মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৬ পি.এম
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে মহিলা সমিতির অনুদান ও ঋণের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের কারণে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। আফজাল হোসেন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমিতির টাকা ভাগ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতিকে ২২ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে, সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে বীরনগর গ্রামে যান মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। সেখানে সমিতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তার সঙ্গে সদস্যদের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে অফিসে ফিরে এ বিষয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে ২১ জন নারীকে ২৫ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। তিনি জানতে পারেন, অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম ওই নারীদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে মোট ২১ হাজার টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
আফজাল হোসেন বলেন, সাইফুল নিয়মিত অফিসে আসেন না এবং দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করেন না। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিদের অফিসে এনে ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। সম্প্রতি ঋণ দেওয়ার কথা বলে কয়েকজন নারীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি জানার পর, বীরনগরে গিয়ে বিষয়টি জানার পর অফিসে ফিরে আসলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছি।
অন্যদিকে, অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সমিতিকে চেক দেওয়া কিংবা টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সমিতির সদস্যরা সুনামগঞ্জ থেকে চেক নিয়ে টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফিরেছেন। ওই টাকা থেকে কোনো কর্মকর্তাকে ভাগ দেওয়ার বিষয়েও তিনি অবগত নন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বীরনগর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার কাছ থেকে কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের সঙ্গে তাদের বিরোধের বিষয়টি জানতে পারি। পরে অফিসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন। তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করলে তিনি টেবিলের ওপর পড়ে আঘাত পান। এরপর অফিস থেকে বেরিয়ে যান। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
এদিকে, উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহিমা বেগম ও সম্পাদক করবুল নেছা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আফজাল হোসেন তাদের গ্রামে গিয়ে সমিতির টাকার ভাগ চান। তাদের দাবি, সমিতির টাকা উত্তোলনের পর তিন ভাগে ভাগ করতে হয়। এক ভাগ সভাপতি, এক ভাগ সম্পাদক এবং আরেক ভাগ অফিসের জন্য। তবে তারা সমান ভাগ দিতে রাজি না হওয়ায় কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে সেখান থেকে চলে যান।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এজেএম রেজাউল আলম বলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। অফিস সহকারীকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী জানান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি টাকায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের ১২ দিনে প্রবাসীরা ১২৯ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের মাসের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ডলার বা ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ৮৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এর আগে সদ্যবিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে।
এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। পরবর্তী মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বন্ধুদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনকে আরো আনন্দময় করতে নিজের ছবি দিয়ে তৈরি স্টিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে খুব সহজেই পছন্দের ছবি থেকে স্টিকার তৈরি করে তা হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা সম্ভব। এজন্য আলাদা করে ডিজাইন করার প্রয়োজন নেই।
চলুন, নিজের ছবি দিয়ে স্টিকার তৈরি করে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানি।
যেভাবে তৈরি করবেন স্টিকার
প্রথমে মোবাইল ফোনের যেকোনো একটি ব্রাউজার খুলে ‘প্রিয় টপিক’ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর সার্চ অপশনে গিয়ে ‘DIY’ লিখে সার্চ করতে হবে। সার্চের ফলাফলে প্রথম পোস্টটি খুললে পৃষ্ঠার একেবারে নিচের দিকে ‘কপি প্রম্পট’ অপশনটি পাওয়া যাবে। সেখানে ক্লিক করে প্রম্পটটি কপি করতে হবে।
এরপর চ্যাটজিপিটিতে প্রবেশ করে প্লাস (+) আইকনে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে ‘প্লাগইনস’ অপশনে গিয়ে ‘ক্রিয়েট ইমেজ’ নির্বাচন করতে হবে।
স্টিকার অপশন নির্বাচন
‘ক্রিয়েট ইমেজ’ অপশনে প্রবেশ করার পর প্রথমে ‘স্টিকার’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘ফটো’ অপশনে ক্লিক করে ফোনের গ্যালারি থেকে পছন্দের ছবিটি বেছে নিতে হবে। এই পর্যায়ে আগে কপি করা প্রম্পটটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
ছবি থেকে স্টিকার তৈরি
ছবি নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পর ‘জেনারেট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই এআইয়ের সহায়তায় নির্বাচিত ছবি থেকে স্টিকার তৈরি হয়ে যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করার নিয়ম
স্টিকার তৈরি হয়ে গেলে ছবির ওপরে থাকা ‘অ্যাড টু চ্যাট অ্যাপস’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ‘অ্যাড টু হোয়াটসঅ্যাপ’ নির্বাচন করে ‘অ্যাড টু ইয়োর স্টিকারস’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই স্টিকারটি হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে যাবে।
সবশেষে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে যেকোনো একটি চ্যাটে প্রবেশ করতে হবে। চ্যাট বক্সের পাশে থাকা স্টিকার আইকনে ক্লিক করলে তৈরি করা স্টিকারটি পাওয়া যাবে। এরপর বন্ধু কিংবা পরিচিতজনদের সঙ্গে কথোপকথনে সহজেই ব্যবহার করা যাবে নিজের ছবি দিয়ে তৈরি স্টিকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসময় মানুষের প্রিয়জনের সঙ্গে দূরবর্তী যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, খামের ভাঁজে লুকিয়ে থাকত প্রিয় মানুষের হাতের লেখা অজানা অনেক কথা। চিঠি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষায় অনুভূতি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে বর্তমানে সময়ের পরিবর্তন ঘটেছে, মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বার্তা। কিন্তু হারিয়ে গেছে সন্তানের থেকে মায়ের, প্রেমিক থেকে প্রেমিকার চিঠি পাওয়ার সেই চিরচেনা অপেক্ষা।
হারিয়ে যাওয়া এই সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী চিঠি উৎসব ও স্টাম্প প্রদর্শনী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে দিনব্যাপী এমন একটি ব্যতিক্রমি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা চিঠি বিনামূল্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কলম হাতে নিয়ে কেউ চিঠি লিখছেন মাকে, কেউ প্রিয়জনকে, কেউবা প্রাক্তনকে, প্রকাশ করেছেন মনের গোপন অনুভূতি।
চিঠি উৎসবে এসে সময়ের চাকায় পেছনে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিমা ইসলাম। মাকে চিঠি লিখতে গিয়ে তার মনে হয়েছে, তিনি ফিরে গেছেন নব্বইয়ের দশকে। সেই সময়ে প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় থাকতে হত মানুষকে, আর একটি চিঠি হাতে পেলেই আনন্দে মন ভরে উঠত।
ফাহিমা বলেন, "বর্তমানে আমরা আধুনিক যুগে বাস করছি, যেখানে চিঠি লেখার প্রচলন প্রায় হারিয়ে গেছে। আজকের আয়োজনে মাকে চিঠি লিখে মনে হচ্ছে, যেন নব্বইয়ের দশকে ফিরে গেছি। আগের দিনে মানুষ চিঠি লিখত, প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় থাকত এবং আবেগঘন মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিত। আজ চিঠি লিখে মায়ের সঙ্গে সেই সময়ের আবেগ অনুভব করতে পারছি।"
তিনি আরও বলেন, "কেউ বাবা-মাকে, কেউবা প্রিয়জনকে চিঠি লিখছেন। সব মিলিয়ে এটি একটি সুন্দর মুহূর্ত। আমি মনে করি, এই সংস্কৃতি ফিরে আসা উচিত। অন্তত এ ধরনের দিবস উপলক্ষে হলেও চিঠি লেখার প্রচলন ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।"
শুধু স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া নয়, চিঠি উৎসব অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে মনের অব্যক্ত কথাগুলো প্রকাশের উপলক্ষ। মুখে বলা হয়ে ওঠেনি, এমন অনেক অনুভূতিই জায়গা করে নিচ্ছে কাগজের পাতায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুস সবুরের কাছে চিঠি লেখা তেমনই এক অনুভূতির প্রকাশ।
আব্দুস সবুর বলেন, "চিঠি লিখতে পেরে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারছি, যা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। চিঠি লেখার সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য। প্রিয়জন বা মনের মানুষের কাছে চিরকুট লিখে অনুভূতি প্রকাশের আলাদা আনন্দ রয়েছে। তাই চিঠি লেখার সংস্কৃতি আমাদের ধরে রাখা উচিত।"
শিক্ষার্থীদের এমন আবেগ ও আগ্রহের মধ্য দিয়ে চিঠি উৎসব যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তির দ্রুতগতির যোগাযোগের বাইরেও অনুভূতি প্রকাশের নিজস্ব একটি জগৎ রয়েছে। যেখানে একটি চিঠি শুধু কয়েকটি বাক্যের সমষ্টি নয়; বরং তা হয়ে উঠতে পারে স্মৃতি, ভালোবাসা, অপেক্ষা আর না-বলা কথার একান্ত আশ্রয়।
আয়োজনটির উদ্দেশ্যও মূলত নতুন প্রজন্মকে সেই অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল আল মাহমুদ বলেন, "একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ডাকবিভাগ। সময়ের পরিবর্তনে চিঠি লেখার জায়গা দখল করে নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। চিঠি পাওয়া, খুলে পড়া, জমিয়ে রাখা এবং মাঝেমধ্যে আবার পড়ার যে আনন্দ, তা এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।"
তিনি বলেন, "আমরা চাই, মানুষ আবার সেই আনন্দ ও আবেগের জায়গায় ফিরে আসুক। চিঠি লেখার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতেই আমাদের এ আয়োজন। আজ শিক্ষার্থীরা আসছেন, ঘুরছেন ও চিঠি লিখছেন। ডাকবিভাগ চিঠিগুলো সংগ্রহ করে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেবে। যারা চিঠি লিখতে চান, তারা বিনামূল্যে প্রিয়জন বা পছন্দের মানুষের কাছে চিঠি পাঠাতে পারবেন।"
আল মাহমুদ মনে করেন, বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মুঠোফোনেই এখন মানুষ সহজে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছে। এতে চিঠি লেখার প্রয়োজনীয়তা কমে গেলেও এর আবেগময় দিকটি নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা রয়ে গেছে। সেই আনন্দের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
চিঠি উৎসবের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে ডাকটিকিট প্রদর্শনী। সেখানে বাংলাদেশের ডাকটিকিটের ইতিহাস, ডাকবিভাগের চিঠি প্রকাশের ইতিহাস এবং সংগৃহীত চিঠির ঐতিহাসিক নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনী ঘুরে শিক্ষার্থীরা ডাকটিকিট ও চিঠির ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজন সম্পর্কে রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল বলেন, "এ ছাড়া ডাকটিকিট প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ডাকটিকিটের ইতিহাস জানার সুযোগ রয়েছে। এখানে ডাকবিভাগের চিঠি প্রকাশের ইতিহাস ও সংগৃহীত চিঠির ঐতিহাসিক নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রদর্শনী ঘুরে ডাকটিকিট ও চিঠির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।"
বর্তমানে চিঠির ব্যবহার কমে এলেও মানুষের অনুভূতি প্রকাশের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি উৎসব নব্বই দশকে চিঠি লেখার সেই অনুভূতিকেই নতুন করে সামনে এনেছে। কাগজ-কলমে লেখা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা খুঁজছেন পুরোনো দিনের স্মৃতি। হয়তো চিঠি পৌঁছাতে ডিজিটাল বার্তার চেয়ে বেশি সময় লাগবে, কিন্তু চিঠির প্রতিটি শব্দে থেকে যাবে লেখকের আন্তরিকতা আর ভালোবাসার ছাপ। চিঠি উৎসবটি যেন হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ তৈরির কাজের মানের অসংগতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মানহীন কাজ বন্ধ রাখতে হবে এবং দক্ষ জনবল দিয়ে কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার ক্যারেজ শপে কোচ তৈরির কার্যক্রমে অসংগতি দেখে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "আপনারা কাজের তদারকি করেন না, কাজ বুঝেও নেন না। এমনকি ভালো কাজও দেখেন না। নিজেরাও বোঝেন না বলেই এমন অবহেলা। দক্ষ জনশক্তি দিয়ে মান নিশ্চিত করে কাজ করতে পারলে করেন নয়তো সব কাজ বন্ধ রাখেন।"
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ও রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেন, এডিজি মহিউদ্দিন, জিএম আহমেদ মাসুম।
মন্ত্রী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পৌঁছালে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ ও কর্ম ব্যবস্থাপক (ডাব্লু এম) মমতাজুল ইসলাম।
এ সময় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সেক্রেটারি শাহীন আকতার শাহীনসহ অন্যান্য নেতা, রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ক্যারেজ শপ, ওয়াগন শপ, মেশিন টুল সপ, সিএন্ডএইচ সপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে ক্যারেজ শপে রেলওয়ে কোচ তৈরির ক্ষেত্রে জানালার ফিনিশিং ও ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়ে তিনি সংক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, "এইসবের মান আরও বৃদ্ধি করতে হবে এবং এগুলো চলবে না। এর চেয়ে বাসাবাড়ির কাজও অনেক ভালো। আপনাদের চোখ নাই, আর থাকলেও তদারকির অভাব। একারণেই এমন হচ্ছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া হবে না।"
পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টার দিকে ডিএস কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময় করেন এবং সর্বশেষে প্রধান ফটকের সামনে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে ব্রিফিং করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, "এই কারখানা অত্যন্ত প্রাচীন এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে কারখানার উদপানক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় কাজের মানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসংগতি তৈরি হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "অথচ আমাদের সক্ষমতা অনেক ভালো। কিন্তু সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ইচ্ছে ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব আছে। আমরা চাই এসব দুর্বলতা দূর করে কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে রেলওয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করাসহ সার্বিক উন্নতি করা। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে চায় সরকার। আর সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করতেই এই সফর।"
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুরে জনবল সংকট দূর করা হবে। আবাসন সংকট নেই। তবে বাংলো ও কোয়ার্টারগুলো অনেক পুরাতন হয়ে পড়ায় তা সংস্কার প্রয়োজন। আর রেলওয়ের ৯টি হাসপাতালই বেশ খারাপ অবস্থায় আছে। এগুলোর ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা পার্বতীপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ