০৫:১৪ পি.এম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগ ভোগ করছেন। সদরপুরের প্রধান সড়কে ব্যস্ত সময়ে যানজট একটি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে।
ভ্যাপসা গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা, প্রধান সড়কে ইজিবাইক ও অটোরিকশার যত্রতত্র পার্কিং, চালকদের ইচ্ছেমতো ইউটার্ন নেওয়া এবং সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরপুরে নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা না থাকায় কৃষ্ণপুর মোড়, কলেজ মোড়, দর্জিগলি ও সদরপুর বাজারসংলগ্ন প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহন পার্ক করে রাখা হয়। ব্যস্ত সময়ে এসব যানবাহন সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে রাখায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বাস ও ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন প্রধান সড়কে প্রবেশ করলে অনেক সময় যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন বিভিন্ন পেশার প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নানা প্রয়োজনে সদরপুর উপজেলা সদরে আসেন। যানজট কখনো কখনো প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো সেবাগুলোও বিড়ম্বনায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সদরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা তাজিম বেপারি মন্তব্য করেন, দিন দিন সদরপুরে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় সড়ক ব্যবস্থাপনা ও যান নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত যানজট বাড়ছে, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বেড়ে চলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজার এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। ফুটপাত দখলে থাকায় পথচারীরাও বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এতে যানজট আরও বাড়ে এবং ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
শিক্ষার্থী জিতু আক্তার বলেন, স্কুলে যাওয়ার সময় প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়। ইজিবাইক ও অটোরিকশা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায় যান চলাচল ধীর হয়ে যায়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন জানান, সদরপুরে যানজট নিরসনে অচিরেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি পার্কিং বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে যানজট সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা হবে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালু, সড়কে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ এবং নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে সদরপুর উপজেলা সদরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন