রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, সরকারি দল বা প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে যদি কেউ অপকর্ম বা ভাঙচুর করে, তবে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাজধানীর মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নাম বা সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ পার পাবে না। মিরপুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯ জনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানান, যেকোনো অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শুরু থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করতে কাজ করছে।
দেশের শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যেকোনো পরিচয় ব্যবহারের চেষ্টা করুক না কেন, তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে হামলার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। এই ঘটনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই ক্ষোভ জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেন, যেখানে সালমান মুক্তাদির তার স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বর্ণনা দিচ্ছেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, গভীর রাতে জুলাইযোদ্ধা ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের বাসা ও স্টুডিওতে চাঁদাবাজদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তিনি চাঁদাবাজদের উদ্দেশে বলেন, ‘মাঝে মাঝে মধু আহরণকারী চাঁদাবাজরা মৌচাক মনে করে ভিমরুলের চাকেও ঢিল ছুড়ে দেয়। তখন সেই ঢিল বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসে।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কীভাবে সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক ব্যক্তি ৩০ বছর ধরে বাড়ির দরজার চৌকাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসা একটি ধাতব খণ্ডকে সম্প্রতি বিরল উল্কাপিণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জানা গেছে, সাধারণ দেখতে ওই বস্তুটির সম্ভাব্য মূল্য ১ লাখ ডলার বা প্রায় ১ কোটি টাকা।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এডমোর এলাকার। প্রায় ৩০ বছর আগে, ওই ব্যক্তি নিজের বাড়ির বাগানে একটি পাথরের মতো শক্ত বস্তু দেখতে পান। ধাতব খণ্ডটির দৃঢ়তা দেখে তিনি সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরে সেটিকে দরজার চৌকাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন।
বছরের পর বছর ধরে এভাবে বস্তুটি পড়ে ছিল। हाल ही में, স্থানীয় এক ব্যক্তি সেটি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি বিষয়টি একজন বিজ্ঞানীকে জানান। পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এটি সাধারণ কোনো ধাতব খণ্ড নয়; বরং এটি একটি উল্কাপিণ্ড।
প্রায় ১০ কেজি ওজনের এই খণ্ডটির গঠনও বেশ বিরল। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষায় এতে প্রায় ৮৮ শতাংশ লোহা এবং ১২ শতাংশ নিকেল পাওয়া যায়। পৃথিবীতে পতিত অনেক লৌহ উল্কাপিণ্ডে সাধারণত প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত লোহা থাকতে পারে। এই উল্কাপিণ্ডের গঠন বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই উল্কাপিণ্ড সৌরমণ্ডলের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে। তাই এটি শুধু মূল্যবানই নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, উল্কাপিণ্ডটির দাম প্রায় ১ লাখ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৯৫ লাখ টাকারও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি।
অর্থাৎ, তিন দশক ধরে যে বস্তুটি একটি বাড়ির দরজার চৌকাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে বিরল ও মূল্যবান এক মহাজাগতিক সম্পদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সান ফ্রান্সিসকো জায়ান্টসের একটি খেলায় এক নারী শিশুকে কোলে নিয়ে খাবারের প্যাকেট হাতে আসনে ফিরছিলেন। পাশের আসনে থাকা স্বামী তখন খাবার খেতে শুরু করেন। এই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্বামীকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ধারাভাষ্যকাররা ওই নারীকে মজা করে ‘বর্ষসেরা মা’ বলে অভিহিত করলেও অনলাইনে অনেকেই স্বামীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তবে ভাইরাল ভিডিওতে পুরো ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই নারী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তিনি নিজের নাম এরিকা বলে পরিচয় দিয়ে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।
এরিকা জানান, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) খেলায় তিনি তাদের মেয়েকে নিয়ে শৌচাগারে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন তিনি। স্বামী রামসেস তাকে কম ভিড়ের জায়গা থেকে খাবার আনতে বলেন।
খাবার নিয়ে ফেরার পর রামসেস তাকে আগে খেতে চান কি না জানতে চেয়েছিলেন। এরিকা বলেন, তিনি খেলার আগে খেয়েছিলেন এবং তার স্বামী সেদিন ঠিকমতো খাবার খেতে পারেননি। তাই স্বামীকে আগে খেতে বলেন তিনি।
এরika জানান, রামসেস তার কোলে থাকা খাবারের প্যাকেটগুলো সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের খাবার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে তিনি তা নিতে রাজি হননি।
খেলার সময় ক্যামেরা তাদের ওপর থাকাকালে ধারাভাষ্যকার মাইক ক্রুকো ও ডুয়েন কুইপার পুরো ঘটনাটি নিয়ে মজা করেন। তারা এরিকাকে ‘বর্ষসেরা মা’ বলে অভিহিত করেন এবং রামসেস নাকি তাকে টমেটোর সস আনতে বলেছেন—এমন কথাও মজা করে বলেন।
এরিকা জানান, এমন কোনো কথোপকথন তাদের মধ্যে হয়নি। তার ভাষ্য, টেলিভিশনে ঘটনাটি একভাবে দেখা গেলেও তারা দুজন একে অপরের কথা শুনতে পাচ্ছিলেন। কিন্তু ধারাভাষ্যকার ও দর্শকরা তাঁদের কথোপকথন শুনতে পাননি।
এরিকা জানান, রামসেসের শৈশবের এক বন্ধু সম্প্রতি মারা গেছেন। ওই বন্ধু ছিলেন প্রতিভাবান বেসবল খেলোয়াড়। বন্ধুটিকে স্মরণ করার সুযোগ হিসেবে তিনিই স্বামীকে খেলাটি দেখতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই সেদিন স্বামী যেন খেলাটি উপভোগ করতে পারেন, সেটিও তিনি চেয়েছিলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমে তারা দুজন বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু পরে অপরিচিত মানুষজন রামসেসকে নিয়ে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন। এমনকি কেউ কেউ তাদের নাম ও ফোন নম্বর খুঁজে বের করে রামসেসকে আত্মহত্যা করতে বলেও বার্তা পাঠান বলে জানান এরিকা।
তিনি বলেন, ধারাভাষ্যকার ও দলের পক্ষ থেকে কাউকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মনে করেন না। তবে তাদের করা রসিকতা তার স্বামীকে অনলাইনে উপহাসের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
এরিকা বলেন, টেলিভিশনে কয়েক মুহূর্তের বিনোদন তাদের পরিবারের জন্য কয়েক দিনের কষ্টে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাকে ‘বর্ষসেরা মা’ বলায় তিনি খুশি। তবে তার জীবন সম্পর্কে ধারণা করার আগে তার নিজের কথাও শোনা উচিত। তিনি যা করেছেন, তার প্রশংসা করা যেতে পারে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাকে সবকিছু একাই করতে হয়।
সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে খুদে বার্তার মাধ্যমে এসব তথ্য জানায়। পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ওসি জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রথম দফায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন শাহ আলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছিলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন।
মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যান।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধন ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ