ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মহারশি নদী ভাঙন রোধে নদী পুনঃখনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি


মহারশি নদী ভাঙন রোধে নদী পুনঃখনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি

মহারশি নদী ভাঙন প্রতিরোধে নদীর পুনঃখনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সক্রিয় হয়েছে স্থানীয়রা। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে যায় এবং নদীর নাব্যতার সংকট দেখা যায়, যার ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়। মহারশি নদীর ভাঙনে সৃষ্ট বন্যায় গত এক দশকে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ি-ঘর হারিয়েছে। তাই স্থানীয়রা মহারশি নদীর পুনঃখনন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের জন্য জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম ও দক্ষিণ গারো পাহাড়ি এলাকা থেকে মহারশি নদী নির্গমন করে ঝিনাইগাতী উপজেলার গারোকোনা এলাকার ১ হাজার ১০৮ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে জিরো পয়েন্টে প্রবেশ করে পাগলারমুখ এলাকায় মালিঝি নদীতে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া নদীটির পরিচিতি নম্বর ৬৮ এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ কিলোমিটার ও গড় প্রশস্ততা ৫৭ মিটার। প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষাকালে মহারশি নদীর গতিপথে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ও ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের কমপক্ষে দশটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়।

গত ২০২৪ সালের অক্টোবর ও ২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে মহারশি নদীর উভয় তীরের বাঁধ ভেঙে যায়। এর ফলে ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, পুকুর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, পাশাপাশি বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। দুর্গত এলাকায় ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর মহারশি নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজন করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভয়েস অব ঝিনাইগাতী’। এরপর জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, মানবাধিকার কর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণির ৩ হাজার ২৭৩ জন নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর জমা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, মহারশি নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গণস্বাক্ষরের স্মারকলিপি গত ২৩ অক্টোবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মহারশি নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বন্যার পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহারশি নদীর দুই তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসন এবং নদী পুনঃখননের জন্য গত ২৫ নভেম্বর শেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সুদীপ্ত চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রায় ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় কারিগরি কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসনের জন্য আনুমানিক ২২ কোটি ২৯ লাখ ২ হাজার টাকা এবং ১৭ কিলোমিটার মহারশি নদী পুনঃখননের জন্য প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। পরবর্তী সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে গঠিত কারিগরি কমিটি চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। মহারশি নদীর দুই তীরে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং নদী পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন শাখা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

খৈলকুড়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. বিনামিন বলেন, গত ২০২৪ সালের অক্টোবরের সময় মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েক মিনিটের মধ্যে আমার চোখের সামনে তিলে তিলে গড়া মুরগীর খামার ও বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ওই সময় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে, এখন পুঁজির অভাবে আর ব্যবসা দাঁড় করাতে পারছি না। এ ধরনের পরিস্থিতি যেন অন্য কেউ না হয়, তাই সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ঝিনাইগাতী বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের কোষাধ্যক্ষ মো. জাহিদুল হক মনির বলেন, মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে প্রতিবছর ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ আশপাশের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং নদী পুনঃখননের বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টরা ভাবছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার নদী ভাঙন প্রবণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

শেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, মহারশি নদীর দুই তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসন এবং নদী পুনঃখননের নকশা প্রস্তুতির কাজ চলমান রয়েছে। নকশা প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণের পর একনেক সভায় অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে। শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, এ বিষয়ে সংসদে একাধিকবার কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজের অনুমোদন হয়ে যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


শেরপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য শেরপুর গড়ে তোলার জন্য শেরপুর পৌরসভার উদ্যোগে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শহরের ঢাকলহাটি এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু লায়েস মো. বজলুল করিম, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খোরশেদ আলমসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এ কর্মসূচির আওতায় শহরের ঢাকলহাটী, নবীনগরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মনোযোগ সহকারে পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়। জেলা প্রশাসক এই সময় পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়াও, শহরের ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হ্রাস করতে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ শেরপুর গড়ে তুলতে এই ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলেও মন্তব্য করেছেন পৌর প্রশাসক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ পি.এম


পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

মেলান্দহের জামালপুরে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার সময়, মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দ গ্রামে। অভিযুক্ত নয়ন বেপারি (১৬) হল প্রতিবেশি আনিছ বেপারির ছেলে।

ঘটনার দিন সকালে শিশুটি বাড়ির আঙ্গিনায় অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। সেই সময় অভিযোগ উঠেছে, নয়ন শিশুটিকে পাজাকোলে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি পাকা বাথরুমে অন্তরঙ্গ হয়ে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটির আর্ত চিৎকারে স্থানীয় জনগণ শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, তবে অভিযুক্ত নয়ন পালিয়ে গেছে। এ ঘটনাটির পর থেকে নয়ন ও তার পরিবার আত্মগোপনে রয়েছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম মাহমুদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে এবং এটি আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানি না থাকায় ৭ বছরের নাতনিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নানার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


নানি না থাকায় ৭ বছরের নাতনিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নানার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানায় ৭ বছরের একটি শিশুয়ের ওপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল হাকিম (৫৩) নামের একজন ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ইউনিয়নের একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল হাকিম কোদালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল কোদালা মাছুফ্যার ঘোনার মাঝির বাড়ির বাসিন্দা।

এ তথ্য জানা যায় যে, সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে শিশুটির নানি তাকে ঘরেতেই রেখে পাশের বাড়িতে যান। নানি চলে যাওয়ার পর আব্দুল হাকিম উপযুক্ত সুযোগ পেয়ে বসতঘরে ঢুকে শিশুটিকে পানি আনতে বলেন। শিশুটি পানি আনলে আব্দুল হাকিম তার উপর ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

শিশুটির পিতা ৫ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এবং মা এক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ের পর চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছেন। শিশুটি নানির সাথে বসবাস করে।

শিশুটির নানি গৃহপরিচারিকার কাজ এবং ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। আব্দুল হাকিম ওই বৃদ্ধার ছোট বোনের জামাই।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ জানান, এজাহারের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের জালে ১০ সদস্যের দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের জালে ১০ সদস্যের দল

১৪ বছরের পিতৃহীন শিশু মিশকাতের একমাত্র জীবিকার নির্ভরতা ইজিবাইকটি যাত্রীবেশে একদল দুর্ধর্ষ ডাকাতের দ্বারা ছিনতাই হয়ে যায়। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ ঘটনার পেছনে থাকা আন্তঃজেলা দস্যু চক্রের ১০ সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ইজিবাইক, মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা।

শনিবার (২৫ জুলাই) তাঁরা ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

পুলিশ এবং এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারকে চালানোর জন্য ১৪ বছর বয়সী শিশু মিশকাত ইজিবাইক চালাতে থাকে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের অধিবাসী হিসেবে। ১৯ জুলাই ২০২৬ বিকেলে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে চারজন যাত্রীবেশে তার ইজিবাইকে ওঠে। পরে, তাকে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন বংকিরা মাঠের একটি নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে হাত-পা এবং মুখ বন্ধ করে ইজিবাইকসহ মোবাইল ফোন ছিনতাই করে চলে যায়।

ভুক্তভোগীর চাচা এ ঘটনার পর ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি দস্যুতার মামলা (মামলা নম্বর-৩৭) দায়ের করেন। ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম সেলের তদন্ত দল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা এবং আশপাশের জেলাগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চার দস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— ১. মো. আকাশ সরদার বা ডাকাত আকাশ, ২. মো. জিয়ারুল বা জিয়া (৪৪), ৩. মো. সিরাজুল ইসলাম (৪০) এবং ৪. মো. আখতার মোল্লা (৪০)।

পরবর্তীতে, তাদের দেওয়া তথ্যে লুণ্ঠিত মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত আরও ছয় সদস্য—রাশিদুল ইসলাম বা বল্টু (৫০), মো. লিটন আলী (৫০), মো. সজীব শেখ (২৪), মো. মাসুদ রানা (৩২), মো. ইসলাম খান বা তাহের (৬৫) এবং মো. আশরাফুল ইসলাম (৪২)-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে মিশকাতের ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক, একটি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনসহ মোট আটটি মোবাইল ফোন এবং বাইক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, তারা দীর্ঘসময় ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা এবং পাবনা জেলাজুড়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছিলেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথক থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি এবং দস্যুতার মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%