", "আমার ওপর কি রাগ করেছ?"—এ ধরনের প্রশ্ন কেউ কেউ বারবার করতে পারেন।
সঙ্গীর আশ্বাসে কিছু সময়ের জন্য মন শান্ত হলেও, অল্প সময় পর আবার একই প্রশ্ন মনে ঘুরতে থাকে। ফলে যত বেশি নিশ্চয়তা খোঁজা হয়, নিরাপত্তার অনুভূতিও তত দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে।
যদি সঙ্গী মেসেজের উত্তর দিতে দেরি করেন, তবে মনে নানা আশঙ্কা তৈরি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কখন তিনি শেষবার অনলাইনে ছিলেন, আগের কথোপকথনে অস্বাভাবিক শব্দ ব্যবহার করেছিলেন কি না অথবা নিজের পাঠানো বার্তাটি ঠিক ছিল কি না—এসব নিয়ে কেউ কেউ বারবার ভাবতে পারেন।
এমনকি স্বাভাবিক একটি বার্তা পাঠানোর পরও মনে হতে পারে, "এটা কি অন্যভাবে নিল?" অর্থাৎ কথোপকথনের স্বাভাবিক বিরতিকেও তখন প্রত্যাখ্যান বা দূরে সরে যাওয়ার সংকেত মনে হতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকার পরও যদি মনে হয়, "একদিন নিশ্চয়ই অন্য কাউকে ভালো লেগে যাবে, আমাকে ছেড়ে দেবে", তাহলে সেটিও সম্পর্ক নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হতে পারে। বাস্তবে এমন কোনো কারণ না থাকলেও এই আশঙ্কা মনে ঘুরতে পারে।
সঙ্গীর বন্ধু, পুরোনো সম্পর্ক কিংবা নতুন পরিচিত মানুষকে নিয়ে অকারণে তুলনা শুরু হতে পারে। প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, পুরো সম্পর্কটিকেই সেই ভয় দিয়ে বিচার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো কিছু সময় কাটানোর প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সঙ্গী যদি বলেন, "আজ একটু একা থাকতে চাই", তখনই যদি মনে হয় তিনি সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
ঝগড়া হলে সঙ্গীকে কিছুটা সময় দেওয়ার বদলে সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ঠিক করে ফেলতে চান কেউ কেউ। সঙ্গীর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাও তখন অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সহ্য করা কঠিন হয়ে যায় এবং সম্পর্কটি নিরাপদ আছে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি হয়।
তবে এসব অনুভূতি থাকা মানেই কেউ ভালোবাসার অযোগ্য—এমন নয়। কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ যদি দৈনন্দিন শান্তি নষ্ট করে বা সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করে, তাহলে পেশাদারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। নিজের উদ্বেগ বুঝে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ব্যক্তিগত শান্তি যেমন বাড়ে, তেমনি সম্পর্কটিও আরও সুন্দর রাখা সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে। বর্তমান সরকার এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রদত্ত এক বাণীতে এই তথ্য তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রতিটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে, এটি জেনে তিনি আনন্দিত।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পর্যটন একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অজস্র নদ-নদীর ধারা, সবুজ ফসলের মাঠ, ষড়ঋতুর অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ বিশ্বব্যাপী পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের ধরন বদলে দিচ্ছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত, আবাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ ও আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরও ত্বরান্বিত হবে। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতি সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তর হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
সবশেষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানে পর্যটন শিল্প এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। সম্ভাবনাময় এই পর্যটন অঞ্চল সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই শিল্পের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
পাহাড়, ঝরনা এবং বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির কারণে বান্দরবান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এটি কাঙ্ক্ষিত রূপ নিতে পারেনি। স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন করপোরেশন এবং হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের মধ্যে কার্যকর যৌথ রূপরেখার অভাবের কারণে সবকিছু যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বান্দরবানে নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক এবং প্রান্তিক লেকসহ সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না।
ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মতে, বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপ ও অপার সৌন্দর্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে। তবে বর্তমানে বান্দরবান ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি মহল এই সুযোগটি নিচ্ছে। আবাসন ব্যবস্থা ও যাতায়াতে আরও স্বচ্ছতা আনা গেলে পর্যটক যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বান্দরবান ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাশ (বাপ্পা) বলেন, "বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।" তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পট ছাড়া অন্য কোথাও ভ্রমণের অনুমতি না থাকায় বিদেশি পর্যটক সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে একদিনেই ঘোরা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এক দিনের বেশি থাকতে চান না।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল ও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "পর্যটন শহর হিসেবে বাস্তবে বান্দরবানকে সঠিকভাবে সাজানো হয়নি।" জেলা শহরের বর্তমান অবস্থা দেখে পর্যটকরা একদিনের বেশি থাকতে চান না। শহরে ময়লা-আবর্জনা, যত্রতত্র পার্কিং এবং চলাচলের ভালো কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সন্ধ্যার পরে জেলা শহরে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা একদিন থেকেই কক্সবাজারমুখী হয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, "পর্যটকদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না।" পর্যটন দিবস এলেই সভা, সেমিনার ও র্যালির মতো কিছু কর্মসূচির মধ্যেই সব সীমাবদ্ধ থাকে। আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পরিবহনের ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট তালিকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত না থাকায় অতিরিক্ত খরচ গুণতে হয়। ঢাকা-কক্সবাজার বাস ভাড়ার চেয়ে ঢাকা-বান্দরবান বাস ভাড়া অনেক বেশি নেওয়ার কারণে ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং বর্ষায় ধসের কারণে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও জাতিগত অস্থিরতায় পর্যটক আগমন ব্যাহত হলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি বিকল্প বিনোদনের সুযোগ না থাকায় পর্যটক সীমিত হয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে।
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, "এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।" বর্তমানে পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটগুলোতে বিশেষ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল টিমও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ