১০:৪৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়াই ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার মেধাবী উদ্যোক্তাদের পাশে আছে। স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই তহবিল থেকে আমরা উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তরুণ, স্টার্টআপ এবং সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানের ছাত্রী নুসরাত জাহানের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ শুরু করতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদের জমি, সম্পদ বা অন্যান্য জামানতের মতো প্রচলিত ব্যাংকিং পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
তিনি বলেন, একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা নেই। তারা আপনার প্রকল্পটি মূল্যায়ন করবে এবং অনুমোদন দিলে আপনি কোনো জামানত ছাড়াই অর্থায়ন পাবেন।
আরেক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে আসা তরুণ উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়াই সরকার-সমর্থিত স্টার্টআপ অর্থায়ন পেতে পারবেন। সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো শুরুতে ব্যর্থ হলেও অর্থায়নের জন্য তাদের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তাদের সমর্থন করার বিষয়ে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশজুড়ে প্রসারিত করতে চায়। আমরা চাই বাংলাদেশের সব প্রান্ত থেকে আপনাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসুক। আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছাতে চাই।
অপর একটি প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সময় লাগবে, তবে আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু আমরা সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে, আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাব বলেই বিশ্বাস করি।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
প্রশ্নকারীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডিইউ), বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জেইউ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (বিইউপি), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং উদ্যোক্তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন